আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৮৩১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) পার্থিব বস্তুর প্রতি অনাসক্ত, ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের তুলনায় অপরকে প্রাধান্য দিতেন, দুর্বলদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করে দিতেন। দানশীলতা আর অল্পে তুষ্ট থাকা ছিলো তাঁর স্বভাবজাত গুণ। তিনি পার্থিব বস্তুর চাইতে পরকালীন বিষয়কে অধিক ভালবাসতেন। এ ছাড়া তিনি কোন যাঞ্চাকারীকে কখনোই খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না, কোন আবেদনকারীকেই নিষেধ করতেন না। আল্লাহ্ তাঁর উপর, তাঁর বংশধরদের উপর ও তাঁর মহীয়সী স্ত্রীদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
৮৩১। হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ইন্তিকালের সময় তিনি কোন দীনার দিরহাম রেখে যান নি। আর কোন গোলাম বাঁদীও রেখে যাননি। বরং তিনি যে বর্মটি দিয়ে যুদ্ধ করতেন তাও তিরিশ 'কফীয' যবের বিনিময়ে বন্ধক রেখে যান। ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, মুহাম্মাদ-এর পরিবারে এমন অনেক রাত কেটেছে, যখন তাঁরা রাতের খাবার গ্রহণের জন্যে কিছুই পান নাই।
أبواب الكتاب
بَابٌ: ذِكْرُ زُهْدِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِيثَارِهِ الْأَمْوَالَ عَلَى نَفْسِهِ، وَتَفْرِيقِهَا عَلَى الْمُخْفِينِ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذِ الْكَرَمُ طَبْعُهُ، وَالْبُلْغَةُ مِنْ شَأْنِهِ، وَالْقَنَاعَةُ سَجِيَّتُهُ، وَاخْتِيَارِهِ الْبَاقِي عَلَى الْفَانِي، وَأَنَّهُ مِنْ عَادَتِهِ أَلَا يَرُدَّ سَائِلًا، وَلَا يَمْنَعَ طَالِبًا، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ.
831 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْمَرْوَزِيُّ، نَا أَبُو بِلَالٍ الْأَشْعَرِيُّ، نَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، نَا هِلَالُ بْنُ خَبَّابٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: مَاتَ وَاللَّهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَا تَرَكَ دِينَارًا، وَلَا دِرْهَمًا، وَلَا عَبْدًا، وَلَا أَمَةً، تَرَكَ دِرْعَهُ الَّتِي كَانَ يُقَاتِلُ فِيهَا رَهْنًا عَلَى ثَلَاثِينَ قَفِيزًا مِنْ شَعِيرٍ. قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: وَاللَّهِ إِنْ كَانَ لَيَأْتِي عَلَى آلِ مُحَمَّدٍ اللَّيَالِي مَا يَجِدُونَ فِيهَا عَشَاءً

হাদীসের ব্যাখ্যা:

'কফীয' একটি পরিমাপ। যা দুই 'সা অর্থাৎ সাত সের হয়ে থাকে। তাই তিরিশ কফীয এক ওয়াসাকের সমান ।এ হাদীস থেকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাসিধে জীবন যাপন, আল্লাহ্‌র উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল, অল্পে তুষ্টি ও দারিদ্রের মাঝে জীবন যাপনের একটি ধারণা লাভ করা যায়। কেননা হাদীসের বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) তাঁর নিজের কথায় তা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর পরিবারের লোকজন এমন অনেক রাত অতিবাহিত করেছেন, যখন রাতের খাবার গ্রহণ করার মত তাদের কাছে কিছুই থাকতো না। এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, তিনি ও তাঁর পরিবার তাঁদের এ ক্ষুধা-দারিদ্রের ব্যাপারে এতই গোপনীয়তা অবলম্বন করতেন যে, কেউ তা উপলব্ধিও করতে পারতো না। কোন কোন সময় ক্ষুধার তীব্রতার কারণে তাঁর পেটে দু'দুটি পাথর বেঁধে রাখতেন। নতুবা এমন অনেক ধনী সাহাবী ছিলেন, যাদের কেউ কারো দুঃখ-কষ্টের কথা জানতে পারলেই অবিলম্বে তা দূর করতে সচেষ্ট হতেন। আর তাঁদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আহলে বায়তের দুঃখ-কষ্টের খবর শুনতে পারলে তো কথাই ছিল না। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্বাভাবিক নিয়ম ছিল যে, তিনি পরিবারের জন্য সারা বছরের খোরপোশ নির্ধারণ করতেন। একটি ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে উৎপাদিত সম্পদ থেকে তা প্রদান করে দিতেন। কিন্তু দানশীলতার মূর্ত প্রতীক মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের কাছে যা কিছু পেতেন সন্ধ্যা হবার পূর্বেই তা সাদাকা করে দিতেন এবং অভাবীদের হাতে পৌঁছে দিতেন। তিনি ক্ষুধার্ত থেকেও নিজের ওপর অপরকে প্রাধান্য দিতেন। যে কারণে অতি অল্প সময়ের মধ্যে ইসলাম সারা আরবে ছড়িয়ে পড়ে। ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ও ভালোবাসার বন্ধন হলো সুদৃঢ়। যার ফলে ধন-সম্পদের প্রাচুর্য ও কল্যাণে চতুর্দিক ভরপুর হয়ে উঠলো। কিন্তু বর্তমান যুগের মুসলিমগণ তাঁদের ঐতিহ্য, প্রেরণা ও নৈতিকতাকে পরিহার করেছে। এক মুসলিম অপর মুসলিমের খবর নেয় না; অপরের প্রতি সহমর্মিতা ও অপরকে প্রাধান্য দেওয়া তো দূরের কথা। যার ফলে আজ পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ, দুশমনী ও অকল্যাণপূর্ণ কাজ নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে । আল্লাহ্‌র শাস্তিও আপতিত হচ্ছে। মুসলিমদের মাঝ থেকে একতা ও শৃঙ্খলা দূরীভূত হয়েছে। একে অপরের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে না। ইসলামী শিক্ষা বাদ দিয়ে বিজাতীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তাদের প্রবল। যার কুফল আমাদের সামনেই সুস্পষ্ট। কিন্তু এখনো সময় আছে, তাওবার দরজা এখনো উন্মুক্ত। নিরাশ হলে চলবে না। কেননা, আল্লাহ্‌র রহমত থেকে নিরাশ হওয়া কুফরী। আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষাকে আত্মস্থ করতে হবে। ইসলামী ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরতে হবে। একতার বন্ধনকে সুদৃঢ় করে পরস্পর ভ্রাতৃত্ববোধ ও ভালবাসা সৃষ্টি করতে হবে। তাহলে সেদিন বেশি দূরে নয় যে, ইসলামী চেতনা ও ঐতিহ্যের সুবাতাস আবার বইতে শুরু করবে এবং মুসলমানদের বিজয় হবে সুনিশ্চিত। মহান আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে দীনের সঠিক সমঝ দান করুন।