রিয়াযুস সালিহীন-ইমাম নববী রহঃ

৯. ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা

হাদীস নং: ১০১৯
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
কুরআন মাজীদের শ্রেষ্ঠতম আয়াত
১০১৯. হযরত উবাঈ ইবন কা'ব রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবূল মুনযির। তুমি কি জান তোমার সঙ্গে আল্লাহর যে কিতাব আছে তার শ্রেষ্ঠতম আয়াত কোনটি? আমি বললাম- اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ তিনি আমার বুকে চাপড় মেরে বললেন, হে আবূল মুনযির। ইলম তোমার জন্য উপভোগ্য হোক। -মুসলিম। (সহীহ মুসলিম: ৮১০; সুনানে আবূ দাউদ: ১৪৬০; মুসনাদে আহমাদ: ২০৫৮৮: মুসনাদে আবূ দাউদ তয়ালিসী: ৫৫২; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ৬০০১: তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর : ৫২৬: হাকিম, আল মুসতাদরাক: ৫৩২৬; বায়হাকী, শু'আবূল ঈমান ২১৬৯, বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১১৯৫)
كتاب الفضائل
باب الحث عَلَى سور وآيات مخصوصة
1019 - وعن أُبَيِّ بنِ كَعبٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم: «يَا أَبَا الْمُنْذِرِ، أَتَدْري أيُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ الله مَعَكَ أعْظَمُ؟» قُلْتُ: {اللهُ لاَ إلَهَ إِلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ} فَضَرَبَ فِي صَدْرِي، وقال: «لِيَهْنِكَ العِلْمُ أَبَا الْمُنْذِرِ». رواه مسلم. (1)

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):


__________
(1) أخرجه: مسلم 2/ 199 (810) (258).

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত উবাঈ ইবন কা'ব রাযি. একজন বিশিষ্ট সাহাবী এবং কুরআন মাজীদের বিশিষ্ট হাফেজ ও কারী। তাঁর উপনাম ছিল আবূল মুনযির। তৎকালীন আরবে কোনও ব্যক্তিকে সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে তার মূল নামের পরিবর্তে উপনামে সম্বোধন করার। ব্যাপক রেওয়াজ ছিল। এখনও এ রেওয়াজ আরব-অনারব সব দেশেই আছে। আলোচ্য হাদীছে দেখা যাচ্ছে, হযরত উবাঈ ইবন কা'ব রাযি.-কে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উপনামেই সম্বোধন করেছেন। বলেছেন-

يَا أَبَا الْمُنْذِرِ أَتَدْرِي أَيُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ مَعَك أعظم؟ ( হে আবুল মুনযির! তুমি কি জান তোমার সঙ্গে আল্লাহর যে কিতাব আছে তার শ্রেষ্ঠতম আয়াত কোনটি)!
সুতরাং এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ হতে তাঁর প্রতি এক বিশেষ সম্মান প্রদর্শন।

'তোমার সঙ্গে আল্লাহর যে কিতাব আছে' এ কথার দ্বারা ইশারা পাওয়া যায় যে, হযরত উবাঈ রাযি. কুরআন মাজীদের হাফেজ ছিলেন। ছিলেন একজন জ্ঞানী যক্তিও। সে কারণেই তাঁকে এ প্রশ্ন করা হয়েছে।

প্রশ্নটি দ্বারা বোঝা যায় আল্লাহ তা'আলার কালাম হিসেবে কুরআন মাজীদের প্রত্যেকটি আয়াতের অতি উচ্চমর্যাদা ও ফযীলত থাকলেও বিশেষ বিশেষ দৃষ্টিতে কোনও কোনও আয়াত অন্যান্য আয়াতের তুলনায় স্বতন্ত্র মর্যাদা রাখে। তার মধ্যে একটি আয়াত মর্যাদায় কুরআন মাজীদের অন্য সকল আয়াতের উপরে। সে আয়াত কোনটি, এ প্রশ্নই হযরত উবাঈ ইবন কা'ব রাযি.-কে করা হয়েছে। উত্তরে হযরত উবাঈ রাযি. বললেন - اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ

মুসলিম শরীফের বর্ণনায় আছে, প্রথমে হযরত উবাঈ রাযি. বলেছিলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন। অর্থাৎ আমার জানা নেই যে, কুরআন মাজীদের কোন হয়াতটি সর্বশ্রেষ্ঠ। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পুনরায় একই ত্ব করেন। এতে তাঁর অন্তরে বিষয়টার প্রতি গভীর আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তিনি বুঝতে গরেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাচ্ছেন তিনি চিন্তাভাবনা করে আপন বুঝমতো কিছু বলুন। খুবসম্ভব তিনি মনে মনে আল্লাহ তা'আলার দিকে রুজু করেন। ফলে আল্লাহ তা'আলা সরাসরি তাঁর অন্তরে বিষয়টির জ্ঞান দিয়ে দেন। তিনি বুঝতে পারেন যে, আয়াতুল কুরসীই সম্ভবত সেই আয়াত, যা কুরআন মাজীদের অন্যসব আয়াতের উপর আলাদা মর্যাদা রাখে। সুতরাং তিনি উত্তর দিলেন যে, সে আয়াতটি হলো আয়াতুল কুরসী।

উত্তর সঠিক হওয়ায় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব খুশি হন। তিনি বুঝতে পারেন যে, কুরআন মাজীদ সম্পর্কে উবাঈ ইবন কা'ব রাযি.-এর জ্ঞান বেশ গভীর। তিনি তাঁর সে খুশির বহিঃপ্রকাশস্বরূপ হযরত উবাঈ রাযি.-এর বুকে চাপড় মারেন। সেইসঙ্গে দু'আ করেন-

لِيَهْنِكَ الْعِلْمُ أَنَا الْمُنْذِرِ (হে আবূল মুনযির। ইলম তোমার জন্য উপভোগ্য হোক)।

এর যারা এক তো তাঁর জন্য দু'আ করা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা তোমার জন্য আজমের দুয়ার খুলে দিন। তোমার জন্য জ্ঞানাহরণ সহজ করে দিন। তিনি জ্ঞানকে তোমার জন্য উপভোগ্য করুন, যাতে জ্ঞান অর্জনের প্রতি তোমার উৎসাহ অব্যাহত থাকে এবং তুমি অতি সহজে অধিকতর জ্ঞান অর্জনে সক্ষম হও। দ্বিতীয়ত পরোক্ষভাবে এটা তাঁর জ্ঞানগত যোগ্যতার প্রশংসা ও স্বীকৃতিও বটে।

বোঝা গেল আয়াতুল কুরসী সাধারণভাবে কুরআন মাজীদের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত। এর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য কর্তব্য আয়াতটির তরজমা ও মর্মবাণীতে দৃষ্টিপাত করা। সে লক্ষ্যে আমরা এখানে আয়াতটির বঙ্গানুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা পেশ করছি।

আয়াতুল কুরসী, অর্থ ও ব্যাখ্যা
اَللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ اَلۡحَیُّ الۡقَیُّوۡمُ لَا تَاۡخُذُہٗ سِنَۃٌ وَّلَا نَوۡمٌ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یَشۡفَعُ عِنۡدَہٗۤ اِلَّا بِاِذۡنِہٖ یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمَا خَلۡفَہُمۡ وَلَا یُحِیۡطُوۡنَ بِشَیۡءٍ مِّنۡ عِلۡمِہٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ وَسِعَ کُرۡسِیُّہُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَلَا یَـُٔوۡدُہٗ حِفۡظُہُمَا وَہُوَ الۡعَلِیُّ الۡعَظِیۡمُ

অর্থ: আল্লাহ তিনি, যিনি ছাড়া কোনও মাবুদ নেই, যিনি জীবন্ত, (সমগ্র সৃষ্টির) নিয়ন্ত্রক, যাঁর কখনও তন্দ্রা পায় না এবং নিদ্রাও নয়। আকাশমণ্ডলে যা-কিছু আছে (তাও) এবং পৃথিবীতে যা-কিছু আছে (তাও) সব তাঁরই। কে আছে, যে তাঁর সমীপে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে? তিনি সকল বান্দার অগ্রপশ্চাৎ সকল অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত। তারা তাঁর জ্ঞানের কোনও বিষয় নিজ আয়ত্তে নিতে পারে না- কেবল সেই বিষয় ছাড়া, যা তিনি নিজে ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসী আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। আর এ দু'টোর তত্ত্বাবধান করতে তাঁর বিন্দুমাত্র কষ্ট হয় না এবং তিনি অতি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও মহিমময়।

ব্যাখ্যা
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ আল্লাহ তিনি, যিনি ছাড়া কোনও মাবুদ নেই, যিনি জীবন্ত, (সমগ্র সৃষ্টির) নিয়ন্ত্রক'। এখানে সর্বপ্রথম মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার সত্তাবাচক নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর সত্তাবাচক নাম হলো আল্লাহ। এটি এমন এক নাম, যা কেবল তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট। এ নাম তাঁর যাবতীয় গুণের ধারক। মুমিন-মুসলিমগণ তাঁকে এ নামেই ডাকে। সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় এ নামেই তাঁকে স্মরণ করে। এ নাম তাদের দুঃখ নিবারক। এ নাম তাদের প্রাণশক্তি। এ নামকে কেন্দ্র করেই তাদের জীবন ও মরণ।

আয়াতে তাঁর এ সত্তাবাচক নাম উল্লেখ করে ঘোষণা করা হয়েছে যে, তিনি ছাড়া কোনও মাবুদ নেই। ইবাদত-বন্দেগীর উপযুক্ত কেবল তিনিই। মানুষ অন্য যাদের পূজা-অর্চনা করে, তারা সব মিথ্যা ও ভ্রান্ত উপাস্য। উপাস্য হওয়ার জন্য যা-কিছু অপরিহার্য গুণ, তা অন্য কারও নেই; আছে কেবল আল্লাহ তা'আলারই। কী সেই অপরিহার্য গুণাবলি, তা এ আয়াতে এক এক করে উল্লেখ করা হয়েছে। আয়াতের এ অংশে তাঁর দু'টি গুণবাচক নাম বর্ণিত হয়েছে। তার একটি হলো الْحَيُّ (জীবন্ত), দ্বিতীয়টি الْقَيُّومُ '(সমগ্র সৃষ্টির) নিয়ন্ত্রক'।

الْحَيُّ হলো এমন সত্তা, যাঁর হায়াত ও জীবন পরিপূর্ণ। অর্থাৎ যিনি অনাদিকাল থেকে আছেন, অনন্তকাল থাকবেন। তিনি নাস্তি থেকে অস্তিলাভ করেছেন এমন নয়। এবং এমনও নয় যে, কোনও একদিন তাঁর হায়াত ফুরিয়ে যাবে ও তাঁর সত্তায় নাস্তি দেখা দেবে। তাঁর হায়াত ও জীবন অন্য কারও থেকে প্রাপ্ত নয়। বাকি সকলেরই হায়াত কেবল তাঁরই দান। একমাত্র তিনিই সেই সত্তা, যাঁর কোনও মৃত্যু নেই। তিনি ছাড়া আর যা-কিছু আছে, সকলকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।

তাঁর হায়াত ও জীবন যেহেতু পরিপূর্ণ, তাই হায়াত সংশ্লিষ্ট যাবতীয় গুণও তাঁর মধ্যে পরিপূর্ণরূপে বিদ্যমান। সুতরাং তিনি বাকশক্তিসম্পন্ন, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সর্বজ্ঞানী ও সর্বশক্তিমান।

الْقَيُّومُ অর্থাৎ তিনি এমন সত্তা, যাঁর বিদ্যমানতা তাঁর একান্ত বৈশিষ্ট্য। এর জন্য তিনি অন্য কারও মুখাপেক্ষী নন। কিন্তু অন্য সকলেই নিজ নিজ বিদ্যমানতার জন্য তাঁর মুখাপেক্ষী। বিশ্বজগতের প্রতিটি বস্তুকে তিনিই প্রতিষ্ঠা দান করেছেন। তিনিই সকলের অস্তিত্বদাতা, তিনিই সকলের পরিচালক ও নিয়ন্ত্রক। মাখলুকের জীবনধারণের জন্য যা-কিছু প্রয়োজন, সবকিছুর ব্যবস্থাপক কেবল তিনিই। সৃজন, রিযিকদান, জীবনদান, মৃত্যুদান সবই কেবল তাঁরই হাতে। সুতরাং মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু প্রত্যেক বিষয়ে তাঁরই মুখাপেক্ষী, কিন্তু তিনি কোনও বিষয়ে কারও মুখাপেক্ষী নন।

الْحَيُّ ও القيُّومُ আল্লাহ তা'আলার এমন দু'টি গুণবাচক নাম, যা অত্যন্ত ব্যাপক। তাঁর অন্যসব গুণও এর মধ্যে এসে যায়। এ কারণেই অনেকে এ দু'টিকে 'ইসমে আজম' বলেছেন। ইসমে আজম দ্বারা দু'আ করলে তা কবুল হয়ে থাকে। এর দ্বারা আল্লাহ তাআলার কাছে কোনওকিছু চাইলে আল্লাহ তা'আলা তা দিয়ে থাকেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক সময় দু'আর শুরুতে এ নামদু'টি উচ্চারণ করতেন।

لَا تَاۡخُذُہٗ سِنَۃٌ وَّلَا نَوۡمٌ (যাঁর কখনও তন্দ্রা পায় না এবং নিদ্রাও নয়)। এটা উপরে বাতি গুণবাচক নামদু'টির সম্পূরক। যাঁর হায়াত পরিপূর্ণ এবং যিনি নিজ বিদ্যমানতার জন্য অন্য কারও মুখাপেক্ষী নন; বরং এ বিষয়ে সকলেই যাঁর মুখাপেক্ষী, তাঁর যেমন মৃত্যু আসতে পারে না, তেমনি তাঁর ঘুম ও তন্দ্রাও দেখা দিতে পারে না। ঘুম তো

মৃত্যুরই ভাই। মৃত্যু যেমন মাখলুকের বৈশিষ্ট্য, ঘুম ও তন্দ্রাও সেরকমই। ঘুম ও তন্দ্রও একপ্রকার কমতি ও ত্রুটি। এটা দুর্বলতার প্রকাশ। এটা যখন দেখা দেয়, তখন স্রষ্টা, তাঁর মধ্যে এসব কিছুতেই দেখা দিতে পারে না। তিনি সদা জাগ্রত সত্তা। এক উদাসীনতা ও বিস্মৃতিও দেখা দেয়। দেখা দেয় নির্লিপ্ততা। যিনি মহাবিশ্বের সবকিছুর মুহর্তের জন্যও তিনি তাঁর কোনও মাখলুক সম্পর্কে বেখবর থাকেন না। মহাবিশ্বের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় তাঁর দ্বারা কখনও কণামাত্র ত্রুটিও দেখা দেয় না।

আল্লাহ তা'আলার মালিকানা ও কর্তৃত্ব
لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ 'আকাশমণ্ডলে যা-কিছু আছে (তাও) এবং পৃথিবীতে যা-কিছু আছে (তাও) সব তাঁরই'। অর্থাৎ মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুতে তাঁর পরিপূর্ণ মালিকানা ও পরিপূর্ণ কর্তৃত্ব রয়েছে। এতে অন্য কারও কণামাত্র অংশীদারত্ব নেই। তিনিই নিজ ইচ্ছা, জ্ঞান ও হিকমত অনুযায়ী এ মহাজগৎ পরিচালনা করে থাকেন। এতে তাঁর অন্য কারও সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। বরং অন্য সকলেরই আপন আপন জরুরত পূরণে তাঁর সাহায্যের দরকার হয়।

مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یَشۡفَعُ عِنۡدَہٗۤ اِلَّا بِاِذۡنِہٖ (ক আছে, যে তাঁর সমীপে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে)? অর্থাৎ এমন কেউ নেই যে, নিজ অধিকারবলে তাঁর কাছে কারও জন্য সুপারিশ করবে। না নিকটবর্তী কোনও ফিরিশতা, না কোনও নবী-রাসূল। কেননা সকলেই তাঁর সৃষ্টি ও তাঁর মালিকানাধীন। তাই তাঁর উপর কারও কোনওরূপ কর্তৃত্ব, ক্ষমতা ও অধিকার প্রয়োগের প্রশ্ন আসে না। বরং সকলের উপর রয়েছে তাঁর পরিপূর্ণ কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা। তিনি যে-কারও উপর যখন ইচ্ছা সে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। তিনি মহাপ্রতাপান্বিত সত্তা। তাঁর রহমত ও করুণা যেমন অসীম, তেমনি তাঁর ক্রোধ ও গজবও অপরিমিত। তাঁর পরিচয় যাদের জানা আছে, তাদের প্রত্যেকে সদা তাঁর ভয়ে ভীত ও কম্পমান থাকে। তাই তাঁর অনুমতি ছাড়া কারও সুপারিশ করার হিম্মতই হবে না। ইরশাদ হয়েছে-

یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمَا خَلۡفَہُمۡ وَلَا یُحِیۡطُوۡنَ بِشَیۡءٍ مِّنۡ عِلۡمِہٖۤ اِلَّا بِمَا شَآء 'তিনি তাদের সম্মুখ ও পেছনের সবকিছু জানেন। তারা কারও জন্য সুপারিশ করতে পারে না, কেবল তাদের ছাড়া, যাদের জন্য আল্লাহর পছন্দ হয়। তারা তাঁর ভয়ে থাকে ভীত। (সূরা আম্বিয়া, আয়াত ২৮)

