রিয়াযুস সালিহীন-ইমাম নববী রহঃ
ভূমিকা অধ্যায়
হাদীস নং: ৪১৬
অধ্যায়ঃ ৫১ আল্লাহর কাছে আশাবাদী থাকা।
একটি মু'জিযার প্রকাশ ও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজ নবুওয়াতের সাক্ষ্যদান
হাদীছ নং : ৪১৬
হযরত আবু হুরায়রা রাযি. অথবা হযরত আবু সা'ঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাবীর সন্দেহ হয়েছে (যে, মূল বর্ণনাকারী এ দুই সাহাবীর কোনও একজন। তবে সাহাবী নির্ণয়ে সন্দেহ হলে তাতে কোনও ক্ষতি নেই, কেননা সাহাবীদের প্রত্যেকেই বিশ্বস্ত।) তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধকালে মানুষ দুর্ভিক্ষ কবলিত হল। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি অনুমতি দিলে আমরা আমাদের উট যবাই করে খেতে পারি ও তার চর্বি দিয়ে তেল বানাতে পারি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা করতে পার। তারপর উমর রাঃ এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এরকমটি করলে তো বাহন কমে যাবে। বরং আপনি তাদেকে তাদের অবশিষ্ট রসদ নিয়ে আসতে বলুন। তারপর তাদের জন্য সে রসদ সম্পর্কে আল্লাহর কাছে বরকতের দোয়া করুন। আশা করা যায়, আল্লাহ তাতে বরকত দান করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাঁ, তাই হোক। সুতরাং তিনি একটি চামড়ার দস্তরখান আনিয়ে বিছালেন। তারপর তাদেরকে তাদের অবশিষ্ট রসদ নিয়ে আসতে বললেন। কেউ তো একমুঠো ভুট্টা নিয়ে আসছিল। অপর কেউ একমুঠো খেজুর নিয়ে আসছিল। আরেকজন এক টুকরো রুটি নিয়ে আসছিল। এভাবে তাতে করে দস্তরখানটির উপর সামান্য কিছু খাবার জমা হল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বরকতের দু'আ করলেন। তারপর বললেন, তোমরা তোমাদের পাত্রে (এখান থেকে খাবার) তুলে নাও। তারা তাদের পাত্রে খাবার তুলে নিতে থাকল। এমনকি বাহিনীতে যত পাত্র ছিল সব তারা ভরে ফেলল, একটিও বাকি থাকল না। তারা সবাই সে খাবার তৃপ্তিভরে খেল। তারপরও কিছু অবশিষ্ট থেকে গেল। এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনও মা'বূদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল। কোনও বান্দার এমন হবে না যে, সে সন্দেহমুক্তরূপে এ দুই কালেমা নিয়ে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত করবে আর তাকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করা হবে - মুসলিম।
হাদীছ নং : ৪১৬
হযরত আবু হুরায়রা রাযি. অথবা হযরত আবু সা'ঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাবীর সন্দেহ হয়েছে (যে, মূল বর্ণনাকারী এ দুই সাহাবীর কোনও একজন। তবে সাহাবী নির্ণয়ে সন্দেহ হলে তাতে কোনও ক্ষতি নেই, কেননা সাহাবীদের প্রত্যেকেই বিশ্বস্ত।) তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধকালে মানুষ দুর্ভিক্ষ কবলিত হল। