মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৩. তাক্বদীরের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৪৪৪
তাক্বদীরের অধ্যায়
অনুচ্ছেদঃ তাকদীরে সন্তুষ্টি ও এর ফযীলত প্রসঙ্গে।
(১৪) সা'দ ইবন্ আবী ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহর নিকট 'ইস্তিখারা করা (ভাল চাওয়া) করা বনী আদমের জন্য কল্যাণকর এবং আল্লাহর কদরে (ভাগ্যলিপি) সন্তুষ্ট থাকা আদম সন্তানের জন্য কল্যাণকর। (অপরদিকে) আল্লাহর নিকট ‘ইস্তিখারা করা পরিত্যাগ করা তার জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহর নির্ধারিত বন্দরে অসন্তুষ্ট থাকায় তার অকল্যাণ। (তিরমিযী, হাকিম হাদীসটি উত্তম সনদে বর্ণিত।)
كتاب القدر
فصل آخر في الرضا بالقضاء وفضله
(14) عن سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من سعادة ابن آدم استخارته الله 3 ومن سعادة ابن آدم رضاه بما قضاه
الله ومن شقوة ابن آدم تركه استخارة الله، ومن شقوة ابن آدم سخطه بما قضاه الله عز وجل

হাদীসের ব্যাখ্যা:

বান্দার জ্ঞান সীমিত ও সীমাবদ্ধ। ক্ষুদ্র জ্ঞানের দ্বারা অসীম শক্তির অধিকারী আল্লাহর তামাম ফয়সালার গুরুত্ব অনুধাবন করা বান্দার পক্ষে সম্ভব নয়। বিশেষ পরিস্থিতি ও পরিবেশে বান্দা যে জিনিসকে নিজের জন্য মঙ্গলজনক মনে করে, পরিস্থিতি ও পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে সে জিনিস তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ভবিষ্যতের জ্ঞান না থাকার কারণে মানুষ তা উপলব্ধি করতে পারে না। তাই আল্লাহর তামাম ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকা মহা সৌভাগ্য এবং তাঁর ফয়সালার উপর বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট হওয়া বান্দার চরম দুর্ভাগ্য। কুরআন শরীফে বলা হয়েছে।
عَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
"হতে পারে তোমরা যা অপসন্দ কর, তা তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক এবং (এমনও) হতে পারে তোমরা যা পসন্দ কর, তা তোমাদের জন্য অমঙ্গলজনক। (বস্তুত তার রহস্য) আল্লাহ জানেন এবং তোমরা তা জান না।"

অনুরূপভাবে ইস্তেখারা না করা, মঙ্গলজনক কাজ বান্দার জন্য পসন্দ করা বা মঞ্জুর করার দু'আ আল্লাহর কাছে না করা বান্দার দুর্ভাগ্য ছাড়া অন্য কিছু নয়। কোন কাজের প্রারম্ভে বান্দা যখন সাহায্য প্রার্থন্য করে, তখন আল্লাহ তাঁর বান্দাকে দু'ভাবে সাহায্য করেন। যদি প্রার্থিত জিনিস বান্দার জন্য মঙ্গলজনক হয়, তাহলে আল্লাহ তাতে খায়ের ও বরকত নাযিল করেন, উপায়-উপকরণ বান্দার জন্য সহজলভ্য করে দেন এবং বান্দা সহজে তার আকাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভ করে। যদি আকাঙ্ক্ষিত জিনিস বান্দার জন্য অকল্যাণকর হয়, তাহলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন না, উপায়, উপকরণ বান্দার নিকট কঠিন বিবেচিত হয়, বান্দা ধীরে ধীরে নিজের ইচ্ছার পরিবর্তন করে এবং আল্লাহ এভাবে তাকে ব্যর্থতা ও অমঙ্গল থেকে রক্ষা করেন। তাই যে ব্যক্তি ইস্তেখারার আশ্রয় গ্রহণ করে না, সে চরম দুর্ভাগ্যবান। আলোচ্য হাদীসে এ কথার প্রতিই ইংগিত করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান