আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৬৭৫
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) কদু খেয়েছেন এবং তা খুবই পছন্দ করতেন
৬৭৫। হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তাজা খেজুরের সাথে খরবুযা মিশিয়ে খেতেন।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ أَكْلِهِ لِلْقَرْعِ وَمَحَبَّتِهِ لَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
675 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ الْفَارِسِيُّ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، نَا أَبُو الْجَوَّابِ، نَا قَيْسٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ الْبِطِّيخَ بِالرُّطَبِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উল্লেখিত হাদীসসমূহ থেকে জানা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খরবুযা অথবা শসা মিলিয়ে খেজুর আহার করতেন। অপর একটি রেওয়ায়াতে অন্য ফলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কোন কোন হাদীসে একত্রে মিলিয়ে আহার করার উদ্দেশ্য ও উপকারিতার উল্লেখ পাওয়া যায়। বস্তুত খেজুর একটি উষ্ণ ক্রিয়ার ফল। তার এই উষ্ণ ক্রিয়াকে দূরীভূত করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খরবুযা অথবা শসা মিলিয়ে আহার করতে পছন্দ করতেন। এতে একটি অপরটির মূল ক্রিয়া হ্রাস করে থাকে। একটি হাদীসে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, খেজুর খরবুযার ঠাণ্ডাকে বিদূরীত করে। এ ছাড়াও খেজুর ও খরবুযা একত্রে মিলিয়ে আহার করার আরো উপকারিতা রয়েছে। যেমন আজকাল লোকেরা পানসে ফলকে চিনি মিশ্রিত করে আহার করে থাকে। তেমনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খরবুযা ও শসার মধ্যে মিষ্টি স্বাদ গ্রহণ করার জন্য খেজুর মিশিয়ে আহার করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের স্বভাব ও খাদ্যের গুণাগুণের প্রতিও বিশেষ লক্ষ্য রাখতেন। অনুরূপ স্বাস্থ্যগত নিয়ম-নীতির প্রতিও সজাগ দৃষ্টি রাখতেন। তিনি উষ্ণ ক্রিয়ার খাদ্য বস্তুকে ঠাণ্ডা বস্তু মিশ্রিত করে আহার করার নির্দেশ দিতেন। কেননা, এর দ্বারা গরম ও ঠাণ্ডার মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি হয়ে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হয়। তাবারানীর মুজামে আওসাত নামক গ্রন্থে একটি হাদীসে উল্লেখ আছে যে, হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন জাফর (রা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডান হাতে শসা এবং বাম হাতে খেজুর আহার করতে আমি দেখেছি। একবার শসা খাচ্ছেন আরেকবার খেজুর খাচ্ছেন। একটি দুর্বল সনদের হাদীসে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লবণ দিয়ে শসা খেয়েছেন। বস্তুত এতে কোন দোষ নেই। এ দ্বারা স্বাদ পরিবর্তন করার মানসে হয়তো কোন সময় লবণ দিয়ে খেয়েছেন, যেমন আজকাল সাধারণভাবে লোকেরা লবণ দিয়ে শসা খায়।