আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৭৫৫
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাঁচি দেয়ার মুহূর্তে মহানবী (ﷺ)-এর কর্মনীতি
৭৫৫। হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর যখন হাঁচি আসতো তখন তিনি আওয়াজ (যথাসম্ভব) ছোট করতেন, হাঁচিকে একটি কাপড়ে নিয়ে নিতেন এবং নিজের সম্পূর্ণ চেহারা মুবারক ঢেকে ফেলতেন।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ فِعْلِهِ عِنْدَ عَطْسَتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
755 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْبَغَوِيُّ، نَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، نَا نَصْرُ بْنُ طَرِيفٍ الْبَاهِلِيُّ أَبُو جُزَيٍّ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا عَطَسَ خَفَضَ صَوْتَهُ، وَتَلَقَّاهَا بِثَوْبِهِ، وَخَمَّرَ وَجْهَهُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাঁচি আসা আল্লাহ পাকের নিকট একটি পছন্দনীয় জিনিস। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ আমলের মাধ্যমে হাঁচি দেওয়ার পদ্ধতি ও নিয়ম সম্পর্কে উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। এখানে সর্বপ্রথম নিয়ম হলো, হাঁচি দেওয়ার সময় আওয়াজ যথাসম্ভব ছোট করবে। প্রচণ্ড আওয়াজে হাঁচি দিবে না। দ্বিতীয় নিয়ম হলো হাঁচির ছিটানো পানির কণাগুলি একটি কাপড়ের উপর নিতে হবে। যাতে এগুলি এদিক সেদিক ছড়িয়ে পরিবেশ খারাপ করতে না পারে। তাছাড়া নিজের মুখমণ্ডল একটি কাপড়ের সাহায্যে এভাবে ঢেকে নিতে হবে যেন তার হাঁচিজনিত চেহারা অন্যজনের চোখে দৃষ্টিকটু না ঠেকে। বস্তুত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ অনুসারে হাঁচি দেওয়ার এ নিয়ম ও পদ্ধতিই হলো হাঁচির সর্বোত্তম পদ্ধতি। অনুরূপভাবে হাদীসে হাঁচি দানকারী ও হাঁচি শ্রবণকারী উভয়ের জন্য দু'আ পড়ার নির্দেশ বর্ণিত আছে। এমনকি হাঁচি দানকারী হাঁচি দেওয়ার পর যখন 'আলহামদুলিল্লাহ্' বলবে তখন তার 'আলহামদুলিল্লাহ্' কথাটি যারা শোনবে তাদের উপর জবাব দেওয়া আবশ্যক তথা ওয়াজিবে কিফায়া। হযরত আলী ইব্‌ন আবু তালিব (রা) থেকে বর্ণিত যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ একজন মুসলিমের জন্য অপর একজন মুসলিমের ছয়টি সদাচার ও কর্তব্য স্থির করা হয়েছে। যেমনঃ এক. একজন অপরজনের সাথে সাক্ষাৎ হলে সালাম করবে। দুই. একজন দাওয়াত করলে অন্যজন তা কবুল করবে। তিন. একজনের হাঁচি আসলে (সে যখন হাঁচি দিয়ে 'আলহামদুলিল্লাহ্' বলবে তখন) অন্যজন তার হাঁচির জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ্' বলবে। চার একজন পীড়াগ্রস্ত হলে অন্যজন তার শুশ্রূষা করবে। পাঁচ. একজন ইন্তিকাল করলে অন্যজন তার জানাযায় শরীক হবে। ছয়. একজন মুসলমান তার অপর মুসলমান ভাইয়ের জন্য সেই জিনিসই পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে থাকে।
অপর একটি হাদীসে হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ মহান আল্লাহ হাঁচি আসাকে পছন্দ করেন কিন্তু হাই তোলা পছন্দ করেন না। অতএব নিয়ম হলো, তোমাদের যখন কেউ হাঁচি দিয়ে الحمد لله বলবে তখন প্রত্যেক শ্রবণকারী ব্যক্তির উপর এ হাঁচির জবাবে يرحمك الله বলা আবশ্যক । পক্ষান্তরে যদি কারোর হাই আসতে চায় তখন সে যথা সম্ভব তা চেপে রাখার চেষ্টা করবে। মুখগহ্বর খুলে হা করে কখনো হাই তোলবে না। কেননা, হাই শয়তানের পক্ষ থেকে এসে থাকে। অর্থাৎ হাই তোলা শয়তানের নিকট খুবই প্রিয় কাজ। এর দ্বারা শয়তান আনন্দিত হয়। কেননা হাই তোলার ব্যাপারটি ব্যক্তির নিদ্রাভাব, আলস্য ও ঔদাসীন্যের পরিচয় বহন করে। (তিরমিযী শরীফ)
হাঁচি ও হাইতোলা উভয়ের মাঝে এহেন ব্যবধানের কারণ হলো যে, হাঁচির দ্বারা মস্তিষ্কের পরিচ্ছন্নতা ঘটে, মিজাজ ও প্রকৃতির জড়তা দূরীভূত হয়। এতে ব্যক্তির মানসিক স্বস্তি ও উৎফুল্লতা আসে। এর ফলে সে সজাগ মস্তিষ্ক নিয়ে কাজ করার সুযোগ পায়। তার জন্য আল্লাহকে স্মরণ করা এবং তাঁর নিদর্শনসমূহ গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করার পথ সহজ হয়। পক্ষান্তরে হাই তোলার বিষয়টি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। হাই তোলার দ্বারা মন-মিজাজ ও প্রকৃতির অলসতা ও জড়তা বৃদ্ধি পায়। পরিশেষে সেই ব্যক্তি উদাসীনতা ও অলসতার মধ্যে হারিয়ে যেতে থাকে। আল্লাহ্‌র স্মরণ থেকে সে গাফিল হয়ে যায়। অনেক সময় তার উপর নিদ্রা প্রবল হয়ে উঠে। এতে শয়তান অত্যন্ত আনন্দিত হয়। এ কারণেই হাঁচি দানকারীর জন্য নিয়ম হলো আল্লাহ্র এই নিয়ামত লাভের ফলে তার শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা আদায় করা। অন্যদিকে হাই আসতে চাইলে যথাসম্ভব তা চেপে রাখা। যেন শয়তান তার উপর প্রবল হতে না পারে।
হাঁচি দেওয়ার সময় তিনটি দু'আ পাঠ করা খুবই উত্তম কাজ এবং বরকতের বিষয়। হাঁচি দানকারীকে উচ্চৈঃস্বরে الحمد لله' বলতে হয়। যেন তার নিকটে যারা থাকে তারা তা শোনতে পায়। আবার এই 'আল হামদুলিল্লাহ্' শ্রবণকারীকে বলতে হয় يرحمك الله তারপর হাঁচিদানকারী তার জবাবে বলবে يهدينا ويهديكم الله আল্লাহ্ আমাদেরকে এবং তোমাদেরকে হিদায়াত দান করুন। যাতে মহান আল্লাহ্‌র রহমত সকল মুসলিমের উপর সমানভাবে বর্ষিত হয়।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান