আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৭৬৫
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ)-এর তাঁর সাহাবীদের সালামের জওয়াব দেওয়া
৭৬৫। মুহাম্মাদ ইব্‌ন সীরীন (রা) জাবির ইব্‌ন সুলায়ম হুজাইমী আবু জারী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, একবার আমি নবী (ﷺ)-এর সাক্ষাতে গেলাম। আমি তাঁর কাছে হাযির হয়ে বললাম : 'আস্‌সালামু আলাইকুম'। তিনি জবাবে বললেনঃ 'আস্‌সালামু আলাইকুম'।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ رَدِّهِ السَّلَامَ عَلَى أَصْحَابِهِ إِذَا سَلَّمُوا عَلَيْهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
765 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِدْرِيسَ، نَا بِشْرُ بْنُ مُسْلِمٍ الْحِمْصِيُّ، نَا الرَّبِيعُ بْنُ رَوْحٍ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ، عَنْ زِيَادٍ الْجَصَّاصِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، نَا جَابِرُ بْنُ سُلَيْمٍ الْهُجَيْمِيُّ أَبُو جَرَيٍّ، قَالَ: قَدِمْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَيْتُهُ، فَقُلْتُ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরোক্ত হাদীসের আলোকে বোঝা যায় যে, সালামের জবাব দেওয়া সুন্নত। এটিই হলো মুসলিমদের সামাজিক শিষ্টাচার। তারা একে অপরের সাক্ষাতের সময় সালাম বিনিময় করে থাকে। হাদীসে বলা হয়েছে, আগে সালাম দানকারী অধিক উত্তম, অধিক মর্যাদাবান ও রহমতে এলাহীর অধিক নিকটবর্তী। সালাম একটি দু'আ বিষয়ক বাক্য। সমাজে এ বাক্যের ব্যাপক চর্চার ফলে আল্লাহ্ পাকের রহমত ও অনুগ্রহ ব্যাপকভাবে বর্ষিত হয়। সালামের পরিপূর্ণ বাক্য হলো, 'আস্‌সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু'। বাক্যটির অর্থ হলোঃ তোমাদের উপর সর্বপ্রকারের নিরাপত্তা, আল্লাহ্ পাকের অনুগ্রহ ও বরকত বর্ষিত হোক। সুবহানাল্লাহ্! ভেবে দেখার বিষয় যে, সালামের এ বাক্যটি কত ব্যাপক ও পরিপূর্ণ। যিনি সালামের জবাব দিবেন তাকেও জবাবে এ শব্দগুলি পুরোপুরিভাবে বলা উচিত। অনুরূপ হাদীসে কেবল হাত উঁচিয়ে ইশারা করার মাধ্যমে সালাম দিতে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা, এ ভাবে সালাম দেওয়া ইয়াহুদীদের রীতি। তারা হাত কিংবা আঙুলের ইশারায় সালাম দিতো অথচ মুখে কিছুই বলতো না। ছোট-বড়, শিশু-বৃদ্ধ সকলকেই সালাম দেওয়া চাই। এমন কি যখন কেউ নিজগৃহে প্রবেশ করবে কিংবা নিজ গৃহ থেকে বের হবে তখনও তাকে সালামের বাক্য উচ্চারণ করতে হবে। এ ভাবে সালামের বাক্য উচ্চারণ করা হলে গৃহ থেকে বের হওয়া এবং পুনরায় গৃহে প্রত্যাবর্তন করা আল্লাহ পাকের নিরাপত্তার অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং তার উপর ও তার পরিবার-পরিজনের উপর আল্লাহ্‌র রহমত ও বরকত বর্ষিত হতে থাকবে। এক হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন السلام قبل الكلام কথাবার্তা শুরু করার পূর্বে সালাম করা চাই। সালাম দেওয়ার সময় কে, কাকে সালাম দিবে সে বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখাও সুন্নত। কোন বাহনে আরোহণকারী ব্যক্তি পায়ে চলা ব্যক্তিকে সালাম করবে; দণ্ডায়মান ব্যক্তি উপবিষ্টকে সালাম করবে। যদি কতিপয় মানুষ বড় কোন দলের পাশ দিয়ে যায় তখন ছোট দলের জন্য উচিত বড় দলকে সালাম করা। এভাবে শিশু ও অল্প বয়স্কদের উচিত বড়দেরকে সালাম করা। তবে যিনি আগে সালাম দিবেন তিনিই আল্লাহ্ পাকের নিকট অধিক প্রিয় ব্যক্তি।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান