আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৭৪৪
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ)-এর উপহার গ্রহণ করা এবং তার প্রতিদান দেওয়ার বর্ণনা
৭৪৪। হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি যদি বকরীর একটি বাহুর জন্যও আমন্ত্রিত হই তাহলেও আমি সাড়া দেবো। আর আমাকে বক্রীর পাও যদি হাদিয়া দেয়া হয় তাও আমি গ্রহণ করবো।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ قَبُولِهِ الْهَدِيَّةَ وَإِثَابَتِهِ عَلَيْهَا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
744 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْوَلِيدِ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ آدَمَ الْمِصِّيصِيُّ، نَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَوْ دُعِيتُ إِلَى ذِرَاعٍ لَأَجَبْتُ، وَلَوْ أُهْدِيَ إِلَيَّ كُرَاعٌ لَقَبِلْتُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. দাওয়াত রক্ষা করা বা উপহার গ্রহণ করার মূল উদ্দেশ্য কোন জিনিস নয় বরং দাওয়াতদাতা বা উপহার দাতার সন্তুষ্টিই মূল উদ্দেশ্য। এ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সেই পবিত্র অভ্যাসের কথা ব্যক্ত করে বলেছেন যে, আপ্যায়নের উপকরণ বেশি না কম কিংবা উপহার সামগ্রী অতি মূল্যবান না সামান্য মূল্যের তা আমি দেখি না। বরং দাওয়াতদাতা বা উপহার দাতার সন্তুষ্টির জন্য আমি তা গ্রহণ করে থাকি।
২. একদিন হযরত উম্মু হাকীম বিনত ওয়াদি' রাযি. জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি হাদিয়া অপসন্দ করেন? এর উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাদিয়া প্রত্যাখ্যান করা কতইনা মন্দ কাজ। তারপর তিনি আলোচ্য হাদীছটি ইরশাদ করেন। হাদীছটিতে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যদি ছাগলের খুর বা বাহুর মতো অতি সাধারণ জিনিস খাওয়ানোর জন্যও দাওয়াত করা হয়, তবে তিনি তা অবশ্যই কবুল করবেন। এমনিভাবে তাঁকে যদি এরূপ জিনিস হাদিয়াও দেওয়া হয়, তাও তিনি অবশ্যই গ্রহণ করবেন। كراع এর অর্থ খুর। অর্থাৎ গবাদি পশুর পায়ের একদম নিম্নাংশ। ذراع এর অর্থ বাহু। বোঝানো হচ্ছে, হাদিয়া বা দাওয়াতের খাদ্য যত সাধারণই হোক না কেন, তা অবশ্যই গ্রহণ করা চাই। তুচ্ছ বলে প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়।
এ হাদীছটি দ্বারা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম চরিত্র ও বিনয়ের পরিচয় মেলে। তিনি মানুষের আন্তরিকতাপূর্ণ কাজকর্মের খুবই মূল্যায়ন করতেন। হাদিয়ার বস্তু তুচ্ছ বলে অবজ্ঞা করতেন না। যে-কেউ তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য দাওয়াত করত, তিনি তাতে সাড়া দিতেন, যদিও জানতে পারতেন সে দাওয়াতে অতি সাধারণ বস্তু খাওয়ানো হবে।
বস্তুত কাউকে দাওয়াত করাই হয় মহব্বতের কারণে। তাই দাওয়াত কবুল করলে দাওয়াতদাতা খুব খুশি হয়। এর দ্বারা উভয়পক্ষের মধ্যে মহব্বত গভীর হয়। তাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াত কবুল করতে উৎসাহ দিয়েছেন। এমনকি এক হাদীছে দাওয়াত কবুল করাকে মুসলিম ভাইয়ের হক সাব্যস্ত করেছেন।
এমনিভাবে হাদিয়ার লেনদেন দ্বারাও পারস্পরিক মেলবন্ধন মজবুত হয়। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও হাদিয়া গ্রহণ করতেন। কোনও মুমিন-মুসলিমের হাদিয়া যত তুচ্ছই হোক না কেন, প্রত্যাখ্যান করতেন না। আমাদেরকেও পরস্পরের মধ্যে হাদিয়া বিনিময় করতে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন-
تَهَادَوْا تَحَابُّوا
তোমরা পরস্পরে হাদিয়া বিনিময় করো। তাতে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে।(বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ১১৯৪৬; বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ: ৫৯৪; মুসনাদে আবু ইয়া'লা: ৬১৪৮; তাবারানী, আল মু'জামুল আওসাত: ৭২৪০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৬১২)
হাদিয়া প্রদানে যেহেতু ভালোবাসার ভূমিকা থাকে, তাই হাদিয়ার বস্তু তুচ্ছ হলেও তা প্রত্যাখ্যান করতে নিষেধ করা হয়েছে। এক হাদীছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
يَا نِسَاءَ الْمُسْلِمَاتِ ! لَا تَحْقِرَنَّ جَارَةٌ لِجَارَتِهَا وَلَوْ فِرْسِنَ شَاةٍ
হে মুসলিম নারীগণ! কোনও প্রতিবেশী যেন আপন প্রতিবেশিনীর জন্য তুচ্ছ মনে না করে (সামান্য হাদিয়াকেও), যদিও তা বকরীর খুর হয়।(সহীহ বুখারী: ২৫৬৬; সহীহ মুসলিম: ১০৩০; জামে তিরমিযী: ২১৩০; মুসনাদে আহমাদ: ৭৫৮১)
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. দাওয়াত কবুল করা সুন্নত। দাওয়াতে শরী'আতবিরোধী কোনও উপলক্ষ্য না থাকলে তা অবশ্যই গ্রহণ করা চাই।
খ. গরীব ব্যক্তির দাওয়াতকে হেলা করতে নেই।
গ. দাওয়াতে অতি সাধারণ খাবার খাওয়ানো হবে বলে জানা থাকলেও তাতে অনাগ্রহ দেখাতে নেই।
ঘ. হাদিয়া গ্রহণ করা সুন্নত।
ঙ. হাদিয়ার বস্তু তুচ্ছ হলেও তা প্রত্যাখ্যান করতে নেই।
২. একদিন হযরত উম্মু হাকীম বিনত ওয়াদি' রাযি. জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি হাদিয়া অপসন্দ করেন? এর উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাদিয়া প্রত্যাখ্যান করা কতইনা মন্দ কাজ। তারপর তিনি আলোচ্য হাদীছটি ইরশাদ করেন। হাদীছটিতে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যদি ছাগলের খুর বা বাহুর মতো অতি সাধারণ জিনিস খাওয়ানোর জন্যও দাওয়াত করা হয়, তবে তিনি তা অবশ্যই কবুল করবেন। এমনিভাবে তাঁকে যদি এরূপ জিনিস হাদিয়াও দেওয়া হয়, তাও তিনি অবশ্যই গ্রহণ করবেন। كراع এর অর্থ খুর। অর্থাৎ গবাদি পশুর পায়ের একদম নিম্নাংশ। ذراع এর অর্থ বাহু। বোঝানো হচ্ছে, হাদিয়া বা দাওয়াতের খাদ্য যত সাধারণই হোক না কেন, তা অবশ্যই গ্রহণ করা চাই। তুচ্ছ বলে প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়।
এ হাদীছটি দ্বারা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম চরিত্র ও বিনয়ের পরিচয় মেলে। তিনি মানুষের আন্তরিকতাপূর্ণ কাজকর্মের খুবই মূল্যায়ন করতেন। হাদিয়ার বস্তু তুচ্ছ বলে অবজ্ঞা করতেন না। যে-কেউ তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য দাওয়াত করত, তিনি তাতে সাড়া দিতেন, যদিও জানতে পারতেন সে দাওয়াতে অতি সাধারণ বস্তু খাওয়ানো হবে।
বস্তুত কাউকে দাওয়াত করাই হয় মহব্বতের কারণে। তাই দাওয়াত কবুল করলে দাওয়াতদাতা খুব খুশি হয়। এর দ্বারা উভয়পক্ষের মধ্যে মহব্বত গভীর হয়। তাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াত কবুল করতে উৎসাহ দিয়েছেন। এমনকি এক হাদীছে দাওয়াত কবুল করাকে মুসলিম ভাইয়ের হক সাব্যস্ত করেছেন।
এমনিভাবে হাদিয়ার লেনদেন দ্বারাও পারস্পরিক মেলবন্ধন মজবুত হয়। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও হাদিয়া গ্রহণ করতেন। কোনও মুমিন-মুসলিমের হাদিয়া যত তুচ্ছই হোক না কেন, প্রত্যাখ্যান করতেন না। আমাদেরকেও পরস্পরের মধ্যে হাদিয়া বিনিময় করতে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন-
تَهَادَوْا تَحَابُّوا
তোমরা পরস্পরে হাদিয়া বিনিময় করো। তাতে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে।(বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ১১৯৪৬; বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ: ৫৯৪; মুসনাদে আবু ইয়া'লা: ৬১৪৮; তাবারানী, আল মু'জামুল আওসাত: ৭২৪০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১৬১২)
হাদিয়া প্রদানে যেহেতু ভালোবাসার ভূমিকা থাকে, তাই হাদিয়ার বস্তু তুচ্ছ হলেও তা প্রত্যাখ্যান করতে নিষেধ করা হয়েছে। এক হাদীছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
يَا نِسَاءَ الْمُسْلِمَاتِ ! لَا تَحْقِرَنَّ جَارَةٌ لِجَارَتِهَا وَلَوْ فِرْسِنَ شَاةٍ
হে মুসলিম নারীগণ! কোনও প্রতিবেশী যেন আপন প্রতিবেশিনীর জন্য তুচ্ছ মনে না করে (সামান্য হাদিয়াকেও), যদিও তা বকরীর খুর হয়।(সহীহ বুখারী: ২৫৬৬; সহীহ মুসলিম: ১০৩০; জামে তিরমিযী: ২১৩০; মুসনাদে আহমাদ: ৭৫৮১)
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. দাওয়াত কবুল করা সুন্নত। দাওয়াতে শরী'আতবিরোধী কোনও উপলক্ষ্য না থাকলে তা অবশ্যই গ্রহণ করা চাই।
খ. গরীব ব্যক্তির দাওয়াতকে হেলা করতে নেই।
গ. দাওয়াতে অতি সাধারণ খাবার খাওয়ানো হবে বলে জানা থাকলেও তাতে অনাগ্রহ দেখাতে নেই।
ঘ. হাদিয়া গ্রহণ করা সুন্নত।
ঙ. হাদিয়ার বস্তু তুচ্ছ হলেও তা প্রত্যাখ্যান করতে নেই।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)