আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৮৭৬
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) পার্থিব বস্তুর প্রতি অনাসক্ত, ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের তুলনায় অপরকে প্রাধান্য দিতেন, দুর্বলদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করে দিতেন। দানশীলতা আর অল্পে তুষ্ট থাকা ছিলো তাঁর স্বভাবজাত গুণ। তিনি পার্থিব বস্তুর চাইতে পরকালীন বিষয়কে অধিক ভালবাসতেন। এ ছাড়া তিনি কোন যাঞ্চাকারীকে কখনোই খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না, কোন আবেদনকারীকেই নিষেধ করতেন না। আল্লাহ্ তাঁর উপর, তাঁর বংশধরদের উপর ও তাঁর মহীয়সী স্ত্রীদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
৮৭৬। আবূ হাযিম (র) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার সাহল ইব্‌ন সা'দ (রা)-কে জিজ্ঞেস করলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কি ময়দার রুটি খেয়েছেন? উত্তরে সাহল (রা) বললেন, না, আল্লাহ্ শপথ! মহান আল্লাহ্‌র সান্নিধ্যে যাবার পূর্ব পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ ময়দার রুটি দেখেন নাই। উক্ত সনদেই আবূ হাযিম ইব্‌ন দীনার (র) থেকে বর্ণিত, একদা তিনি সাহল ইব্‌ন সা'দ (রা)-কে জিজ্ঞেস করেন, সে সময়ে আপনাদের কাছে কি চালুনী ছিলো? তিনি বলেন, আল্লাহ্ শপথ! রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় আমি চালুনী দেখি নাই। তখন আমি (আবূ হাযিম) বললাম, তাহলে আপনারা যবের ভূষি কিভাবে ছাড়াতেন। আপনারা কি চালা ছাড়াই খেয়ে নিতেন? উত্তরে সাহল (রা) বললেন, আমরা মুখে ফুঁ দিতাম, যেগুলো উড়ে যাবার মতো, সেগুলো উড়ে যেতো, তারপর অবশিষ্ট আটা মাখিয়ে রুটি তৈরী করতাম।
أبواب الكتاب
بَابٌ: ذِكْرُ زُهْدِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِيثَارِهِ الْأَمْوَالَ عَلَى نَفْسِهِ، وَتَفْرِيقِهَا عَلَى الْمُخْفِينِ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذِ الْكَرَمُ طَبْعُهُ، وَالْبُلْغَةُ مِنْ شَأْنِهِ، وَالْقَنَاعَةُ سَجِيَّتُهُ، وَاخْتِيَارِهِ الْبَاقِي عَلَى الْفَانِي، وَأَنَّهُ مِنْ عَادَتِهِ أَلَا يَرُدَّ سَائِلًا، وَلَا يَمْنَعَ طَالِبًا، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ.
876 - حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الرَّازِيُّ، نَا أَبُو زُرْعَةَ، نَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَامِرِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، أَنَّهُ سَأَلَ سَهْلَ بْنَ سَعدٍ: هَلْ أَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّقِيَّ؟ فَقَالَ سَهْلٌ: لَا وَاللَّهِ، مَا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّقِيَّ حَتَّى لَقِيَ رَبَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَأَلَ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ، فَقُلْتُ: هَلْ كَانَتْ لَكُمْ مَنَاخِلُ؟ فَقَالَ: لَا، وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ مُنْخُلًا حَتَّى تَوَفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْتُ: كَيْفَ كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ بِالشَّعِيرِ؟ فَقَدْ كُنْتُمْ تَأْكُلُونَهُ، فَقَالَ سَهْلٌ: نَنْفُخُهُ فَيَطِيرُ مَا طَارَ، وَنَعْجِنُ مَا بَقِيَ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. এ হাদীসে সাদা আটা 'নকী' বলতে ময়দাকে বুঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনে কখনোই ময়দার রুটি খান নাই। কারণ ময়দাতো অভিজাত লোকদের খাবার। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুবই সাদাসিধে ও অনাড়ম্বর জীবন যাপন করতেন। যবের রুটি পাকানো হলেও তা চালা ছাড়াই আটা তৈরি করা হতো। মুখে ফুঁ দিয়ে ভূষি আবর্জনা উড়িয়ে দেয়া হতো।

২. এ হাদীছে হযরত সাহল ইবন সা'দ রাযি. আমাদের জানাচ্ছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত লাভের পর থেকে ওফাত পর্যন্ত কখনও মিহি আটার রুটি দেখেননি। নবুওয়াত লাভের আগে হয়তো দেখে থাকবেন। কেননা তখন তিনি একাধিকবার শাম এলাকায় সফর করেছেন। তখন শাম ছিল রোমানদের অধীন। তারা মিহি আটার রুটি খাওয়াতে অভ্যস্ত ছিল। কাজেই ওই এলাকায় যখন তিনি একাধিকবার গিয়েছেন, তখন ওখানে প্রচলিত খাবার-দাবারও তাঁর চোখে পড়ারই কথা।

হযরত সাহল রাযি. আরও বলছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত লাভের পর থেকে কখনও চালনি দেখেননি। তার মানে তিনি যে আটার রুটি খেতেন তা কখনও চালা হতো না। সাধারণত যবের রুটিই খেতেন। যব ভাঙানোর পর তার দানা গমের আটার মতো মিহি হয় না। সঙ্গে মোটা মোটা ভূসি থেকে যায়। ভুসিসহ সে আটা খাওয়া অনেক কঠিন। তাই প্রশ্ন জাগে, যদি না-ই চালা হয় তবে ভুসিসহ যবের আটা কিভাবে খাওয়া সম্ভব হতো? হযরত সাহল রাযি.-কে সে প্রশ্ন করাও হল। তিনি উত্তরে বললেন-
(আমরা তা পিষতাম, তারপর ফুঁ দিতাম। তাতে যা উড়ে যাওয়ার তা উড়ে যেত। তারপর যা বাকি থাকত তা পানিতে মিশিয়ে খেতাম)। বোঝাই যাচ্ছে চালনি দ্বারা চাললে যেমন সবটা ভূসি আলাদা হয়ে যায়, ফুঁ দেওয়ার দ্বারা তা কখনওই হতো না। আটার সঙ্গে অনেক ভুসি থেকেই যেত। সেই ভুসিযুক্ত যবের আটাই তাঁরা খেতেন। আজ কেউ তা খাবে না। খেলে তা হজমও হবে না। কিন্তু তাঁদের হজম হতো। তাঁরা কষ্টসহিষ্ণুতায় অভ্যস্ত ছিলেন। তাঁদের পক্ষে এসব সম্ভব ছিল। সম্ভব ছিল বলেই যে-কোনও পরিস্থিতি মানিয়ে নিতে পারতেন। অতি অল্প সময়ের ভেতর রোম, পারস্য, আফ্রিকা, স্পেন জয় করে ফেলার পেছনে সন্দেহ নেই এ কষ্টসহিষ্ণুতারও একটা ভূমিকা ছিল। আজ যে আমাদের দ্বারা তেমন কিছুই হয় না, বিলাসপ্রিয়তাও তার একটা কারণ বৈকি।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

পানাহারে কষ্টসহিষ্ণুতা ছিল নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের শান। আমাদেরও তা রপ্ত করা উচিত।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান