আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৮৯১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) পার্থিব বস্তুর প্রতি অনাসক্ত, ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের তুলনায় অপরকে প্রাধান্য দিতেন, দুর্বলদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করে দিতেন। দানশীলতা আর অল্পে তুষ্ট থাকা ছিলো তাঁর স্বভাবজাত গুণ। তিনি পার্থিব বস্তুর চাইতে পরকালীন বিষয়কে অধিক ভালবাসতেন। এ ছাড়া তিনি কোন যাঞ্চাকারীকে কখনোই খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না, কোন আবেদনকারীকেই নিষেধ করতেন না। আল্লাহ্ তাঁর উপর, তাঁর বংশধরদের উপর ও তাঁর মহীয়সী স্ত্রীদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
৮৯১। হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা বার্ধক্যকে খেযাব লাগিয়ে পরিবর্তন করো। আর ইয়াহুদী ও খৃস্টানদের সদৃশ হয়ো না।
أبواب الكتاب
بَابٌ: ذِكْرُ زُهْدِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِيثَارِهِ الْأَمْوَالَ عَلَى نَفْسِهِ، وَتَفْرِيقِهَا عَلَى الْمُخْفِينِ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذِ الْكَرَمُ طَبْعُهُ، وَالْبُلْغَةُ مِنْ شَأْنِهِ، وَالْقَنَاعَةُ سَجِيَّتُهُ، وَاخْتِيَارِهِ الْبَاقِي عَلَى الْفَانِي، وَأَنَّهُ مِنْ عَادَتِهِ أَلَا يَرُدَّ سَائِلًا، وَلَا يَمْنَعَ طَالِبًا، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ.
891 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا ابْنُ نُمَيْرٍ، نَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: غَيِّرُوا الشَّيْبَ وَلَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَالنَّصَارَى
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, খেযাব লাগানোর উদ্দেশ্য হলো বার্ধক্যের চিহ্ন দূর করা, যাতে কাফির সম্প্রদায় মুসলিমদের দুর্বল ও বৃদ্ধ ভাবতে না পারে।। এ ছাড়া আত্মিকভাবে কোন লোক যদি দেখতে পায় যে, তার মধ্যে বার্ধক্যের ছাপ সুস্পষ্ট হয়ে পড়েছে তখন সে উদ্দীপনা ও প্রেরণা হারিয়ে ফেলতে পারে কাজেই খেযাব লাগিয়ে তা পরিবর্তন সাধন করতে পারলে তার মানসিক দুর্বলতা কেটে যায়, অন্যরাও তাকে দুর্বল কিংবা বৃদ্ধ ভাবতে পারে না।
এ ছাড়া ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের সাথে সাদৃশ্য না রাখার জন্য খেযাব লাগানো উচিত । যারা ইসলামের দুশমন তাদের অনুকরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা, হাদীসে বলা হয়েছে من تشبه بقوم فهو منهم যে ব্যক্তি বিজাতীয়দের অনুকরণ করবে অর্থাৎ তাদের নিদর্শন, কৃষ্টি-কালচার ইত্যাদিতে সাদৃশ্য বজায় রাখবে সে ঐ জাতির অন্তর্গত। প্রতিটি জাতির নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে তারা অন্য জাতি থেকে পৃথক সত্তা ও স্বকীয়তা নিয়ে বেঁচে থাকে। আর সেজন্যে তারা নিজেদের সংস্কৃতিকে যত্নের সাথে লালন-পালন করে এবং তা নিয়ে গর্ববোধ করে থাকে। তারা বিজাতীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টি-কালচারকে নিজেদের মধ্যে আত্মস্থ করাকে লাঞ্ছনা ও অপমানকর মনে করে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, বর্তমান যুগের মুসলিমদের অবস্থা। তাদের মধ্যে এ চেতনাবোধ নেই। জীবনের কোন ক্ষেত্রেই আজ নিজেদের সংস্কৃতি ধরে রাখতে পারছে না। চলা-ফেরা, শোয়া-জাগা এবং খাওয়া পরা প্রতিটি বিষয়েই তারা বিজাতীয় অনুকরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। মহান আল্লাহ্ প্রদত্ত ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন বাদ দিয়ে আজ তারা বিজাতীয় মনগড়া সংস্কৃতির মরীচিকার দিকে ছুটে চলেছে। এটা নিছক ধ্বংস ও আত্মঘাতী প্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই নয়। মুসলিমগণ যদি নিজেদের সম্মান, মর্যাদা, অতীত গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের কথা জানতে পারতো আর নিজেদের জীবন সে আদর্শে গড়ে তুলতে পারতো তাহলে দু'জাহানের কামিয়াবী তারা হাসিল করতো।
এ ছাড়া ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের সাথে সাদৃশ্য না রাখার জন্য খেযাব লাগানো উচিত । যারা ইসলামের দুশমন তাদের অনুকরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা, হাদীসে বলা হয়েছে من تشبه بقوم فهو منهم যে ব্যক্তি বিজাতীয়দের অনুকরণ করবে অর্থাৎ তাদের নিদর্শন, কৃষ্টি-কালচার ইত্যাদিতে সাদৃশ্য বজায় রাখবে সে ঐ জাতির অন্তর্গত। প্রতিটি জাতির নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে তারা অন্য জাতি থেকে পৃথক সত্তা ও স্বকীয়তা নিয়ে বেঁচে থাকে। আর সেজন্যে তারা নিজেদের সংস্কৃতিকে যত্নের সাথে লালন-পালন করে এবং তা নিয়ে গর্ববোধ করে থাকে। তারা বিজাতীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টি-কালচারকে নিজেদের মধ্যে আত্মস্থ করাকে লাঞ্ছনা ও অপমানকর মনে করে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, বর্তমান যুগের মুসলিমদের অবস্থা। তাদের মধ্যে এ চেতনাবোধ নেই। জীবনের কোন ক্ষেত্রেই আজ নিজেদের সংস্কৃতি ধরে রাখতে পারছে না। চলা-ফেরা, শোয়া-জাগা এবং খাওয়া পরা প্রতিটি বিষয়েই তারা বিজাতীয় অনুকরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। মহান আল্লাহ্ প্রদত্ত ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন বাদ দিয়ে আজ তারা বিজাতীয় মনগড়া সংস্কৃতির মরীচিকার দিকে ছুটে চলেছে। এটা নিছক ধ্বংস ও আত্মঘাতী প্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই নয়। মুসলিমগণ যদি নিজেদের সম্মান, মর্যাদা, অতীত গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের কথা জানতে পারতো আর নিজেদের জীবন সে আদর্শে গড়ে তুলতে পারতো তাহলে দু'জাহানের কামিয়াবী তারা হাসিল করতো।