হাঁ, তিনি যদি কাউকে কারও পক্ষে সুপারিশ করার অনুমতি দেন, তবে সে সুপারিশ করতে পারবে। আর এটা হবে সেই সুপারিশকারীর জন্য আল্লাহপ্রদত্ত বিশেষ সম্মান।

আল্লাহ তা'আলার জ্ঞান
يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ (তিনি সকল বান্দার অগ্র-পাশ্চাত সকল অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত)। অর্থাৎ তিনি সর্বজ্ঞানী। তাঁর জ্ঞান মহাবিশ্বের সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, প্রত্যেকের যাবতীয় অবস্থা জানেন। প্রত্যেকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি সম্যক জ্ঞাত। জানেন প্রত্যেকের দুনিয়ার অবস্থা ও আখিরাতের পরিণাম। কারও কোনওকিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়। তাঁর কাছে কারও প্রকাশ্য ও গোপন বলতে কিছু নেই। সবই তাঁর কাছে সমান প্রকাশ। যা-কিছু রাতের অন্ধকারে ঘটে, যা ঘটে মাটির গর্ভে বা সমুদ্রের তলদেশে, সবই তাঁর কাছে ভূপৃষ্ঠে দিবালোকে ঘটা বিষয়ের মতো পরিষ্কার। তিনি তাঁর বড় বড় মাখলুক সম্পর্কে যেমন জানেন, তেমনি জানেন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সৃষ্টিরও প্রতিটি গতি ও স্থিতি। পৃথিবীর অগণিত গাছপালার কোন পাতা কখন ঝরে কিংবা ভূপৃষ্ঠে ও ভূগর্ভে কোন শস্যদানা কী অবস্থায় আছে, তারও তিনি পরিপূর্ণ খবর রাখেন। তিনি বলেন-

وَعِنۡدَہٗ مَفَاتِحُ الۡغَیۡبِ لَا یَعۡلَمُہَاۤ اِلَّا ہُوَ وَیَعۡلَمُ مَا فِی الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ وَمَا تَسۡقُطُ مِنۡ وَّرَقَۃٍ اِلَّا یَعۡلَمُہَا وَلَا حَبَّۃٍ فِیۡ ظُلُمٰتِ الۡاَرۡضِ وَلَا رَطۡبٍ وَّلَا یَابِسٍ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ

'আর তাঁরই কাছে আছে অদৃশ্যের কুঞ্জি। তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। স্থলে ও জলে যা-কিছু আছে, সে সম্পর্কে তিনি অবহিত। (কোনও গাছের) এমন কোনও পাতা ঝরে না, যে সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত নন। মাটির অন্ধকারে কোনও শস্যদানা অথবা আর্দ্র বা শুষ্ক এমন কোনও জিনিস নেই যা এক উন্মুক্ত কিতাবে (অর্থাৎ লাওহে মাহফুজে) লিপিবদ্ধ নেই। '(সূরা আন'আম, আয়াত ৫৯)

وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ (তারা তার জ্ঞানের কোনও বিষয় নিজ আয়ত্তে নিতে পারে না- কেবল সেই বিষয় ছাড়া, যা তিনি নিজে ইচ্ছা করেন)। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার জ্ঞান অসীম অফুরন্ত। মানুষ কেবল ততটুকুই জানতে পারে, যতটুকু আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে শিক্ষা দেন। তার মানে মানুষের জ্ঞান অসীম নয় মোটেই। যে যত বড় জ্ঞানীই হোক, তার জ্ঞানের অবশ্যই একটা সীমা আছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَمَا أُوْتِيْتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا

'তোমাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে সামান্যমাত্র। (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ৭৬)

দৃশ্যজগতের জ্ঞান আহরণের জন্য আল্লাহ তা'আলা মানুষকে আকল-বুদ্ধি দিয়েছেন। মানুষের সে আকল-বুদ্ধিও সীমিত। তাই মানুষ তার বুদ্ধি খাটিয়ে অনেক কিছুই জেনেছে এবং নিত্য-নতুন বিষয়ে জ্ঞান আহরণ অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দৃশ্যজগতেরও সে যতটুকু জেনেছে তার বাইরে অজানার পরিধি অনেক অনেক বড়। অপরদিকে অদৃশ্যজগৎ সম্পর্কে মানুষ তার বুদ্ধি দ্বারা কিছুই জানতে পারে না। সে জগতের যতটুকু তার জানা দরকার, ততটুকু আল্লাহ তা'আলা ওহীর মাধ্যমে তাদেরকে জানিয়েছেন। যেমন কবরের অবস্থা, ফিরিশতা ও ফিরিশতাদের কার্যক্রম, মৃত্যুর পর পুনর্জীবন, হাশরের ময়দানে হিসাব-নিকাশ, জাহান্নামের আযাব ও জান্নাতের নি'আমত ইত্যাদি বিষয়ে একটা পর্যায়ের জ্ঞান ওহী তথা কুরআন-হাদীছের মাধ্যমে মানুষ জানতে পেরেছে। সে জানাটা অজানার তুলনায় নিতান্তই নগণ্য।

মোটকথা মানুষের জ্ঞান অতি সীমিত। অপরদিকে আল্লাহর জ্ঞান অনন্ত অসীম। তাই মানুষের কর্তব্য নিজ জ্ঞানের জন্য বড়াই না করে বরং আল্লাহ তা'আলার জ্ঞানের সামনে আত্মনিবেদিত থাকা, তিনি যা জানিয়েছেন তাকে চূড়ান্ত সত্য মনে করে তার মানদণ্ডে নিজ জ্ঞানের সত্যাসত্য নির্ণয় করা।

আরশ ও কুরসী, কী ও কেন
وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاتِ وَالْأَرْضَ (তাঁর কুরসী আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে)। কুরসী অর্থ আসন, চেয়ার, সিংহাসন। এটা আল্লাহ তা'আলার এক বিশাল সৃষ্টি। সারা আকাশমণ্ডলী ও মহাবিশ্ব তা দ্বারা পরিবেষ্টিত, যেমনটা এ আয়াতে বলা হয়েছে। আরশ আরও বড়। হযরত আবূ যার গিফারী রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীছে আছে-

يَا أَبَا ذَرٍّ، مَا السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ فِي الْكُرْسِيِّ إِلَّا كَحَلْقَةٍ مُلْقَاةٍ فِي أَرْضِ فَلَاةٍ، وَفَضْلُ الْعَرْشِ عَلَى الْكُرْسِيِّ كَفَضْلِ الْفَلَاةِ عَلَى تِلْكَ الْحَلْقَةِ.

