আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৭৫২
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) এর রোগীর সেবা-শুশ্রূষা করার বর্ণনা
৭৫২। হযরত আনাস ইব্‌ন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রোগীর শুশ্রূষার জন্য তিনদিন পর তশরীফ নিয়ে যেতেন।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ عِيَادَتِهِ الْمَرِيضَ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
752 - حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، نَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، نَا مَسْلَمَةُ بْنُ عُلَيٍّ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَعُودُ الْمَرِيضَ إِلَّا بَعْدَ ثَلَاثٍ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

পীড়িত ও রোগীর সেবা-শুশ্রূষা করা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বরকতপূর্ণ একটি সুন্নত এবং মানবিক কর্তব্য পালনের সুন্দর একটি আদর্শ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল রোগীর সেবা-শুশ্রূষা করতেন। তাদের খোঁজ-খবর নিতেন। রোগী মুসলিম কিংবা অমুসলিম কিংবা কোন ক্রীতদাসই হোক তাঁর কাছে কোন পার্থক্য ছিল না। অনুরূপ রোগীদের সেবা-শুশ্রূষার কাজে তাঁর নিয়ম ছিল তিনি তৃতীয় দিনে রোগীর সাক্ষাতে যেতেন। এটি খুবই ভারসাম্যপূর্ণ একটি নিয়ম। কেননা তৃতীয় দিনে সাক্ষাত করার দ্বারা একদিকে যেমন রোগীর উপর বারবার যাতায়াত জনিত কষ্ট অনুভূত হয় না, তেমনি অন্যদিকে শুশ্রূষাকারীর জন্যও নিয়মটি বোঝামুক্ত ও সহজ হয়ে থাকে। তাছাড়া তৃতীয় দিনে রোগের মধ্যেও কিছু না কিছু তফাৎ এসে যায়। বস্তুত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সবকটি নিয়মই ছিল পরম বিজ্ঞতা, উপকারিতা ও ভারসাম্যের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত।
একটি হাদীসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ একজন মুসলিমের উপর অন্য মুসলিমের পাঁচটি কর্তব্য রয়েছে। এক. সালামের জবাব দেয়া, দুই. রোগীর সেবা-শুশ্রূষা করা, তিন. জানাযার সঙ্গে চলা, চার. দাওয়াত কবূল করা, পাঁচ. হাঁচির জবাব দেয়া। (মিশকাত)
হযরত আবূ মূসা আশআরী (রা)-এর সূত্রে অপর একটি হাদীসে বর্ণিত আছে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা ক্ষুধার্তদের আহার দাও, পীড়িতদের সেবা-শুশ্রূষা কর এবং বন্দী ব্যক্তিদের (অর্থ সাহায্য করে) মুক্তির ব্যবস্থা কর। (মিশকাত)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান