আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৮৪০
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) পার্থিব বস্তুর প্রতি অনাসক্ত, ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের তুলনায় অপরকে প্রাধান্য দিতেন, দুর্বলদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করে দিতেন। দানশীলতা আর অল্পে তুষ্ট থাকা ছিলো তাঁর স্বভাবজাত গুণ। তিনি পার্থিব বস্তুর চাইতে পরকালীন বিষয়কে অধিক ভালবাসতেন। এ ছাড়া তিনি কোন যাঞ্চাকারীকে কখনোই খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না, কোন আবেদনকারীকেই নিষেধ করতেন না। আল্লাহ্ তাঁর উপর, তাঁর বংশধরদের উপর ও তাঁর মহীয়সী স্ত্রীদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
৮৪০। হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর জীবন একাধারে তিনদিন গমের রুটি তৃপ্তির সাথে খেয়েছেন এমন সুযোগ আসেনি। আর আমরা তাঁর জন্য কখনই চালুনি দিয়ে আটা চেলে খাবার তৈরী করে দেইনি। এ অবস্থায় তিনি ইন্তিকাল করেন।
أبواب الكتاب
بَابٌ: ذِكْرُ زُهْدِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِيثَارِهِ الْأَمْوَالَ عَلَى نَفْسِهِ، وَتَفْرِيقِهَا عَلَى الْمُخْفِينِ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذِ الْكَرَمُ طَبْعُهُ، وَالْبُلْغَةُ مِنْ شَأْنِهِ، وَالْقَنَاعَةُ سَجِيَّتُهُ، وَاخْتِيَارِهِ الْبَاقِي عَلَى الْفَانِي، وَأَنَّهُ مِنْ عَادَتِهِ أَلَا يَرُدَّ سَائِلًا، وَلَا يَمْنَعَ طَالِبًا، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ.
840 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَارِثِ، نَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ، نَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ الْوَصَّافِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: مَا أَتَتْ عَلَيْهِ، تَعْنِي النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثَلَاثًا مُتَتَابِعًا، يَشْبَعُ فِيهَا مِنْ خُبْزِ بُرٍّ، وَلَا نَخَلْنَا لَهُ طَعَامًا حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস থেকে জানা যায়, আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারাটা জীবন অত্যন্ত দারিদ্র-পীড়িত অবস্থায় কাটিয়েছেন। একাধারে তিনদিন তিনি গমের রুটি পেটভরে খাননি। এমন কি চালুনি দিয়ে চালা আটার রুটিও তিনি খেতে পাননি, বরং আটাতে ফুঁ দিয়ে ভূষি উড়ানো হতো, অতপর সে আটার রুটি খেয়ে তিনি জীবন ধারণ করতেন। যেসব কাজে আভিজাত্য ও জাঁকজমকতা প্রকাশ পায় সে সব কিছুই তিনি পরিহার করতেন এবং সাদাসিধে জীবনকে বেছে নেন। কেননা, তিনি জানতেন যে, কয়েকদিনের পার্থিব জীবন তাঁর জন্য প্রকৃত স্থায়ী জীবন নয়; বরং পরকালীন জীবন হচ্ছে স্থায়ী ও অবিনশ্বর। সে জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করাই মুসলিমদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। কেননা সে জীবনের শান্তিই প্রকৃত শান্তি।