আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৮৪২
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) পার্থিব বস্তুর প্রতি অনাসক্ত, ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের তুলনায় অপরকে প্রাধান্য দিতেন, দুর্বলদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করে দিতেন। দানশীলতা আর অল্পে তুষ্ট থাকা ছিলো তাঁর স্বভাবজাত গুণ। তিনি পার্থিব বস্তুর চাইতে পরকালীন বিষয়কে অধিক ভালবাসতেন। এ ছাড়া তিনি কোন যাঞ্চাকারীকে কখনোই খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না, কোন আবেদনকারীকেই নিষেধ করতেন না। আল্লাহ্ তাঁর উপর, তাঁর বংশধরদের উপর ও তাঁর মহীয়সী স্ত্রীদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
৮৪২। হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন যে, আমি দুনিয়া থেকে নিরাশ আর দুনিয়াও আমার থেকে নিরাশ। কেননা আমাকে এমন সময় দুনিয়াতে পাঠানো হয়ছে যখন কিয়ামতকেও আমার সাথেই পাঠানো হয়েছে, আর আমরা তো উভয়ে পরস্পর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।
أبواب الكتاب
بَابٌ: ذِكْرُ زُهْدِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِيثَارِهِ الْأَمْوَالَ عَلَى نَفْسِهِ، وَتَفْرِيقِهَا عَلَى الْمُخْفِينِ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذِ الْكَرَمُ طَبْعُهُ، وَالْبُلْغَةُ مِنْ شَأْنِهِ، وَالْقَنَاعَةُ سَجِيَّتُهُ، وَاخْتِيَارِهِ الْبَاقِي عَلَى الْفَانِي، وَأَنَّهُ مِنْ عَادَتِهِ أَلَا يَرُدَّ سَائِلًا، وَلَا يَمْنَعَ طَالِبًا، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ.
842 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَمَّالُ، نَا أَبُو مَسْعُودٍ، نَا أَيُّوبُ بْنُ خَالِدٍ، نَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَئِسْتُ مِنَ الدُّنْيَا وَيَئِسَتْ مِنِي، إِنِّي بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ نَسْتَبِقُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
দুনিয়া থেকে নিরাশ মানে হলো, যেমন কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর মধ্যে কল্যাণকর কিছু না দেখে তার আশা পোষণ করে না, বরং তার কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে চায়, অনুরূপ পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও ধ্বংসশীলতা থেকে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি এবং দূরত্ব বজায় রাখতেন। এ সম্পর্কহীনতা ও অনাসক্তিকে নিরাশ শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। 'দুনিয়া আমার থেকে নিরাশ' এর অর্থ হলো, দুনিয়ার প্রতি আমার অনাসক্তি দেখে সেও আমার সাথে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। সে এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে পড়েছে যে, আমি তার সহযাত্রী ও সমমনা হতে পারবো না। দুনিয়ার নশ্বরতা ও ক্ষণস্থায়িত্ব এরূপ যে, কিয়ামত অতি নিকটে। আমাকে কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে পাঠানো হয়েছে যেন আমরা উভয়ে কে আগে যাব এরূপ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এ হাদীসের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হচ্ছে, দুনিয়া মন বসানোর ক্ষেত্র নয়। এটা ক্ষণস্থায়ী ও ধ্বংসশীল, পরকালীন জীবনই প্রকৃত জীবন ও চিরস্থায়ী। সুতরাং সে জীবন গঠন করতে সচেষ্ট হতে হবে। পরকালীন জীবনে কামিয়াবী হাসিল হলেই প্রকৃত সফলতা লাভ হবে। অধিকন্তু কিয়ামত এত কাছে যে, তা কখন সংঘটিত হয়ে যায় আমাদের জানা নেই। তাওবার দরজা কখন বন্ধ হয়ে যায় কে জানে? কাজেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাওবা ইস্তিগফার করে আল্লাহ্র সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা এবং পার্থিব সম্পর্ক ছিন্ন করা মানুষের উচিত