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি অনুমতি দিলে আমরা আমাদের উট যবাই করে খেতে পারি ও তার চর্বি দিয়ে তেল বানাতে পারি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা করতে পার। তারপর উমর রাঃ এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এরকমটি করলে তো বাহন কমে যাবে। বরং আপনি তাদেকে তাদের অবশিষ্ট রসদ নিয়ে আসতে বলুন। তারপর তাদের জন্য সে রসদ সম্পর্কে আল্লাহর কাছে বরকতের দোয়া করুন। আশা করা যায়, আল্লাহ তাতে বরকত দান করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাঁ, তাই হোক। সুতরাং তিনি একটি চামড়ার দস্তরখান আনিয়ে বিছালেন। তারপর তাদেরকে তাদের অবশিষ্ট রসদ নিয়ে আসতে বললেন। কেউ তো একমুঠো ভুট্টা নিয়ে আসছিল। অপর কেউ একমুঠো খেজুর নিয়ে আসছিল। আরেকজন এক টুকরো রুটি নিয়ে আসছিল। এভাবে তাতে করে দস্তরখানটির উপর সামান্য কিছু খাবার জমা হল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বরকতের দু'আ করলেন। তারপর বললেন, তোমরা তোমাদের পাত্রে (এখান থেকে খাবার) তুলে নাও। তারা তাদের পাত্রে খাবার তুলে নিতে থাকল। এমনকি বাহিনীতে যত পাত্র ছিল সব তারা ভরে ফেলল, একটিও বাকি থাকল না। তারা সবাই সে খাবার তৃপ্তিভরে খেল। তারপরও কিছু অবশিষ্ট থেকে গেল। এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনও মা'বূদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল। কোনও বান্দার এমন হবে না যে, সে সন্দেহমুক্তরূপে এ দুই কালেমা নিয়ে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত করবে আর তাকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করা হবে - মুসলিম।
51 - باب الرجاء
416 - وعن أَبي هريرة - أَوْ أَبي سعيد الخدري - رضي الله عنهما - شك الراوي - ولا يَضُرُّ الشَّكُّ في عَين الصَّحَابيّ؛ لأنَّهُمْ كُلُّهُمْ عُدُولٌ - قَالَ: لَمَّا كَانَ غَزوَةُ تَبُوكَ، أصَابَ النَّاسَ مَجَاعَةٌ، فقالوا: يَا رَسُول الله، لَوْ أَذِنْتَ لَنَا فَنَحرْنَا نَواضِحَنَا (1) فَأكَلْنَا وَادَّهَنَّا (2)؟ فَقَالَ رَسُول الله - صلى الله عليه وسلم: «افْعَلُوا» فَجاء عُمَرُ - رضي الله عنه - فَقَالَ: يَا رَسُول الله، إنْ فَعَلْتَ قَلَّ الظَّهْرُ، [ص:149] وَلَكِن ادعُهُمْ بفَضلِ أزْوَادِهِمْ، ثُمَّ ادعُ الله لَهُمْ عَلَيْهَا بِالبَرَكَةِ، لَعَلَّ الله أَنْ يَجْعَلَ في ذلِكَ البَرَكَةَ. فَقَالَ رَسُول الله - صلى الله عليه وسلم: «نَعَمْ» فَدَعَا بِنَطْع فَبَسَطَهُ، ثُمَّ دَعَا بِفضلِ أزْوَادِهِمْ، فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَجيءُ بكَفّ ذُرَة وَيَجيءُ بِكَفّ تمر وَيجيءُ الآخرُ بِكِسرَة حَتَّى اجْتَمَعَ عَلَى النّطعِ مِنْ ذلِكَ شَيء يَسيرٌ، فَدَعَا رَسُول الله - صلى الله عليه وسلم - بِالبَرَكَةِ، ثُمَّ قَالَ: «خُذُوا في أوعِيَتِكُمْ» فَأَخَذُوا في أَوْعِيَتهم حَتَّى مَا تَرَكُوا في العَسْكَرِ وِعَاء إلاَّ مَلأوهُ وَأَكَلُوا حَتَّى شَبعُوا وَفَضَلَ فَضْلَةٌ فَقَالَ رَسُول الله - صلى الله عليه وسلم: «أشْهَدُ أَنْ لا إلهَ إلاَّ اللهُ وَأنّي رَسُولُ الله، لا يَلْقَى الله بِهِما عَبْدٌ غَيْرَ شَاكٍّ فَيُحْجَبَ عَنِ الجَنَّةِ». رواه مسلم. (3)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি মু'জিযা বর্ণিত হয়েছে। মু'জিযাটি প্রকাশ পেয়েছিল তাবুক যুদ্ধের সময়। এ যুদ্ধটি হয়েছিল হিজরী ৯ম সনে। তখন প্রচণ্ড অভাব-অনটন চলছিল। সাহাবায়ে কেরাম অনাহারে খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন। এ অবস্থায় তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উট জবাই করার অনুমতি চাইলেন, যাতে তার গোশত খেয়ে তারা ক্ষুধা নিবারণ করতে পারেন।
উট ছিল তাদের বাহন। সফরকালে বাহনের প্রয়োজন কত বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আবার এ সফর ছিলও অনেক দূরের। ক্ষুধা নিবারণের জন্য উট যবাহ করতে থাকলে কঠিন বাহন-সংকটে পড়ার আশঙ্কা ছিল। হযরত উমর রাযি. সে আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করলেন। তিনি পরামর্শ দিলেন, যার কাছে যে খাদ্য আছে তা সব একত্র করার হুকুম দেওয়া হোক। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আ করুন যাতে আল্লাহ তা'আলা সেই সামান্য খাদ্যে বরকত দান করেন। তাই হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু'আয় সে সামান্য খাদ্যে এত বরকত হল যে, বাহিনীর প্রত্যেকে আপন আপন পাত্র ভরে ফেলল এবং সকলেই তৃপ্তি সহকারে খেল, তারপরও কিছু খাদ্য অবশিষ্ট থেকে গেল।
প্রকাশ থাকে যে, তাবুকের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ত্রিশ হাজার। একটি চামড়ার দস্তরখানে সাহাবায়ে কেরাম তাদের কাছে বেঁচে থাকা যে সামান্য খাদ্য জমা করেছিলেন, কেউ একমুঠো ভুট্টা, কেউ রুটির সামান্য টুকরা, তার সর্বমোট পরিমাণ কতটুকুই বা ছিল? অথচ আল্লাহু আকবার, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু'আর বরকতে ত্রিশ হাজার সদস্যের সেই বিশাল বাহিনীর সকলের ক্ষুধা নিবারণ হয়ে যায়। তারপরও কিছু খাবার অবশিষ্ট থেকে যায়। এটাই মু'জিযা- অলৌকিক ব্যাপার।
মু'জিযা দ্বারা নবীর নবুওয়াতের সত্যতা প্রমাণ হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সত্যতা শুরু থেকেই প্রমাণিত হয়ে গিয়েছিল। মাঝেমধ্যেই মু'জিযার প্রকাশ দ্বারা সে প্রমাণ তাজা করে তোলা হচ্ছিল। তাবুকের যুদ্ধকালীন এ মু'জিযা দ্বারা সকলের সামনে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তিনি সত্যনবী, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তাই তিনি বলে ওঠেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনও মা'বূদ নেই এবং আমি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল।
তারপর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শাহাদাত ও সাক্ষ্যের ফযীলত বর্ণনা করেন যে, কেউ যদি আন্তরিক বিশ্বাসসহ এ সাক্ষ্যদান করে, তারপর এ অবস্থায় তার মৃত্যু হয় আর শাহাদাতের এ কালেমা নিয়ে আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে সাক্ষাত করে, তবে জান্নাতে যেতে তার কোনও বাধা থাকবে না।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. নবীগণের মু'জিযা সত্য। তাতে বিশ্বাস রাখা ফরয।
খ. নিজের তুলনায় নিম্নস্তরের কোনও ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত পরামর্শ দিলে তা গ্রহণ করা চাই, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত উমর রাযি.-এর পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন।
গ. আন্তরিক বিশ্বাসে কালেমায়ে শাহাদাত পাঠের সঙ্গে মৃত্যুবরণ দ্বারা জান্নাত লাভ নিশ্চিত হয়ে যায়। তাই এ কালেমাসহ যাতে মৃত্যু হয়, প্রত্যেকের সে আশা রাখা উচিত এবং জীবনভর এ কালেমা পাঠ করা ও এ কালেমার দাবি অনুযায়ী চলতে সচেষ্ট থাকা উচিত।
উট ছিল তাদের বাহন। সফরকালে বাহনের প্রয়োজন কত বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আবার এ সফর ছিলও অনেক দূরের। ক্ষুধা নিবারণের জন্য উট যবাহ করতে থাকলে কঠিন বাহন-সংকটে পড়ার আশঙ্কা ছিল। হযরত উমর রাযি. সে আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করলেন। তিনি পরামর্শ দিলেন, যার কাছে যে খাদ্য আছে তা সব একত্র করার হুকুম দেওয়া হোক। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আ করুন যাতে আল্লাহ তা'আলা সেই সামান্য খাদ্যে বরকত দান করেন। তাই হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু'আয় সে সামান্য খাদ্যে এত বরকত হল যে, বাহিনীর প্রত্যেকে আপন আপন পাত্র ভরে ফেলল এবং সকলেই তৃপ্তি সহকারে খেল, তারপরও কিছু খাদ্য অবশিষ্ট থেকে গেল।
প্রকাশ থাকে যে, তাবুকের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ত্রিশ হাজার। একটি চামড়ার দস্তরখানে সাহাবায়ে কেরাম তাদের কাছে বেঁচে থাকা যে সামান্য খাদ্য জমা করেছিলেন, কেউ একমুঠো ভুট্টা, কেউ রুটির সামান্য টুকরা, তার সর্বমোট পরিমাণ কতটুকুই বা ছিল? অথচ আল্লাহু আকবার, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু'আর বরকতে ত্রিশ হাজার সদস্যের সেই বিশাল বাহিনীর সকলের ক্ষুধা নিবারণ হয়ে যায়। তারপরও কিছু খাবার অবশিষ্ট থেকে যায়। এটাই মু'জিযা- অলৌকিক ব্যাপার।
মু'জিযা দ্বারা নবীর নবুওয়াতের সত্যতা প্রমাণ হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সত্যতা শুরু থেকেই প্রমাণিত হয়ে গিয়েছিল। মাঝেমধ্যেই মু'জিযার প্রকাশ দ্বারা সে প্রমাণ তাজা করে তোলা হচ্ছিল। তাবুকের যুদ্ধকালীন এ মু'জিযা দ্বারা সকলের সামনে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তিনি সত্যনবী, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তাই তিনি বলে ওঠেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনও মা'বূদ নেই এবং আমি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল।
তারপর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শাহাদাত ও সাক্ষ্যের ফযীলত বর্ণনা করেন যে, কেউ যদি আন্তরিক বিশ্বাসসহ এ সাক্ষ্যদান করে, তারপর এ অবস্থায় তার মৃত্যু হয় আর শাহাদাতের এ কালেমা নিয়ে আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে সাক্ষাত করে, তবে জান্নাতে যেতে তার কোনও বাধা থাকবে না।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. নবীগণের মু'জিযা সত্য। তাতে বিশ্বাস রাখা ফরয।
খ. নিজের তুলনায় নিম্নস্তরের কোনও ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত পরামর্শ দিলে তা গ্রহণ করা চাই, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত উমর রাযি.-এর পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন।
গ. আন্তরিক বিশ্বাসে কালেমায়ে শাহাদাত পাঠের সঙ্গে মৃত্যুবরণ দ্বারা জান্নাত লাভ নিশ্চিত হয়ে যায়। তাই এ কালেমাসহ যাতে মৃত্যু হয়, প্রত্যেকের সে আশা রাখা উচিত এবং জীবনভর এ কালেমা পাঠ করা ও এ কালেমার দাবি অনুযায়ী চলতে সচেষ্ট থাকা উচিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