'হে আবূ যার! কুরসীর তুলনায় সাত আসমান মরুভূমিতে ফেলে রাখা একটি আংটির মতোই। আর কুরসীর তুলনায় আরশের বিশালতা ওই আংটির তুলনায় মরুভূমির বিশালতার মতো। (সহীহ ইবন হিব্বান ৩৬১; বায়হাকী, আল আসমা ওয়াস সিফাত: ৮৬১)

কুরআন-হাদীছে আরশ ও কুরসী দু'টোর কথাই বর্ণিত আছে। শাব্দিক অর্থ হিসেবে উভয়টি কাছাকাছি হলেও কুরআন-হাদীছের বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায় এ দু'টি আলাদা আলাদা মাখলুক। কেউ কেউ দু'টিকে এক বললেও কুরআন ও হাদীছের কর্ণনা তা সমর্থন করে না। কোনও কোনও বর্ণনায় আছে, কুরসী সাত আসমান ঘিরে রাখা এক মাখলুক, আর আরশ সেই কুরসীরও উপরে। বিভিন্ন হাদীছে আরশের খুঁটি বা পায়ারও উল্লেখ আছে। বলা হয়েছে, ফিরিশতাগণ তা বহন করে রেখেছে। আরশবাহী ফিরিশতাদের কথা কুরআন মাজীদেও আছে। যেমন ইরশাদ হয়েছে-

اَلَّذِیۡنَ یَحۡمِلُوۡنَ الۡعَرۡشَ وَمَنۡ حَوۡلَہٗ یُسَبِّحُوۡنَ بِحَمۡدِ رَبِّہِمۡ وَیُؤۡمِنُوۡنَ بِہٖ وَیَسۡتَغۡفِرُوۡنَ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا

'যারা (অর্থাৎ যে ফিরিশতাগণ) আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাঁর তাসবীহ পাঠ করে ও তাঁর প্রতি ঈমান রাখে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য মাগফিরাতের দু'আ করে। (সূরা মুমিন, আয়াত ৭)

অন্য আয়াতে আছে-

وَیَحۡمِلُ عَرۡشَ رَبِّکَ فَوۡقَہُمۡ یَوۡمَئِذٍ ثَمٰنِیَۃٌ

'এবং তোমার প্রতিপালকের আরশ সেদিন আটজন ফিরিশতা তাদের উপরে বহন করে রাখবে। (সূরা হাক্কাঃ, আয়াত ১৭)

আরশ ও কুরসীর পারস্পরিক সম্পর্ক কী? আরশ সম্পর্কে কুরআন মাজীদে আছে-

اَلرَّحۡمٰنُ عَلَی الۡعَرۡشِ اسۡتَوٰی

'তিনি অতি দয়াময়, আরশে সমাসীন হয়েছেন। (সূরা তোয়াহা, আয়াত ৫)

ইসতিওয়া (اسۡتَوٰی) আরবী শব্দ। এর অর্থ সোজা হওয়া, আয়ত্তাধীন করা, সমাসীন হওয়া ইত্যাদি। আল্লাহ তা'আলা যেহেতু শরীর ও স্থান থেকে মুক্ত ও পবিত্র, তাই তাঁর ক্ষেত্রে শব্দটি দ্বারা এরূপ অর্থ গ্রহণ সঠিক নয় যে, মানুষ যেভাবে কোনও আসনে সমাসীন হয়, তেমনিভাবে (না'উযুবিল্লাহ) আল্লাহ তা'আলাও আরশে উপবিষ্ট ও সমাসীন হন। প্রকৃতপক্ষে ইসতিওয়া বা সমাসীন হওয়া আল্লাহ তা'আলার একটি গুণ। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরামের মতে এর প্রকৃত ধরন-ধারণ আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্য কেউ জানে না। তাদের মতে এটা মুতাশাবিহাত (দ্ব্যর্থবোধক) বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত, যার খোঁড়াখুঁড়িতে লিপ্ত হওয়া ঠিক নয়। আল্লাহ তা'আলা এরূপ মুতাশাবিহ বিষয়ের অনুসন্ধানে লিপ্ত হতে নিষেধ করেছেন। তাছাড়া এর উপর কর্মগত কোনও মাসআলাও নির্ভরশীল নয়। এতটুকু বিশ্বাস রাখাই যথেষ্ট যে, আরশ আল্লাহ তা'আলার সবচে' বড় মাখলুক। মহাবিশ্ব তা দ্বারা পরিবেষ্টিত। আল্লাহ তা'আলা নিজ শান অনুযায়ী আরশে সমাসীন হয়েছেন, কিন্তু তাঁর সে সমাসীন হওয়ার স্বরূপ ও প্রকৃতি উপলব্ধি করার মতো জ্ঞান-বুদ্ধি মানুষের নেই। হাঁ, দুনিয়ার রাজা-বাদশাহগণ যে সিংহাসনে আরোহণ করেন, তা দ্বারা তাদের রাজক্ষমতা গ্রহণ ও রাজত্বের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জানান দেওয়া হয়। বোঝানো হয় যে, এখন থেকে দেশে তার শাসনই চলবে, সকলকে তারই কর্তৃত্ব মেনে চলতে হবে। তেমনি আরশ, কুরসী ও আরশে সমাসীন হওয়ার দ্বারাও প্রতীকী অর্থে বোঝানো উদ্দেশ্য যে, বিশ্বজগতের উপর আল্লাহ তা'আলার নিরঙ্কুশ আধিপত্য রয়েছে। সমস্ত মাখলুক তাঁরই শাসন ও আদেশ-নিষেধের অধীন। সকলের কর্তব্য তাঁর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রকাশ করা।
প্রকাশ থাকে যে, আরশ ও কুরসী সম্পূর্ণই ঊর্ধ্বজগতের বিষয়। ঊর্ধ্বজগৎ আমাদের দৃষ্টিশক্তি ও অনুভব-অনুভূতির ঊর্ধ্বে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সে জগতের বস্তুরাজি সম্পর্কে যতটুকু বলেছেন, আমরা কেবল অতটুকুই বুঝতে পারি, তার বেশি নয়। কুরআন ও হাদীছে আরশ ও কুরসী সম্পর্কে কেবল এতটুকুই জানানো হয়েছে যে, এ দু'টি আল্লাহ তা'আলার বিশালাকার মাখলুক। তার মধ্যে কুরসী অপেক্ষা আরশ আরও বড়। কিন্তু কোনটির আকৃতি কেমন, তা আমাদের জানানো হয়নি। আল্লাহ তা'আলার শক্তি-ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য এ দু'টির বিশালত্ব সম্পর্কে জানাই যথেষ্ট। এর বেশি জানার উপর আমাদের আকীদা-বিশ্বাস ও আমল-আখলাকের কোনও কিছুই নির্ভরশীল নয়। তাই যতটুকু জানানো হয়েছে তার উপর বিশ্বাস রেখে বাকি সব বিষয়ে খোঁড়াখুঁড়িতে লিপ্ত না হয়ে নীরবতা অবলম্বনই শ্রেয়। ব্যস আমরা কেবল বিশ্বাস করব আরশ ও কুরসী মহাবিশ্বের উপর আল্লাহ তা'আলার শাসন ও আধিপত্যের নিদর্শন, তাঁর মালিকানা ও প্রভুত্বের প্রতীক। ইরশাদ হয়েছে,

فَتَعْلَى اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ

'অতি মহিমময় আল্লাহ, যিনি প্রকৃত বাদশাহ। তিনি ছাড়া কোনও মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক। (সূরা মুমিনূন, আয়াত ১১৬)

ইমাম ইবন কাছীর রহ. বলেন, এর মানে আল্লাহ সবকিছুর মালিক ও সৃষ্টিকর্তা। কেননা তিনি মহান আরশের অধিপতি। আরশ কুল কায়েনাতের ছাদ। আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এর মধ্যবর্তী সবকিছু আরশের নিচে। সকলেই আল্লাহ তা'আলার কুদরত ও ক্ষমতার অধীন। তাঁর জ্ঞান সবকিছু জুড়ে ব্যাপ্ত। প্রতিটি বস্তুর উপর তাঁর ক্ষমতা কার্যকর হয়। তিনি প্রতিটি বস্তুর কর্মবিধায়ক।
(আর এ দু'টোর তত্ত্বাবধান করতে তাঁর বিন্দুমাত্র কষ্ট হয় না)। অর্থাৎ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এর প্রত্যেকটির মধ্যে আরও যত মাখলুক আছে, তার নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় আল্লাহ তা'আলার কোনওই কষ্ট হয় না। তাঁর পক্ষে এ কাজ অতি সহজ। তিনি কোনওকিছু ইচ্ছা করা মাত্রই হয়ে যায়। তিনি মহাবিশ্বে পিঁপড়ের মতো বা তারচে'ও ছোট মাখলুক থেকে শুরু করে বড় বড় পাহাড়, সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র ও আরশ-কুরসীর মতো বিশালাকার মাখলুক সৃষ্টি করেছেন। তা সৃষ্টি করতে যেমন তাঁর কোনও কষ্ট হয়নি, তেমনি এর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায়ও তাঁর কোনও কষ্ট হয় না। কীভাবেই বা কষ্ট হতে পারে, যখন এর সবকিছুই সীমিত, অন্যদিকে তাঁর জ্ঞান ও শক্তি অনন্ত-অসীম? অসীম জ্ঞান ও শক্তির মালিকের পক্ষে সসীম মাখলুক সংক্রান্ত কোনও কাজই কঠিন ও কষ্টসাধ্য হতে পারে না।

وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِلِيمُ (এবং তিনি অতি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও মহিমময়)। অর্থাৎ তিনি সকল দোষত্রুটির ঊর্ধ্বে। মাখলুকাতের সব সীমাবদ্ধতা ও সব বৈশিষ্ট্যের অতীত। তাঁর শক্তি ও ক্ষমতা সবকিছুর উপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁর মর্যাদা ও প্রতিপত্তির উচ্চতা কারও ধারণা-কল্পনা স্পর্শ করতে পারে না। তিনি মহিমময়। তাঁর মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্বের কোনও সীমা-পরিসীমা নেই। তাঁর সত্তা ও গুণাবলি সকল দিক থেকে পরিপূর্ণ। তিনি কোনও দিক থেকেই কারও সঙ্গে তুলনীয় নন। তিনি অসীম শক্তিমান সৃষ্টিকর্তা। তিনিই একমাত্র সত্য মাবুদ। মহাবিশ্বে যা-কিছু আছে সকলেই তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা করে। সকলেই তাঁর তাসবীহ পড়ে। মহাবিশ্বের যা-কিছু আছে সকলে একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। বাকি থাকবে কেবল তাঁর অবিনশ্বর মহামহিম সত্তা।

আল্লাহ তা'আলার পরিচয় দানে আয়াতুল কুরসীর বিশেষত্ব
আয়াতের একেকটি অংশ তাঁর একেকটি গুণ-বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা। এর ভেতর দিয়ে আল্লাহ তা'আলার পরিচয় সম্পর্কে মানুষকে একটা ধারণা দেওয়া হয়েছে- যতটুকু ধারণা মানুষের সীমিত জ্ঞান-বৃদ্ধি দ্বারা আয়ত্ত করা সম্ভব। এর দ্বারা বান্দা আল্লাহ তা'আলার সত্তা সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা লাভ করতে পারে। বান্দা বুঝতে পারে আল্লাহ তা'আলা মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও পরিচালক। তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা অসীম। সবকিছু জুড়ে তাঁর প্রভুত্ব বিদ্যমান। সকলের উপর তাঁর আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত। তিনি এক মুহূর্তের জন্যও কোনওকিছু থেকে গাফেল হন না। তিনি সদা জাগ্রত তত্ত্বাবধায়ক।

আয়াতটিতে প্রত্যক্ষভাবে তাঁর পাঁচটি নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পরোক্ষভাবে আরও কিছু গুণবাচক নামের প্রতি এর মধ্যে ইশারা পাওয়া যায়, যা বান্দার অন্তরে আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি সম্পর্কে সন্তোষজনক জ্ঞান সরবরাহ করে। আয়াতটির মর্মবাণী বান্দার অন্তরে আল্লাহ তা'আলার প্রতি যে ভক্তি-শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে, তা তাকে তাঁর প্রভুত্বের সামনে নতিস্বীকারে বাধ্য করে। ফলে সে তাঁকেই একমাত্র মাবুদরূপে মেনে নেয় এবং তাঁর আদেশ-নিষেধের সামনে পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করে।

কুরআন মাজীদের অন্য কোনও আয়াতে আল্লাহ তা'আলার এতটা বিস্তৃত পরিচয় পাওয়া যায় না। সূরা ইখলাসে আল্লাহ তা'আলার পরিচয় আছে বটে, কিন্তু তা একটি গোটা সূরা, একটিমাত্র আয়াত নয়। তদুপরি এ আয়াত যে ব্যাপক বিষয়বস্তু ধারণ করে, বাহ্যত সূরা ইখলাসে ততটা নেই। সূরা ফাতিহা ব্যাপক ভাব সংবলিত সূরা বটে, কিন্তু তা সাত আয়াতবিশিষ্ট এবং তার একক কোনও আয়াত আয়াতুল কুরসীর মতো আল্লাহ তা'আলার ব্যাপক পরিচয়বাহী নয়। এ কারণেই একক আয়াত হিসেবে আয়াতুল কুরসীকে কুরআন মাজীদের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর এ কারণেই আয়াতটির রয়েছে বিপুল ফযীলত। নিম্নে এর কিছু ফযীলত বর্ণনা করা যাচ্ছে।

ক. আয়াতুল কুরসী কুরআন মাজীদের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত। এ আয়াত পড়লে ঘর থেকে শয়তান দূর হয়ে যায়। হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

سُوْرَةُ الْبَقَرَةِ فِيهَا آيَةٌ سَيِّدةٌ أَي الْقُرْآنِ لَا تُقْرَأُ فِي بَيْتِ، فِيْهِ شَيْطَانٌ إِلَّا خَرَجَ مِنْهُ : آيَةُ الْكُرْسِي

'সূরা বাকারায় একটি আয়াত আছে, যেটি কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত এবং সেটি কোনও ঘরে পড়া হলে সে ঘর থেকে শয়তান বের হয়ে যায়। তা হলো আয়াতুল কুরসী। (মুসনাদুল হুমায়দী: ১০২৪; বায়হাকী, শু'আবূল ঈমান: ২১৭১)

আয়াতুল কুরসীতে ইসমে আজম
খ. এ আয়াতটির ভেতর ইসমে আজম রয়েছে। ইসমে আজম দ্বারা দু'আ করলে তা কবুল হয়। হযরত আসমা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

اسمُ اللّٰهِ الْأَعْظَمُ فِي هَاتَيْنِ الآيَتَيْنِ. الٓمَّٓ ۙ (١) اللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۙ  الۡحَیُّ الۡقَیُّوۡمُ ؕ (٢) آل عمران : ۱-۲ ﴿ وَاٖلٰهُكُمْ إِلهٌ وَّاحِدٌ ﴾ [البقرة: ١٦٣]

'আল্লাহর ইসমে আজম (মহান নাম) এ দুই আয়াতে আছে। এক হলো সূরা বাকারার আয়াত-
الٓمَّٓ ۙ (١) اللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۙ  الۡحَیُّ الۡقَیُّوۡمُ ؕ (٢)
আরেক হলো সূরা আলে ইমরানের আয়াত - وَاٖلٰهُكُمْ إِلهٌ وَّاحِدٌ। (বায়হাকী, শু'আবূল ঈমান ২১৬৬; তহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার ১৭৮: তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর ৭৭৯: বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১২৬০)

এ হাদীছে সূরা আলে ইমরানের আয়াতে যে ইসমে আজমের কথা বলা হয়েছে, তা হচ্ছে هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ । এ নাম আয়াতুল কুরসীতেও আছে। সুতরাং এ আয়াত পড়ে দু'আ করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। হযরত আবূ উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

اسْمُ اللَّهِ الأَعْظَمُ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ فِي سُوَرٍ ثَلاَثٍ الْبَقَرَةِ وَآلِ عِمْرَانَ وَطَهَ ‏.‏

'আল্লাহর যে ইসমে আজম দ্বারা দু'আ করলে আল্লাহ সে দু'আ কবুল করেন, তা আছে তিনটি সূরা- সূরা বাকারা, সূরা আলে ইমরান ও সূরা তোয়াহা।' (সুনানে ইবন মাজাহ ৩৮৫৬; তহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার ১৭৬; তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর: ৭৯২৫)

শয়তান থেকে আত্মরক্ষায় আয়াতুল কুরসী
গ. আয়াতুল কুরসী পড়ার দ্বারা শয়তান থেকে আত্মরক্ষা হয়। হযরত উবাঈ ইবন কা'ব রাযি. বর্ণনা করেন যে, তাদের একটি জারীন (খেজুর শুকানোর স্থান) ছিল। সেখানে কিছু খেজুর ছিল। তিনি রোজ তার দেখভাল করতেন। কিন্তু প্রতিদিনই কিছু কম পেতেন। কাজেই এক রাতে তিনি সেটি পাহারা দিলেন। হঠাৎ তিনি নওজোয়ান বেশের একটি প্রাণী দেখতে পান। তিনি বলেন, আমি সালাম দিলাম। সে সালামের উত্তর দিল। বললাম, তুমি কে? জিন না মানুষ? বলল, জিন। আমি বললাম, তোমার হাতটি আমার হাতে দাও। দেখি কি সেটি কুকুরের হাত এবং তাতে কুকুরের পশম।
আমি বললাম, জিনদেরকে এভাবেই সৃষ্টি করা হয়েছে? সে বলল, জিনেরা জানে তাদের মধ্যে আমার মতো শক্তিশালী কেউ নেই। আমি বললাম, তুমি যা করেছ এর কারণ কী? সে বলল, আমি জানতে পেরেছি আপনি দান-সদাকা পছন্দ করেন। তাই আমি ভালো মনে করলাম যে আপনার খাদ্য থেকে কিছু নিয়ে যাই। আমি বললাম, এমন কী জিনিস আছে, যা আমাদেরকে তোমাদের থেকে রক্ষা করতে পারে? সে আয়াতুল কুরসী পড়ে বলল- এ আয়াত। এরপর আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।

পরদিন ভোরবেলা হযরত উবাঈ ইবন কা'ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ ঘটনা বর্ণনা করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন - صَدَقَ الْخَبِيثُ (খবীছটা সত্য বলেছে)। (নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ১০৭৩০; সহীহ ইবন হিব্বান: ৭৮৪; তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর: ৫৪১; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ২০৬৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১১৯৮)

প্রতি ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পড়া
ঘ. এটি প্রতি ফরয নামাযের পর পড়া মুস্তাহাব। এটি পড়ার দ্বারা জান্নাত লাভ হয় এবং এটি যে ঘরে পড়া হয় সে ঘরসহ তার আশপাশের ঘরবাড়িতে আল্লাহ তা'আলা নিরাপত্তা দান করেন। হযরত আবূ উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيَ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ لَمْ يَمْنَعْهُ مِنْ دُخُولِهِ الْجَنَّةَ إِلَّا الْمَوْتُ، وَمَنْ قَرَأَهَا حِيْنَ يَأْخُذُ مَضْجَعَهُ أَمَّنَهُ اللهُ عَلَى دَارِهِ وَدَارِ جَارِهِ وَالدُّوَيْرَاتِ حَوْلَهُ.

'যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করে, তার জান্নাতে প্রবেশে মৃত্যু ছাড়া আর কোনও বাধা থাকে না। যে ব্যক্তি শয্যা গ্রহণকালে এ আয়াত পাঠ করে, আল্লাহ তা'আলা তাকে নিরাপত্তা দান করেন তার নিজের বাড়িতে, তার প্রতিবেশীর বাড়িতে এবং তার আশপাশের বাড়িসমূহে। (নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা ৯৮৪৮; তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর: ৭৫৩২; ইবনুস সুন্নী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লা ১২৪: বায়হাকী, শু'আবূল ঈমান। ২১৭৪)

হযরত আনাস রাযি. বর্ণিত এক হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَنْ قَرَأَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةِ آيَةَ الْكُرْسِي حُفِظَ إِلَى الصَّلَاةِ الْأُخْرَى، وَلَا يُحَافِظُ عَلَيْهَا إِلَّا نَبِيٌّ، أَوْ صِدِيقٌ، أَوْ شَهِيدٌ.
'যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে পরবর্তী নামায পর্যন্ত নিরাপত্তা দান করবেন। আর এর প্রতি কেবল নবী, সিদ্দীক ও শহীদ ছাড়া কেউ যত্নবান হতে পারে না। (বায়হাকী, শু'আবূল ঈমান: ২১৭৫)

ঙ. এ আয়াত পাঠ করার দ্বারা বালা-মসিবত, পেরেশানি, দুর্যোগ-দুর্বিপাক ও যে-কোনও বিপদ-আপদে আল্লাহ তা'আলার সাহায্য লাভ হয়। হযরত আবূ কাতাদা আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ وَخَوَاتِيمَ سُوْرَةِ الْبَقَرَةِ عِنْدَ الْكَرْبِ، أَعَانَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ

'যে ব্যক্তি বিপদ-আপদের সময় আয়াতুল কুরসী ও সূরা বাকারার শেষ আয়াতসমূহ পড়বে, আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন।' (ইবনুস সুন্নী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লা ৩৪৪)

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. আয়াতুল কুরসী কুরআন মাজীদের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত।

খ. সম্মানী ব্যক্তিকে সরাসরি তার নাম ধরে সম্বোধন না করে উপনামে সম্বোধন করা উত্তম।

গ. মুখের উপর প্রশংসা করার দ্বারা যদি অহমিকা সৃষ্টি বা অন্য কোনও ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে, তবে সে প্রশংসা দূষণীয় নয়; বরং ক্ষেত্র বিশেষে এরূপ প্রশংসা করাই শ্রেয়।

ঘ. দীনী ইলম বা যে-কোনও দীনী কাজে কাউকে অগ্রগামী করার লক্ষ্যে তার জন্য দু'আ করার পাশাপাশি তাকে লক্ষ্য করে উৎসাহব্যঞ্জক কথাবার্তাও বলা চাই।

৪. কারও জিজ্ঞাসার উত্তরে বিশেষত মান্যগণ্য ব্যক্তির জিজ্ঞাসার উত্তরে নিজের জ্ঞান বা অন্য কোনও যোগ্যতার কথা প্রকাশ করা দোষের নয়।

চ. কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করার পাশাপাশি কুরআনের ইলম ও জ্ঞান সম্পর্কে অবগতি লাভের চেষ্টা করাও কাম্য এবং এটা অনেক বড় ফযীলতের কাজ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান