আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৭৭১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) যে সব দিনে সফরে যাত্রা করতে ভালবাসতেন এবং সফর চলাকালীন সময়ে তাঁর আমলের বর্ণনা
৭৭১। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)র সোমবার ও বৃহস্পতিবারে সফরের জন্য যাত্রা করতেন।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ مَحَبَّتِهِ لِلْيَوْمِ الَّذِي يُسَافَرُ فِيهِ وَفِعْلِهِ فِي سَفَرِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
771 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ، نَا أَبُو زُرْعَةَ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ أُمَيَّةَ بْنِ آدَمَ الْقُرَشِيُّ، نَا عُثْمَانُ بْنُ الْمُخَارِقِ الْعَامِرِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَافَرُ فِي الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ.

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ইসলামী শরীয়ত যেভাবে মানুষের ছোট বড় সকল কাজকর্ম গুরুত্বের সঙ্গে দেখে থাকে তদ্রূপ মানুষের সফরকেও ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। ইসলামে সফরকালে বিশেষ দু'আ, বিভিন্ন আদাব, উপকারিতার বর্ণনা রয়েছে। একটি হাদীসে বলা হয়েছে যে, সফর করার অন্যতম উপকারিতা হলো শারীরিক সুস্থতা অর্জন। ইরশাদ হয়েছেঃ سافروا تصحوا তোমরা সফর কর, সফরের কারণে সুস্থ থাকবে। (তারতীবে মুসনাদে আমাদ)
সফরের জন্য যাত্রাকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত দু'আ পাঠ করতেনঃ اللهُم أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيْفَةُ فِي الأَهْلِ اللَّهُمَّ اصْحَبْنَا فِي سَفَرِنَا وَاخْلُفْنَا فِي أَهْلِنَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنْ وَعَثَاءِ السَّفَرِ وَكَابَةِ الْمُنْقَلَبِ وَمِنَ الْحَوْرِ بَعْدُ الْكَفْرِ وَمِنْ دَعْوَةَ المَظْلُومِ وَسُوءِ الْمَنْطَرِ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ - হে আল্লাহ! তুমিই এই সফরে আমাদের সঙ্গী এবং বাড়িঘরে আমাদের স্থলাভিষিক্ত প্রতিনিধি। (কাজেই তুমি আমাদের এবং আমাদের বাড়িঘর ও পরিবার-পরিজনের হেফাজত কর।) হে আল্লাহ! এ সফরে তুমি আমাদের সঙ্গে থাক আর আমাদের বাড়িঘরের ব্যাপারে আমাদের স্থলাভিষিক্ত প্রতিনিধিরূপে পরিণত হও। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সফরের দুঃখ-কষ্ট থেকে এবং সফর নিষ্ফল প্রত্যাবর্তন থেকে পানাহ্ চাই। আমি পানাহ্ চাই নিয়ামত লাভের পর হারিয়ে ফেলা থেকে, মযলুমের বদ্ দু'আ থেকে, এবং ফিরে এসে বাড়িঘর ও ধন-সম্পদের অপছন্দনীয় চিত্র দর্শন করা থেকে। (তিরমিযী শরীফ)
অনুরূপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন তখন নিম্নোক্ত দু'আ পাঠ করতেন ائبون تائبون عابدون لربنا حامدون "আমরা সফর থেকে প্রত্যাবর্তনকারী তাওবাকারী, ইবাদতকারী এবং আপন প্রভুর প্রশংসাকারী।”
হাদীস গ্রন্থগুলিতে মুসাফিরের জন্য বিভিন্ন নীতি, শিষ্টাচার, আদব, দু'আ ও হুকুম আহ্‌কাম বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সফর করার এ সকল দিক বিবেচনা করেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সফর করাকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখতেন। এমন কি সফর শুরু করার দিনটি তাঁর কাছে একটি প্রিয় দিন বিবেচিত ছিল। তাই সফরে যাত্রা করার জন্য নিজের কাছে বেশি প্রিয় ও বেশি পছন্দনীয় বারটি নির্ধারণ করতেন। সপ্তাহের দিনগুলির মধ্যে বৃহস্পতিবার ও সোমবার পৃথক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত এ দু'টি দিনকে সফর শুরুর জন্য মনোনীত করতেন। বৃহস্পতিবারের ফযীলত ও মর্যাদার কারণ হলো যেহেতু তার পরের দিনটি হলো শুক্রবার, যা মুসলিম সমাজের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিনরূপে বিবেচিত। আর সোমবার তাঁর কাছে এ কারণে প্রিয় ছিলো যে, এ বারেই তাঁর জন্ম হয়েছে ও এই পৃথিবীতে তাঁর আগমন ঘটেছে। এই বারেই তাঁর কাছে ওহী আগমনের সূচনা ঘটেছিলো । এই বারেই তিনি মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেছিলেন। এ সকল বৈশিষ্ট্যের নিরিখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সফরে যাত্রার জন্য এ বারদ্বয়কে অধিক পছন্দ করতেন। তবে কোন সন্দেহ নেই যে, বার, সময়, কাল ইত্যাদি একমাত্র আল্লাহ্ পাকেরই সৃষ্টি। এগুলির কোথাও কোন অশুভ নেই। হ্যাঁ, বিশেষ বিশেষ কোন কারণে কতিপয় বারকে অন্য কতিপয় বারের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে মাত্র । বিশেষত আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যে দিনগুলিকে পছন্দ করেছেন তাঁর আনুগত্যের নিরিখে সে দিনগুলি আমাদের কাছেও পছন্দনীয়।