রিয়াযুস সালিহীন-ইমাম নববী রহঃ
৭. রোগীর শুশ্রূষা ও মাইয়্যেতের প্রতি কর্তব্য
হাদীস নং: ৮৯৯
সপ্তম ভাগ: রোগী দেখতে যাওয়া, মায়্যিতকে বিদায় দেওয়া, জানাযার নামায পড়া, দাফনে শরীক হওয়া, দাফনের পর কবরের কাছে কিছুক্ষণ অবস্থান করা
পরিচ্ছেদ :১ রোগী দেখতে যাওয়া
পরিচ্ছেদ :১ রোগী দেখতে যাওয়া
অমুসলিম রোগীকে দেখতে যাওয়া ও ইসলামের দাওয়াত
হাদীছ নং: ৮৯৯
হযরত আনাস রাযি. বলেন, এক ইহুদি গোলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমত করত। সে অসুস্থ হয়ে পড়ল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে আসলেন। তিনি তার মাথার কাছে বসলেন। তারপর তাকে বললেন, ইসলাম গ্রহণ করো। সে তার পিতার দিকে তাকাল। তার পিতা তার কাছেই ছিল। সে বলল, তুমি আবুল কাসিমের কথা মানো। সে ইসলাম গ্রহণ করল। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে বের হয়ে আসলেন। তিনি বলছিলেন–
الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِي أَنْقَدَهُ مِنَ النَّارِ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেছেন)। -বুখারী
(সহীহ বুখারী: ১৩৫৬; সুনানে আবু দাউদ: ৩০৯৫; মুসনাদে আবূ ইয়া'লা: ৩৩৫০; সহীহ ইবনে হিব্বান: ৪৮৮৪; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ১২১৫৭; বাগাবী, শারহু সুন্নাহ: ৫৭)
হাদীছ নং: ৮৯৯
হযরত আনাস রাযি. বলেন, এক ইহুদি গোলাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমত করত। সে অসুস্থ হয়ে পড়ল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে আসলেন। তিনি তার মাথার কাছে বসলেন। তারপর তাকে বললেন, ইসলাম গ্রহণ করো। সে তার পিতার দিকে তাকাল। তার পিতা তার কাছেই ছিল। সে বলল, তুমি আবুল কাসিমের কথা মানো। সে ইসলাম গ্রহণ করল। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে বের হয়ে আসলেন। তিনি বলছিলেন–
الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِي أَنْقَدَهُ مِنَ النَّارِ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেছেন)। -বুখারী
(সহীহ বুখারী: ১৩৫৬; সুনানে আবু দাউদ: ৩০৯৫; মুসনাদে আবূ ইয়া'লা: ৩৩৫০; সহীহ ইবনে হিব্বান: ৪৮৮৪; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ১২১৫৭; বাগাবী, শারহু সুন্নাহ: ৫৭)
كتاب عيَادة المريض وَتشييع المَيّت والصّلاة عليه وَحضور دَفنهِ وَالمكث عِنْدَ قبرهِ بَعدَ دَفنه
باب عيادة المريض
باب عيادة المريض
899 - وعن أنسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ غُلاَمٌ يَهُودِيٌّ يَخْدُمُ النَّبيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَمَرِضَ، فَأتَاهُ النَّبيُّ - صلى الله عليه وسلم - يَعُودُهُ، فَقَعَدَ عِنْدَ رَأسِهِ، فَقَالَ لَهُ: «أسْلِمْ» فَنَظَرَ إِلَى أبِيهِ وَهُوَ عِنْدَهُ؟ فَقَالَ: أَطِعْ أَبَا القَاسِمِ، فَأسْلَمَ، فَخَرَجَ النَّبيُّ - صلى الله عليه وسلم - وَهُوَ يَقُولُ: «الحَمْدُ للهِ الَّذِي أنْقَذَهُ منَ النَّارِ». رواه البخاري. (1)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যে বালকটি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমত করত, তার নাম বলা হয়ে থাকে আব্দুল কুদ্দুস। সে কখনও কখনও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযুর পানির ব্যবস্থা করে দিত। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সে খেদমতের মূল্যায়ন করেন। যে-কোনও ব্যক্তিরই খেদমতকে তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করতেন। কোনও না কোনওভাবে তার বিনিময় দেওয়ার প্রতিও লক্ষ রাখতেন। তিনি যেমন উপকারীর উপকার স্বীকার করা ও তার কৃতজ্ঞতা আদায় করার শিক্ষাদান করেছেন, তেমনি অন্যান্য শিক্ষার মতো এ ক্ষেত্রেও তিনি নিজে এ শিক্ষার উপর আমলের নমুনাও দেখিয়ে দিয়েছেন। আলোচ্য বালকটির বেলায়ও সে নমুনা লক্ষ করা যায়। বালকটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি তাকে দেখতে গিয়েছেন। তিনি শিয়রে বসেছেন। মমতার সঙ্গে তাকে ইসলামগ্রহণের দাওয়াত দিয়েছেন।
হাদীছটির প্রতি লক্ষ করলে বোঝা যায় বালকটি ইসলামগ্রহণে আগ্রহী ছিল। কিন্তু সে তার বাবাকে ভয় পাচ্ছিল, পাছে সে তার ইসলামগ্রহণে ক্রদ্ধ্ব হয়। তাই সে তার বাবার দিকে তাকাচ্ছিল। তার বাবা ইহুদি হলেও এই ভদ্রতবোধটুকু ছিল যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি যখন তার পুত্রকে দেখতে এসেছেন, তখন তার সম্মানটক রক্ষা করা উচিত, বিশেষত যখন তাঁর দাওয়াতের প্রতি এই মৃত্যুক্ষণে তার পুত্র আগ্রহও প্রকাশ করছে। কাজেই সে তাকে ইসলামগ্রহণের অনুমতি দিয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে বালকটি ইসলাম গ্রহণ করল। এর দ্বারা এ কথাও বোঝা গেল যে, মৃত্যুর আগে আগে যখন হুঁশ ও চেতনা থাকে, তখনও ইসলাম গ্রহণ করলে তা আল্লাহ তা'আলার কাছে গৃহীত হয়। বালকটির ইসলামগ্রহণ গৃহীত হয়েছিল বলেই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং আল্লাহর শোকর আদায় করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেছেন।
হাদীছটি দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিনয়েরও পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন সকল সৃষ্টির সেরা। সমস্ত নবী-রাসূলের মধ্যমণি। মদীনার সত্যিকারের বাদশাও বটে। তা সত্ত্বেও এক সাধারণ ইহুদি বালকের বাড়িতে চলে গেছেন। তার রোগশয্যায় হাজির হয়েছেন।
এর দ্বারা তাঁর দরদি মনেরও পরিচয় পাওয়া যায়। বালকটি যাতে ঈমান নিয়ে কবরে যেতে পারে আর এভাবে জাহান্নাম থেকে সে বেঁচে যায়, সেজন্য তিনি তার মৃত্যুর আগে আগে তার কাছে ঈমানের দাওয়াত নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁর স্নেহ-মমতায় আগে থেকেই বালকটি তাঁর প্রতি নিবেদিত ছিল। তা না হলে এক ইহুদি হওয়া সত্ত্বেও সে তাঁর সেবা করবে কেন? হয়তো নিজ পিতা ও নিজ সম্প্রদায়ের ভয় না থাকলে আগেই ইসলাম গ্রহণ করত। কিন্তু তার জীবনের এ শেষ মুহূর্তে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তার শিয়রে উপস্থিত হয়েছেন, তখন তার পক্ষে তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বরং সে দাওয়াতগ্রহণে উদগ্রীব হয়ে উঠেছিল। আল্লাহ তা'আলা তার আবেগ কবুল করে নেন। ঈমান নিয়েই তার কবরযাত্রা সম্ভব হয়।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. অমুসলিমদের সেবা খ. অমুসলিম গ্রহণ করা জায়েয।
খ. অমুসলিম ব্যক্তি অসুস্থ হলে তাকেও দেখতে যাওয়া একটি সৎকর্ম।
গ. অমুসলিম রোগীকে দেখতে গেলে হিকমতের সঙ্গে তাকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া চাই।
ঘ. কোনও মুসলিম ইসলাম গ্রহণ করলে সেজন্য খুশি হওয়া ও আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করা চাই।
ঙ. খাদেম-সেবকদের প্রতি স্নেহশীল থাকা উচিত।
