আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৬৪- আদব - শিষ্টাচারের অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৭০০
আন্তর্জাতিক নং: ৬১৩০
- আদব - শিষ্টাচারের অধ্যায়
৩২৪৩. মানুষের সাথে হাসিমুখে মেলামেশা করা। আর পরিবারের সঙ্গে হাসি তামাশা করা।
৫৭০০। মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সঙ্গে খেলতো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলা করত।
كتاب الأدب
باب الاِنْبِسَاطِ إِلَى النَّاسِ وَالدُّعَابَةِ مَعَ الأَهْلِ
6130 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: كُنْتُ أَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَانَ لِي صَوَاحِبُ يَلْعَبْنَ مَعِي، «فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ يَتَقَمَّعْنَ مِنْهُ، فَيُسَرِّبُهُنَّ إِلَيَّ فَيَلْعَبْنَ مَعِي»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে হযরত আয়েশা রাযি. নয় বছর বয়সে হুযুর (ﷺ)-এর বাড়ীতে এসে গিয়েছিলেন এবং তিনি সেই সময় পুতুল নিয়ে খেলা করতেন। এর প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ ছিল। মুসলিম শরীফের অন্য এক বর্ণনায় স্বয়ং আয়েশা নিজের সম্পর্কে বলেন যে وزفت اليه وهي بنت تسع ولعبها معها অর্থাৎ, স্বামী গৃহে যাওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল নয় বছর, আর তার খেলনা পুতুলগুলো তার সাথেই ছিল।
বুখারী মুসলিমের ব্যাখ্যাধীন হাদীস থেকে জানা গেল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এই খেলা ও বিনোদন থেকে এমন নয় যে, কেবল নিষেধ করতেন না, বরং এ ব্যাপারে তার এতটুকু মন রক্ষা করতেন যে, যখন তাঁর আগমনে খেলার সাথীরা খেলা ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যেত, তখন তিনি তাদেরকে খেলা চালু রাখার জন্য বলতেন। এটা স্পষ্ট যে, স্ত্রীর মনোরঞ্জনের এটি একটি চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত।
হযরত আয়েশার পুতুল ও প্রাণীর ছবির মাসআলা
এখানে কারো মনে এ প্রশ্ন আসতে পারে যে, যখন কোন প্রাণীর ছবি ও মূর্তি তৈরী করা এবং সেটা ঘরে রাখা জায়েয নয় এবং এর উপর বিশুদ্ধ হাদীসসমূহে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত আয়েশাকে পুতুল নিয়ে খেলা করার এবং সেটা ঘরে রাখার অনুমতি কি ভাবে দিলেন? কোন কোন হাদীস ব্যাখ্যাতা এর একটি উত্তর এও দিয়েছেন যে, হযরত আয়েশার পুতুল নিয়ে খেলা করার এ ঘটনাটি হিজরতের প্রাথমিক যুগের, যখন ছবি ও মূর্তি হারাম হওয়ার নির্দেশ আসেনি। তারপর যখন ছবি ও মূর্তি তৈরীর নিষেধাজ্ঞা এসে গেল, তখন পুতুল বানানো ও এগুলো দিয়ে খেলা করার অবকাশও আর থাকল না। কিন্তু এ অধমের নিকট এর সবচেয়ে সঠিক উত্তর হচ্ছে এই যে, হযরত আয়েশা রাযি.-এর এই খেলার পুতুলগুলো মূর্তির নির্দেশের অন্তর্ভুক্তই ছিল না। সেটা তো চৌদ্দশ বছর আগের কথা, স্বয়ং আমাদের এই যুগে যখন সেলাই শিল্প যথেষ্ট উন্নতি করে নিয়েছে- যা সবারই জানা, এতদসত্ত্বেও ঘরের বালিকারা যেসব কাপড়ের পুতুল তৈরী করে থাকে, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, মূর্তি হওয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো এতই অপূর্ণ হয় যে, এগুলোর উপর কোনভাবেই মূর্তির বিধান প্রয়োগ করা যায় না। এ জন্য হযরত আয়েশা রাযি.-এর পুতুলগুলো সম্পর্কে এ প্রশ্নই উত্থাপিত হয় না।
বুখারী মুসলিমের ব্যাখ্যাধীন হাদীস থেকে জানা গেল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এই খেলা ও বিনোদন থেকে এমন নয় যে, কেবল নিষেধ করতেন না, বরং এ ব্যাপারে তার এতটুকু মন রক্ষা করতেন যে, যখন তাঁর আগমনে খেলার সাথীরা খেলা ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যেত, তখন তিনি তাদেরকে খেলা চালু রাখার জন্য বলতেন। এটা স্পষ্ট যে, স্ত্রীর মনোরঞ্জনের এটি একটি চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত।
হযরত আয়েশার পুতুল ও প্রাণীর ছবির মাসআলা
এখানে কারো মনে এ প্রশ্ন আসতে পারে যে, যখন কোন প্রাণীর ছবি ও মূর্তি তৈরী করা এবং সেটা ঘরে রাখা জায়েয নয় এবং এর উপর বিশুদ্ধ হাদীসসমূহে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত আয়েশাকে পুতুল নিয়ে খেলা করার এবং সেটা ঘরে রাখার অনুমতি কি ভাবে দিলেন? কোন কোন হাদীস ব্যাখ্যাতা এর একটি উত্তর এও দিয়েছেন যে, হযরত আয়েশার পুতুল নিয়ে খেলা করার এ ঘটনাটি হিজরতের প্রাথমিক যুগের, যখন ছবি ও মূর্তি হারাম হওয়ার নির্দেশ আসেনি। তারপর যখন ছবি ও মূর্তি তৈরীর নিষেধাজ্ঞা এসে গেল, তখন পুতুল বানানো ও এগুলো দিয়ে খেলা করার অবকাশও আর থাকল না। কিন্তু এ অধমের নিকট এর সবচেয়ে সঠিক উত্তর হচ্ছে এই যে, হযরত আয়েশা রাযি.-এর এই খেলার পুতুলগুলো মূর্তির নির্দেশের অন্তর্ভুক্তই ছিল না। সেটা তো চৌদ্দশ বছর আগের কথা, স্বয়ং আমাদের এই যুগে যখন সেলাই শিল্প যথেষ্ট উন্নতি করে নিয়েছে- যা সবারই জানা, এতদসত্ত্বেও ঘরের বালিকারা যেসব কাপড়ের পুতুল তৈরী করে থাকে, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, মূর্তি হওয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো এতই অপূর্ণ হয় যে, এগুলোর উপর কোনভাবেই মূর্তির বিধান প্রয়োগ করা যায় না। এ জন্য হযরত আয়েশা রাযি.-এর পুতুলগুলো সম্পর্কে এ প্রশ্নই উত্থাপিত হয় না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)