আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৫৫১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রাতে, ঘুমের সময়, ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে এবং বিছানা ত্যাগের সময় যে আমল করতেন
৫৫১। হুযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত, একদা তিনি নবী (ﷺ)-এর খেদমতে উপস্থিত হলেন, যখন তিনি তাঁর রাতের (তাহাজ্জুদ) সালাতে দাঁড়ালেন, তিনি শুরু করে বললেনঃ “আল্লাহু আকবার যুল মালাকূতি ওয়াল-জাবারূতি ওয়াল-কিবরিয়া ওয়াল-আযমাহ।” তারপর তিনি (সূরা ফাতিহাসহ) সূরা বাকারা তিলাওয়াত করলেন, এরপর রুকু করলেন। তিনি দাঁড়ানোর প্রায় সমপরিমাণ সময় রুকুতে থাকলেন। তিনি রুকুতে পড়তেন, “সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম।” তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে রুকূতে অবস্থানের সমপরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং বলতেনঃ “আমার প্রভুর জন্য সমস্ত প্রশংসা।” অতঃপর তিনি সিজ্দা করতেন এবং সিজ্দায়ও তাঁর দাঁড়ানোর প্রায় সমপরিমাণ সময় অবস্থান করতেন। তিনি সিজ্দারত অবস্থায় বলতেনঃ “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা”। অতঃপর তিনি সিজ্দা থেকে মাথা তুলতেন। তিনি দুই সিজ্দার মাঝখানে সিজ্দার প্রায় সমপরিমাণ সময় অতিবাহিত করতেন এবং বলতেনঃ “রাব্বিগফিরলী”। এভাবে তিনি চার রাকআত সালাত পড়লেন এবং তাতে সূরা বাকারা, সূরা আলে ইমরান, সূরা নিসা ও সূরা মায়িদা তিলাওয়াত করলেন।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ فِعْلِهِ فِي لَيْلَتِهِ، وَفَى فِرَاشِهِ، وَعِنْدَ انْتِبَاهِهِ مِنْ نَوْمِهِ، وَعِنْدَ قِيَامِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
551 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْمَرْوَزِيُّ، نَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، نَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حَمْزَةَ، رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ، يُحَدِّثُ رَجُلًا مِنْ بَنِي عَبْسٍ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّهُ انْتَهَى إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ قَامَ فِي صَلَاتِهِ مِنَ اللَّيْلِ فَلَمَّا دَخَلَ فِي الصَّلَاةِ، قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ ذُو الْمَلَكُوتِ وَالْجَبَرُوتِ، وَالْكِبْرِيَاءِ، وَالْعَظَمَةِ، ثُمَّ قَرَأَ الْبَقَرَةَ، ثُمَّ رَكَعَ، وَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ، وَكَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ: سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ، وَكَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ قَامَ قَدْرَ مَا رَكَعَ، وَكَانَ يَقُولُ: لِرَبِّيَ الْحَمْدُ، ثُمَّ سَجَدَ، وَكَانَ سُجُودُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ، يَقُولُ فِي سُجُودِهِ: سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، وَكَانَ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ نَحْوٌ مِنْ سُجُودِهِ، يَقُولُ: رَبِّ اغْفِرْ لِي، فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ يَقْرَأُ فِيهِنَّ الْبَقَرَةَ وَآل عِمْرَانَ وَالنِّسَاءَ وَالْمَائِدَةَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উপরোক্ত হাদীস থেকে জানা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত বিনয়, নম্রতা, ভীতি-বিহ্বলতা, ভারসাম্য ও প্রশান্তি সহকারে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন এবং কিরাআত, রুকূ ও সিজ্দাও দীর্ঘায়িত করতেন। রাতের নীরবতার মধ্যে তিনি রাব্বুল আলামীনের নিকট প্রার্থনা করতেন। রাতের এই ইবাদতের দ্বারা যে নূর, বরকত ও স্বাদ অর্জন করা যায় তার কিছু খবর কেবল সেসব লোকই জানেন যাঁরা রাত্রিজাগরণের মাধ্যমে তা লাভ করতে পেরেছেন। শায়খ আবদুল কাদির জীলানী (র) এক কবিতায় এর কিছু বর্ণনা প্রদান করেছেন: زنگہ کہ يا فتم خبرازملک نيم شب + من ہلک نيمروز بيک جونمی خرم
আল্লাহ্র সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন রাতের নির্জনতায় তাহাজ্জুদ সালাত, প্রার্থনা, যিকির আযকার ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমেই সম্ভব। বলতে গেলে এগুলো তাহাজ্জুদের সালাত-এর পূর্বশর্ত। মহান আল্লাহ্ কোন লোককে কিছু দিতে চাইলে তাকে এই সালাত পড়ারও তৌফীক দান করেন ।
আল্লামা ইকবাল (র) বলেনঃ عطار ھو رومی ھورازی ھوکہ غزالی + کچہ ھاتہ نھین اتاہے اہسحرگاہی
“চাহে তুমি আত্তার হও, রূমী ও রাযী হও কিংবা গাযালী হও কিন্তু শেষ রাতের ক্রন্দন ছাড়া কোন কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়।” আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের সবাইকে তাহাজ্জুদের সালাতের তাওফীক দান করুন।
আল্লাহ্র সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন রাতের নির্জনতায় তাহাজ্জুদ সালাত, প্রার্থনা, যিকির আযকার ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমেই সম্ভব। বলতে গেলে এগুলো তাহাজ্জুদের সালাত-এর পূর্বশর্ত। মহান আল্লাহ্ কোন লোককে কিছু দিতে চাইলে তাকে এই সালাত পড়ারও তৌফীক দান করেন ।
আল্লামা ইকবাল (র) বলেনঃ عطار ھو رومی ھورازی ھوکہ غزالی + کچہ ھاتہ نھین اتاہے اہسحرگاہی
“চাহে তুমি আত্তার হও, রূমী ও রাযী হও কিংবা গাযালী হও কিন্তু শেষ রাতের ক্রন্দন ছাড়া কোন কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়।” আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের সবাইকে তাহাজ্জুদের সালাতের তাওফীক দান করুন।