চ. কাউকে ছোট বা সাধারণ বলে তুচ্ছ ও অবহেলা করতে নেই। সকলের প্রতি বিনয়ের আচরণ বাঞ্ছনীয়।
ছ. প্রত্যেক অমুসলিমের প্রতি অন্তরে দরদ পোষণ করা এবং তারা যাতে ঈমান এনে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে যায় সে লক্ষ্যে দাওয়াতী কার্যক্রম অব্যাহত রাখা উচিত।
হাদীছটির প্রতি লক্ষ করলে বোঝা যায় বালকটি ইসলামগ্রহণে আগ্রহী ছিল। কিন্তু সে তার বাবাকে ভয় পাচ্ছিল, পাছে সে তার ইসলামগ্রহণে ক্রদ্ধ্ব হয়। তাই সে তার বাবার দিকে তাকাচ্ছিল। তার বাবা ইহুদি হলেও এই ভদ্রতবোধটুকু ছিল যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি যখন তার পুত্রকে দেখতে এসেছেন, তখন তার সম্মানটক রক্ষা করা উচিত, বিশেষত যখন তাঁর দাওয়াতের প্রতি এই মৃত্যুক্ষণে তার পুত্র আগ্রহও প্রকাশ করছে। কাজেই সে তাকে ইসলামগ্রহণের অনুমতি দিয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে বালকটি ইসলাম গ্রহণ করল। এর দ্বারা এ কথাও বোঝা গেল যে, মৃত্যুর আগে আগে যখন হুঁশ ও চেতনা থাকে, তখনও ইসলাম গ্রহণ করলে তা আল্লাহ তা'আলার কাছে গৃহীত হয়। বালকটির ইসলামগ্রহণ গৃহীত হয়েছিল বলেই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং আল্লাহর শোকর আদায় করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেছেন।
হাদীছটি দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিনয়েরও পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন সকল সৃষ্টির সেরা। সমস্ত নবী-রাসূলের মধ্যমণি। মদীনার সত্যিকারের বাদশাও বটে। তা সত্ত্বেও এক সাধারণ ইহুদি বালকের বাড়িতে চলে গেছেন। তার রোগশয্যায় হাজির হয়েছেন।
এর দ্বারা তাঁর দরদি মনেরও পরিচয় পাওয়া যায়। বালকটি যাতে ঈমান নিয়ে কবরে যেতে পারে আর এভাবে জাহান্নাম থেকে সে বেঁচে যায়, সেজন্য তিনি তার মৃত্যুর আগে আগে তার কাছে ঈমানের দাওয়াত নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁর স্নেহ-মমতায় আগে থেকেই বালকটি তাঁর প্রতি নিবেদিত ছিল। তা না হলে এক ইহুদি হওয়া সত্ত্বেও সে তাঁর সেবা করবে কেন? হয়তো নিজ পিতা ও নিজ সম্প্রদায়ের ভয় না থাকলে আগেই ইসলাম গ্রহণ করত। কিন্তু তার জীবনের এ শেষ মুহূর্তে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তার শিয়রে উপস্থিত হয়েছেন, তখন তার পক্ষে তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বরং সে দাওয়াতগ্রহণে উদগ্রীব হয়ে উঠেছিল। আল্লাহ তা'আলা তার আবেগ কবুল করে নেন। ঈমান নিয়েই তার কবরযাত্রা সম্ভব হয়।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. অমুসলিমদের সেবা খ. অমুসলিম গ্রহণ করা জায়েয।
খ. অমুসলিম ব্যক্তি অসুস্থ হলে তাকেও দেখতে যাওয়া একটি সৎকর্ম।
গ. অমুসলিম রোগীকে দেখতে গেলে হিকমতের সঙ্গে তাকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া চাই।
ঘ. কোনও মুসলিম ইসলাম গ্রহণ করলে সেজন্য খুশি হওয়া ও আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করা চাই।
ঙ. খাদেম-সেবকদের প্রতি স্নেহশীল থাকা উচিত।
চ. কাউকে ছোট বা সাধারণ বলে তুচ্ছ ও অবহেলা করতে নেই। সকলের প্রতি বিনয়ের আচরণ বাঞ্ছনীয়।
ছ. প্রত্যেক অমুসলিমের প্রতি অন্তরে দরদ পোষণ করা এবং তারা যাতে ঈমান এনে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে যায় সে লক্ষ্যে দাওয়াতী কার্যক্রম অব্যাহত রাখা উচিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
