রিয়াযুস সালিহীন-ইমাম নববী রহঃ

৯. ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা

হাদীস নং: ১০০৮
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
সুন্দর আওয়াজে কুরআন পাঠ করা সুমধুর সুরের ব্যক্তিকে কুরআন পড়তে বলা এবং মনোযোগ দিয়ে সেই তিলাওয়াত শোনা: অন্যের মুখে কুরআন শ্রবণের আগ্রহ রাখা
১০০৮. হযরত ইবন মাস'উদ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমাকে কুরআন পড়ে শোনাও। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনাকে পড়ে শোনাব, অথচ আপনার উপরই নাযিল হয়েছে? তিনি বললেন, আমি অন্যের কাছ থেকে পড়া শুনতে পছন্দ করি। সুতরাং আমি তাঁর সামনে সূরা নিসা পাঠ করতে লাগলাম। যখন আয়াত।فَكَيْفَ إِذَا جِثْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَ جِثْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدً পর্যন্ত পড়লাম, তখন তিনি বললেন, ব্যস যথেষ্ট। আমি তাঁর দিকে ফিরে তাকালাম। দেখলাম তাঁর চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। -বুখারী ও মুসলিম (সহীহ বুখারী ৫০৫০; সহীহ মুসলিম: ৮০০; সুনানে আবু দাউদ: ৩৬৬৮; জামে' তিরমিযী: ৩০২৫; মুসনাদুল বাযযার ১০৮০; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা ৮০২৪; মুসনাদে আবু ইয়া'লা: ৫০১৯; সহীহ ইবন হিব্বান ৭৩৫; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ৫৩৯৪; মুসনাদুল হুমায়দী: ১০১)
كتاب الفضائل
باب استحباب تحسين الصوت بالقرآن وطلب القراءة من حسن الصوت والاستماع لها
1008 - وعن ابن مسعودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ لِي النَّبيُّ - صلى الله عليه وسلم: «اقْرَأْ عَلَيَّ القُرْآنَ»، فقلتُ: يَا رسولَ الله، أَقْرَأُ عَلَيْكَ، وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ؟! قَالَ: «إنِّي أُحِبُّ أَنْ أسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي» فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ سُورَةَ النِّسَاءِ، حَتَّى جِئْتُ إِلَى هذِهِ الآية: {فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا} قَالَ: «حَسْبُكَ الآنَ» فَالْتَفَتُّ إِلَيْهِ، فَإذَا عَيْنَاهُ تَذْرِفَانِ. متفقٌ عَلَيْهِ. (1)

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):


__________
(1) انظر الحديث (446).

হাদীসের ব্যাখ্যা:

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যের মুখে তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করতেন। এর কারণ অন্যের মুখে তিলাওয়াত শুনলে কুরআনের বাণী বোঝা ও তাতে চিন্তাফিকির করা সহজ হয়, যেহেতু তখন মন-মস্তিষ্ক কুরআনের বাণী ও মর্মের মধ্যেই নিবিষ্ট থাকে। পক্ষান্তরে নিজে যখন তিলাওয়াত করা হয়, তখন মনোযোগ থাকে শব্দাবলির বিশুদ্ধ উচ্চারণ ও যথাযথ পাঠের প্রতি। তাছাড়া নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুমধুর সুরের তিলাওয়াত ভালোবাসতেন। সুন্দর সুরে তিলাওয়াত করতে আদেশ করতেন। যারা মধুর সুরে তিলাওয়াত করত, তাদের প্রশংসা করতেন ও তাদেরকে উৎসাহদান করতেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাযি.-এর তিলাওয়াত খুবই সুন্দর ছিল। তিনিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যিনি কুরায়শদের সামনে উচ্চৈঃস্বরে কুরআন পাঠ করেছিলেন। তিনি যেমন একজন বড় ফকীহ ছিলেন, তেমনি একজন উৎকৃষ্ট কারীও ছিলেন। এক হাদীছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ইবন মাস'উদ রাযি.-এর তিলাওয়াতকে তিলাওয়াতের উৎকৃষ্ট নমুনা সাব্যস্ত করে অন্যরা যেন তাঁর মতো করে তিলাওয়াত করে, সেই পরামর্শও দান করেছিলেন। তিনি বলেন-

مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَقْرَأَ الْقُرْآنَ غَضًّا كَمَا أُنْزِلَ فَلْيَقْرَأْهُ عَلَى قِرَاءَةِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ

'যে ব্যক্তি কুরআন যেমন নাযিল হয়েছে তেমনি তাজা পড়তে চায়, সে যেন আব্দুল্লাহর মায়ের ছেলে (অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ)-এর পড়ার মতো পড়ে। '(সুনানে ইবন মাজাহ ১৩৯; মুসনাদে আহমাদ: ৪২৫৬; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ৩০১৩৬; মুসনাদে আবু দাউদ তয়ালিসী: ৩৩২; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা ৮১৯৯; মুসনাদে আবু ইয়া'লা : ১৬; তহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার ৫৫৮৪; সহীহ ইবন হিব্বান: ৭০৬৭)

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ইবন মাস'উদ রাযি.-কে তাঁর সামনে কুরআন তিলাওয়াতের হুকুম করলে তিনি আরয করলেন-

يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَقْرَأْ عَلَيْكَ، وَعَلَيْكَ أُنزِلَ؟ (ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনাকে পড়ে শোনাব, অথচ আপনার উপরই নাযিল হয়েছে)? অর্থাৎ কুরআন যেহেতু আপনার প্রতি নাযিল হয়েছে, তাই আপনিই এ সম্পর্কে ভালো জানেন। কুরআন কীভাবে পড়তে হবে এবং কুরআনের কোন আয়াতে কী বলা হয়েছে, তা আপনার মতো আর কার পক্ষে জানা সম্ভব? এ অবস্থায় আমি কীভাবে আপনার সামনে পাঠ করব?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- إنِّي أحبُّ أن أسمعَه من غيري (আমি অন্যের কাছ থেকে পড়া শুনতে পছন্দ করি)। এ পছন্দ করার একটা কারণ তো উপরে বলা হয়েছে যে, অন্যের মুখে কুরআন পাঠ শুনলে তার ভাব ও মর্ম সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করা সহজ হয়। দ্বিতীয়ত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে কুরআন কীভাবে পাঠ করতে হয় তাও শিক্ষা দিতেন। ছাত্র উসতাযের সামনে পড়লে উসতাষের পক্ষে তার ভুল-ত্রুটি শুধরে দেওয়া সহজ হয়। হযরত ইবন মাস'উদ রাযি. যেহেতু খুব সমঝদার ছাত্র ছিলেন, তাই ভবিষ্যতের একজন সুদক্ষ উসতাযরূপে তাঁকে গড়ে তোলাও হয়তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্য ছিল। অসম্ভব নয় যে, সে কারণেও হয়তো তাঁকে পড়া শোনাতে বলেছিলেন। এমনও হতে পারে যে, তিনি হযরত ইবন মাস'উদ রাযি.-এর পাঠদক্ষতা যাচাই করতে চেয়েছিলেন।

আদেশমতো হযরত আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাযি. তাঁর সামনে কুরআন তিলাওয়াত করতে শুরু করলেন। তিনি সূরা নিসার শুরু থেকে পাঠ করতে থাকেন। সূরা নিসার ৪১ নং আয়াত পর্যন্ত পৌঁছালেন। তাতে ইরশাদ হয়েছে-

فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا

'সুতরাং (তারা ভেবে দেখুক)- সেদিন (তাদের অবস্থা) কেমন হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং (হে নবী), আমি তোমাকে ওইসব লোকের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব?'

এ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ক্ষান্ত হতে বললেন। হযরত ইবন মাস'উদ রাযি. ক্ষান্ত হয়ে যখন তাঁর দিকে তাকালেন, দেখলেন তাঁর চোখ থেকে পানি পড়ছে।

কিয়ামতের দিন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষ্যদান
এ আয়াত পাঠকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন কাঁদছিলেন? ইবনুন নাবী রহ. বলেন, তিনি কাঁদছিলেন এ কারণে যে, আল্লাহ তা'আলা যখন তাঁকে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করবেন, তখন তাঁকে সাক্ষ্য তো দিতেই হবে। নিয়ম হলো, সাক্ষীর সাক্ষ্য অনুযায়ী বিচারক ফয়সালা দিয়ে থাকেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উম্মত সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবেন, তখন আল্লাহ তা'আলা তো সে অনুসারেই ফয়সালা দেবেন। উম্মতের মধ্যে এমন তো কতই আছে, যারা শরীয়ত অনুযায়ী আমল করেনি। তাদের সম্পর্কে যখন তিনি সাক্ষ্য দেবেন, তখন তাদের তী পরিণতি হবে? এ কথা ভেবেই তিনি কেঁদেছিলেন।

এ আয়াতে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাক্ষীরূপে হাজির করা হবে, প্রশ্ন হচ্ছে তাঁর সাক্ষ্য হবে কাদের সম্পর্কে? অর্থাৎ هٰٓؤُلَآءِ এর দ্বারা কাদের বোঝানো হয়েছে? উলামায়ে কেরামের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, এর দ্বারা নবীগণকে বোঝানো হয়েছে। আয়াতটির অর্থ হলো, আমি প্রত্যেক উম্মতের নবীকে হাজির করব এবং সেই নবী নিজ উম্মতের ভালো-মন্দ কার্যকলাপ সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবেন। এভাবে প্রত্যেক নবী নিজ নিজ উম্মত সম্পর্কে সাক্ষ্যদান করবেন। সবশেষে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত নবীর সত্যতার পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন।

কেউ কেউ বলেন, এখানে মূলত উম্মতের মুমিনগণকে বোঝানো হয়েছে। তারা নবীগণের পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন যে, তারা নিজ নিজ উম্মতের কাছে দাওয়াত পৌছিয়েছিলেন আর নবীগণ যে সাক্ষ্য দিয়েছেন তা সত্য। পরিশেষে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই মুমিনদের পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন যে, তারা সত্য সাক্ষ্যই দিয়েছে। নবীগণের পক্ষে এ উম্মতের মুমিনদের সাক্ষ্যদান সম্পর্কে সূরা বাকারায় ইরশাদ হয়েছে-

وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِّتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا

'(হে মুসলিমগণ।) এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থি উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা অন্যান্য লোক সম্পর্কে সাক্ষী হও এবং রাসূল হন তোমাদের পক্ষে সাক্ষী। (সূরা বাকারা, আয়াত ১৪৩)

অপর এক আয়াতে ইরশাদ-

لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ 'যাতে এই রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হতে পারে আর তোমরা সাক্ষী হতে পার অন্যান্য মানুষের জন্য। (সূরা হাজ্জ, আয়াত ৭৮)

কারও মতে هٰٓؤُلَآءِ এর দ্বারা এ উম্মতকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ অন্যান্য নবী যেমন নিজ নিজ উম্মত সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবেন, তেমনি আমাদের নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও নিজ উম্মত সম্পর্কে সাক্ষ্যদান করবেন। যেমন কোনও কোনও বর্ণনায় আছে, একবার নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে এ আয়াত পাঠ করা হলে তিনি কেঁদে দেন এবং আরয করেন, হে আমার রব্ব, আমি যাদের মধ্যে আছি তাদের সম্পর্কে তো এটা সম্ভব, কিন্তু আমি যাদের দেখিনি তাদের সম্পর্কে কীভাবে সাক্ষ্য দেব? অপর এক বর্ণনা দ্বারা এর উত্তর পাওয়া যায়। তাতে আছে-

لَيْسَ مِنْ يَوْمِ إِلَّا يُعْرَضُ فِيهِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمَّتُهُ غُدْوَةً وَعَشِيَّة، فَيَعْرِفُهُمْ بِسِيمَاهُمْ، لِيَشْهَدَ عَلَيْهِمْ، يَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: ﴿فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِن كُل أُمَّةٍ بِشَهِيْدٍ وَ جِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا ) .

'প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে তাঁর উম্মতকে পেশ করা হয়। তিনি তাদের আলামত দ্বারা তাদেরকে চিনে রাখেন, যাতে তাদের সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে পারেন। আল্লাহ তা'আলা বলছেন- 'সুতরাং (তারা ভেবে দেখুক)- সেদিন (তাদের অবস্থা) কেমন হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং (হে নবী), আমি তোমাকে ওইসব লোকের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব? [সূরা নিসা: ৪১]' (ইবনুল মুবারাক, কিতাবুয যুহদ, ২য় খণ্ড, ৪২ পৃষ্ঠা।)

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. অন্যের মুখে কুরআন মাজীদের তিলাওয়াত শোনা সুন্নত।

খ. কুরআন মাজীদের তিলাওয়াত যেমন কান্না বা কান্নার ভাবের সঙ্গে হওয়া চাই, তেমনি কুরআন মাজীদের তিলাওয়াত শ্রবণকালেও এরকম ভাব থাকা উচিত।

গ. উসতাযের সামনে পড়ার দ্বারা ছাত্রের যোগ্যতা যাচাই করা বা তার ভুল-ত্রুটি শোধরানো সহজ হয়।

ঘ. কুরআন তিলাওয়াতকালে পাঠক ও শ্রোতা উভয়েরই তার ভাব ও মর্মের প্রতি বিশেষ লক্ষ করা উচিত।

ঙ. কুরআন যথাসম্ভব সুন্দর সুরে পড়া চাই।

চ. কুরআন মাজীদ নিজের যত ভালোই জানা থাকুক, তবুও অন্যের তিলাওয়াত শোনার প্রতি আগ্রহ থাকা বাঞ্ছনীয়। সুতরাং এ হাদীছের অনুসরণে সাহাবায়ে কেরাম থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল যুগের উলামা ও বুযুর্গানে দীন বিশেষ আগ্রহের সঙ্গে অন্যের মুখে কুরআনের তিলাওয়াত শোনার আমল অব্যাহত রেখেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
রিয়াযুস সালিহীন - হাদীস নং ১০০৮ | মুসলিম বাংলা