আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৭১৮
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ)-এর দাঁড়িয়ে ও বসে পানি পান করার বর্ণনা
৭১৮। আয়েশা বিন্ত সাদ তাঁর পিতা সা'দ (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে দাঁড়িয়ে পান করতে দেখেছি।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ شُرْبِهِ قَائِمًا وَقَاعِدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
718 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ الْخَالِقِ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، صَاحِبُ السَّابِرِيِّ، نَا إِسْحَاقُ الْفَرْوِيُّ، حَدَّثَتْنِي عُبَيْدَةُ بِنْتُ نَايِلٍ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهَا، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَشْرَبُ قَائِمًا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এসব হাদীস থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক দাঁড়িয়ে এবং বসে উভয় প্রকারে পান করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ গ্রন্থে উদ্ধৃত অধিকাংশ হাদীসই দাঁড়িয়ে পান করার সপক্ষে। পক্ষান্তরে অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে বিপুল সংখ্যক এমন হাদীস আছে যেখানে দাঁড়িয়ে পানি পান করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। হাদীস বিশেষজ্ঞগণ এ সব হাদীসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করার জন্য ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে, দাঁড়িয়ে পানি পান করার হাদীসগুলো ইসলামের প্রাথমিক যুগের। এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে পরে। সুতরাং দাঁড়িয়ে পানি পান করা সম্পর্কিত হাদীসগুলো 'মানসূখ' (রহিত) হয়ে গিয়েছে। এসব হাদীসের ব্যাখ্যা এভাবেও করা যেতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে বৈধতা বর্ণনার জন্য কোন কোন সময় দাঁড়িয়ে পানি পান করেছেন। এ ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা বর্ণনা করা হয়েছে তা হারামসূচক নির্দেশনা নয়, বরং পানাহারের নিয়ম হিসেবে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দাঁড়িয়ে পানি পান করাকে শুধু উত্তম নিয়ম-নীতি পরিত্যাগ বা 'মাকরূহ' বলা যেতে পারে।
আল্লামা ইব্ন কাইয়িম (রা) দাঁড়িয়ে পানি পান করার অনেক ক্ষতির কথা উল্লেখ করছেন। যার কয়েকটি হলোঃ দাঁড়িয়ে পান করার প্রথম ক্ষতি হচ্ছে, এভাবে পানি পান করাতে পূর্ণ তৃপ্তি লাভ করা যায় না, পিপাসার অনুভূতি অবশিষ্ট থেকে যায়। দ্বিতীয় ক্ষতি হচ্ছে, এভাবে পান করাতে পানি পাকস্থলীতে গিয়ে জমতে পারে না, বরং পরক্ষণেই নিচের দিকে নেমে যায়। এতে যে সব অঙ্গের পানির প্রয়োজন সে সব অঙ্গ পানি থেকে বঞ্চিত হয়। তৃতীয় ক্ষতি হচ্ছে, দাঁড়িয়ে পানি পান করায় তা অতি দ্রুত পাকস্থলীতে পৌঁছে যায় যার কারণে পাকস্থলীর উষ্ণতা হ্রাস পাওয়ার আশংকা দেখা দেয়। এটা স্বাস্থ্যের জন্য বড় রকম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে হঠাৎ মাঝেমধ্যে এরূপ করায় কোনো ক্ষতি নেই।
আল্লামা ইব্ন কাইয়িম (রা) দাঁড়িয়ে পানি পান করার অনেক ক্ষতির কথা উল্লেখ করছেন। যার কয়েকটি হলোঃ দাঁড়িয়ে পান করার প্রথম ক্ষতি হচ্ছে, এভাবে পানি পান করাতে পূর্ণ তৃপ্তি লাভ করা যায় না, পিপাসার অনুভূতি অবশিষ্ট থেকে যায়। দ্বিতীয় ক্ষতি হচ্ছে, এভাবে পান করাতে পানি পাকস্থলীতে গিয়ে জমতে পারে না, বরং পরক্ষণেই নিচের দিকে নেমে যায়। এতে যে সব অঙ্গের পানির প্রয়োজন সে সব অঙ্গ পানি থেকে বঞ্চিত হয়। তৃতীয় ক্ষতি হচ্ছে, দাঁড়িয়ে পানি পান করায় তা অতি দ্রুত পাকস্থলীতে পৌঁছে যায় যার কারণে পাকস্থলীর উষ্ণতা হ্রাস পাওয়ার আশংকা দেখা দেয়। এটা স্বাস্থ্যের জন্য বড় রকম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে হঠাৎ মাঝেমধ্যে এরূপ করায় কোনো ক্ষতি নেই।