মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৪৬৬২
নামাযের অধ্যায়
(৩) পরিচ্ছেদঃ সাধারণভাবে নামাযের ফযীলত সম্বন্ধে আগত হাদীসসমূহ
(২৪) তাঁর থেকে আরও বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতের চাবি হলো নামায। আর নামাযের চাবি হলো পবিত্রতা।
كتاب الصلاة
(3) باب ما جاء فى فضل الصلاة مطلقًا
(24) وعنه أيضًا قال قال رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم مفتاح الجنَّة
الصَّلاة، ومفتاح الصَّلاة الطُّهور

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(تخريجه) (طب. بز. هب. ومذ) وفى إسناده أبو يحيى القتات ضعفه بعضهم، وقال ابن عدي أحاديثه عندى حسان (وفى الباب) عن على عند الأربعة الا النسائى بلفظ (مفتاح الصلاة الطهور وتحريمها التكبير وتحليلها التسليم) قال الترمذى هذا أصح شئ فى هذا الباب وأحسن، وقال ابن العربى حديث جابر يعنى حديث الباب أصح شئ فى هذا الباب، وقال الحافظ إسناد حديث جابر حسن

[তাবারানী, বাযযার, বাইহাকী ও তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত। এ হাদীসের সনদের আবূ ইয়াহ্ইয়া আল কাত্তাতকে কেউ কেউ দুর্বল রাবী বলে মন্তব্য করলেও ইবনুল আরাবী ও ইবন হাজর হাদীসের সনদ হাসান বলে মন্তব্য করেছেন।]......

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এই হাদীস তাহারাত অর্থাৎ উযূকে সালাতের দাবি বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এ যেন তালার চাবি সদৃশ যা খোলা ব্যতীত ভেতরে প্রবেশ করা যায় না। অনুরূপভাবে উযূ ছাড়া সালাত শুরু করা যায় না। হাদীসে একথা বলা হয়েছে যে, সালাত গ্রহণযোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে উযূ অপরিহার্য শর্ত। সালাত আল্লাহর মহান দরবারের দিকে পূর্ণ মনোনিবেশ, সম্বোধন ও মুনাজাত করার শ্রেষ্ঠ ও চূড়ান্ত পদ্ধতি। এ দুনিয়ায় এর চাইতে উত্তম কিছু পাওয়া যেতে পারে না। এ হক আদায়ের শ্রেষ্ঠতম পন্থা ছিল, প্রত্যেক সালাত শুরুর পূর্বে দেহ পরিচ্ছন্ন করার লক্ষ্যে গোসল করার এবং পরিচ্ছন্ন পোশাক-পরিচ্ছেদ পরার বিশেষ নির্দেশ দান। কিন্তু এ কাজ যেহেতু সর্বদা আঞ্জাম দেওয়া কষ্টকর তাই আল্লাহ্ তা'আলা সালাতের জন্য কেবল পরিচ্ছন্ন কাপড়-চোপড় এবং গোসল করার পরিবর্তে উযূ করাকে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কারণ উযূর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেহের গুরুত্বপূর্ণ স্থান জুড়ে আছে। এ বিবেচনায় উযূ করাকে সারা দেহ পরিচ্ছিন্ন করার স্থলাভিষিক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। হাত, পা, চেহারাও অন্যান্য যে সব অঙ্গ সাধারণত পোশাকের বাইরে থাকে তার কোনটি ধৌত করার এবং কোনটি মাসেহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য কথায় উযূবিহীন অবস্থায় যেন মানব স্বভাবে আত্মিক অপবিত্রতা অনুভূত হয় এবং উযূ করার ফলে মানবআত্মা এক বিশেষ পবিত্র অবস্থা ও অন্তরে জ্যোতি অনুভব করে। এ অনুভূতি আল্লাহর যে সকল বান্দার রয়েছে তাঁরা ভাল করেই জানে, সালাতের জন্য উযূ অপরিহার্য শর্ত স্থির করার মূলে কী রহস্য নিহিত। আমাদের ন্যায় সাধারণ মানুষ কমপক্ষে এতটুকু অনুভব করে যে, আল্লাহর মহান দরবারে উপস্থিতি পেশ করার ক্ষেত্রে এতটুকু শিষ্টাচার রক্ষা করা উচিত। যে ব্যক্তি আল্লাহর দরবারে উপস্থিতির লক্ষ্যে উযূ করবে সেও তার অন্তরে উযূর এক বিশেষ স্বাদ ও জ্যোতি অনুভব করবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান