রিয়াযুস সালিহীন-ইমাম নববী রহঃ
৮. সফরের আদব-বিধান
হাদীস নং: ৯৮১
সফরের আদব-বিধান
কোনও মানুষ বা অন্য কোনওকিছুকে ভয় করলে যে দুআ পড়বে
৯৮১. হযরত আবূ মূসা আশ'আরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনও সম্প্রদায়কে ভয় করলে দুআ করতেন-
اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُوْرِهِمْ، وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُوْرِهِمْ.
'হে আল্লাহ! আমরা আপনাকে রাখছি তাদের গলদেশে (জবাইয়ের স্থানে) এবং আমরা তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি'। -আবু দাউদ ও নাসাঈ (সুনানে আবূ দাউদ: ১৫৩৭। নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা ৮৫৭৭; মুসনাদে আহমাদ: ১৯৭১৯। সহীহ ইবন হিব্বান: ৪৭৬৫; তাবারানী, আল মু'জামুল আওসাত: ২৫৩১; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ২৬২৯: বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ১০৩২৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৩৫৩)
اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُوْرِهِمْ، وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُوْرِهِمْ.
'হে আল্লাহ! আমরা আপনাকে রাখছি তাদের গলদেশে (জবাইয়ের স্থানে) এবং আমরা তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি'। -আবু দাউদ ও নাসাঈ (সুনানে আবূ দাউদ: ১৫৩৭। নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা ৮৫৭৭; মুসনাদে আহমাদ: ১৯৭১৯। সহীহ ইবন হিব্বান: ৪৭৬৫; তাবারানী, আল মু'জামুল আওসাত: ২৫৩১; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ২৬২৯: বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ১০৩২৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৩৫৩)
كتاب آداب السفر
باب مَا يدعو بِهِ إِذَا خاف ناسًا أَوْ غيرهم
981 - عن أَبي موسى الأشعريِّ - رضي الله عنه: أنَّ رسولَ الله - صلى الله عليه وسلم - كَانَ إِذَا خَافَ قَوْمًا، قَالَ: «اللَّهُمَّ إنَّا نَجْعَلُكَ في نُحُورِهِمْ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ». رواه أَبُو داود والنسائي بإسنادٍ صحيحٍ. (1)
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
__________
(1) أخرجه: أبو داود (1537)، والنسائي في «الكبرى» (8631) و (10437).
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ভয় পাওয়া মানুষের একটি স্বভাবগত বিষয়। শিশু, বৃদ্ধ, নারী, পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই ক্ষতিকর কিছুর সম্মুখীন হলে কিছু না কিছু ভয় পায়ই। নবী-রাসূলগণও মানুষ ছিলেন। তাই ভয়ংকর কিছু দেখলে তাঁরাও ভয় পেতেন। হযরত মূসা আলাইহিস সালামের মতো উচ্চস্তরের নবীও যখন আল্লাহ তা'আলার হুকুমে নিজের হাতের লাঠিটিকে সাপ হয়ে নড়াচড়া করতে দেখলেন, তখন তিনি ভয় পেয়ে গেলেন। তাঁকে ও তাঁর ভাই হযরত হারুন আলাইহিস সালামকে যখন ফিরআউনের কাছে আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের দাওয়াত নিয়ে যেতে বলা হয়, তখন তাঁরা দোর্দণ্ড প্রতাপশালী এ বাদশাহের পক্ষ থেকে অনিষ্টের আশঙ্কা করলেন। তাঁরা বললেন-
قَالَا رَبَّنَاۤ اِنَّنَا نَخَافُ اَنۡ یَّفۡرُطَ عَلَیۡنَاۤ اَوۡ اَنۡ یَّطۡغٰی
হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আশঙ্কা করি সে কিনা আমাদের উপর অত্যাচার করে অথবা সীমালঙ্ঘন করতে উদ্যত হয়। (সূরা তোয়াহা, আয়াত ৪৫)
মানবীয় সে স্বভাব অনুযায়ী অনিষ্টকারীর অনিষ্টের ভয় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরও হতো। তিনি তা থেকে আত্মরক্ষারও ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তিনি ত্রুটি করতেন না। আহযাবের যুদ্ধে পরিখা খননসহ মদীনা নগরের প্রতিরক্ষায় যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন, সেদিকে লক্ষ করলে বিষয়টা ভালোভাবেই বুঝে আসে।
প্রকাশ থাকে যে, একজন মুসলিম ভয়-ভীতি থেকে আত্মরক্ষার জন্য কেবল বাহ্যিক আসবাব-উপকরণ গ্রহণ করাকেই যথেষ্ট মনে করতে পারে না। সে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বের সঙ্গে আল্লাহ তা'আলার আশ্রয়ও গ্রহণ করবে। কেননা কোনও উপকারকারী যেমন আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারও উপকার করতে পারে না, তেমনি কোনও অনিষ্টকারীও আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারও ক্ষতি করতে পারে না। আল্লাহ তা'আলা যদি কাউকে রক্ষা করেন, তবে ক্ষতিকারী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তার পক্ষে ক্ষতি করা মোটেই সম্ভব নয়। কাজেই একজন ঈমানদার ব্যক্তি ভয়-ভীতির ক্ষেত্রে প্রথমে আল্লাহ তা'আলারই আশ্রয় গ্রহণ করবে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে শিক্ষাই আমাদের দান করেছেন। আলোচ্য হাদীছটিতেও দেখা যাচ্ছে তিনি যখন কোনও সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ক্ষতির আশঙ্কা বোধ করতেন, তখন আল্লাহ তা'আলার আশ্রয় গ্রহণ করতেন। তাঁর আশ্রয় গ্রহণের ভাষা ছিল এরকম-
اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُوْرِهِمْ، وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُوْرِهِمْ 'হে আল্লাহ! আমরা আপনাকে রাখছি তাদের গলদেশে (জবাইয়ের স্থানে) এবং আমরা তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি'। অর্থাৎ আপনি আমাদের পক্ষ থেকে তাদেরকে প্রতিহত করুন এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন। আল্লাহ তা'আলাকে শত্রুর গলদেশে রাখার দ্বারা রূপকার্থে শত্রুকে দমন করা বোঝানো হয়েছে। কোনও প্রাণীর জীবননাশ ঘটানোর জন্য তাকে জবাই করা হয়ে থাকে। আর জবাই করা হয় প্রাণীর গলা দিয়ে। কাজেই গলায় রাখার মানে জবাই করা। অর্থাৎ শত্রুকে দমন করা। সুতরাং শত্রুকে দমন করা বা শত্রুর অনিষ্ট প্রতিহত করার জন্য এ দু'আটির ভাষা খুবই সংগতিপূর্ণ।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. ভয়-ভীতি মানুষের স্বভাবগত। এটা বড় বড় আল্লাহওয়ালা এমনকি নবী-রাসূলের হতে পারে। তাই কারও বেলায় এটাকে দূষণীয় মনে করা উচিত নয়।
খ. বান্দার উচিত সর্বাবস্থায় নিজেকে আল্লাহ তা'আলার মুখাপেক্ষী মনে করা এবং বিপদ-আপদে তাঁর সাহায্য ভিক্ষা করা।
গ. কোনও শত্রুর ভয় দেখা দিলে হাদীছে বর্ণিত এ দুআটি পড়া উচিত। তাতে শত্রুর ক্ষতি হতে বাঁচার আশা রয়েছে।
قَالَا رَبَّنَاۤ اِنَّنَا نَخَافُ اَنۡ یَّفۡرُطَ عَلَیۡنَاۤ اَوۡ اَنۡ یَّطۡغٰی
হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আশঙ্কা করি সে কিনা আমাদের উপর অত্যাচার করে অথবা সীমালঙ্ঘন করতে উদ্যত হয়। (সূরা তোয়াহা, আয়াত ৪৫)
মানবীয় সে স্বভাব অনুযায়ী অনিষ্টকারীর অনিষ্টের ভয় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরও হতো। তিনি তা থেকে আত্মরক্ষারও ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তিনি ত্রুটি করতেন না। আহযাবের যুদ্ধে পরিখা খননসহ মদীনা নগরের প্রতিরক্ষায় যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন, সেদিকে লক্ষ করলে বিষয়টা ভালোভাবেই বুঝে আসে।
প্রকাশ থাকে যে, একজন মুসলিম ভয়-ভীতি থেকে আত্মরক্ষার জন্য কেবল বাহ্যিক আসবাব-উপকরণ গ্রহণ করাকেই যথেষ্ট মনে করতে পারে না। সে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বের সঙ্গে আল্লাহ তা'আলার আশ্রয়ও গ্রহণ করবে। কেননা কোনও উপকারকারী যেমন আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারও উপকার করতে পারে না, তেমনি কোনও অনিষ্টকারীও আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারও ক্ষতি করতে পারে না। আল্লাহ তা'আলা যদি কাউকে রক্ষা করেন, তবে ক্ষতিকারী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তার পক্ষে ক্ষতি করা মোটেই সম্ভব নয়। কাজেই একজন ঈমানদার ব্যক্তি ভয়-ভীতির ক্ষেত্রে প্রথমে আল্লাহ তা'আলারই আশ্রয় গ্রহণ করবে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে শিক্ষাই আমাদের দান করেছেন। আলোচ্য হাদীছটিতেও দেখা যাচ্ছে তিনি যখন কোনও সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ক্ষতির আশঙ্কা বোধ করতেন, তখন আল্লাহ তা'আলার আশ্রয় গ্রহণ করতেন। তাঁর আশ্রয় গ্রহণের ভাষা ছিল এরকম-
اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُوْرِهِمْ، وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُوْرِهِمْ 'হে আল্লাহ! আমরা আপনাকে রাখছি তাদের গলদেশে (জবাইয়ের স্থানে) এবং আমরা তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি'। অর্থাৎ আপনি আমাদের পক্ষ থেকে তাদেরকে প্রতিহত করুন এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুন। আল্লাহ তা'আলাকে শত্রুর গলদেশে রাখার দ্বারা রূপকার্থে শত্রুকে দমন করা বোঝানো হয়েছে। কোনও প্রাণীর জীবননাশ ঘটানোর জন্য তাকে জবাই করা হয়ে থাকে। আর জবাই করা হয় প্রাণীর গলা দিয়ে। কাজেই গলায় রাখার মানে জবাই করা। অর্থাৎ শত্রুকে দমন করা। সুতরাং শত্রুকে দমন করা বা শত্রুর অনিষ্ট প্রতিহত করার জন্য এ দু'আটির ভাষা খুবই সংগতিপূর্ণ।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. ভয়-ভীতি মানুষের স্বভাবগত। এটা বড় বড় আল্লাহওয়ালা এমনকি নবী-রাসূলের হতে পারে। তাই কারও বেলায় এটাকে দূষণীয় মনে করা উচিত নয়।
খ. বান্দার উচিত সর্বাবস্থায় নিজেকে আল্লাহ তা'আলার মুখাপেক্ষী মনে করা এবং বিপদ-আপদে তাঁর সাহায্য ভিক্ষা করা।
গ. কোনও শত্রুর ভয় দেখা দিলে হাদীছে বর্ণিত এ দুআটি পড়া উচিত। তাতে শত্রুর ক্ষতি হতে বাঁচার আশা রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)