আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৫৪০
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রাতে, ঘুমের সময়, ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে এবং বিছানা ত্যাগের সময় যে আমল করতেন
৫৪০। নবী (ﷺ)-এর একজন সাহাবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক সফরে নবী (ﷺ)-এর সাথে সাক্ষাত করলাম। আমি (মনে মনে) বললাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কিভাবে সালাত পড়েন, তা আজ সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করবো। এরপর নবী (ﷺ) সালাত পড়ে শুয়ে পড়লেন। রাতের কিছু অংশ নিদ্রা যাওয়ার পর তিনি ঘুম থেকে জাগলেন এবং আসমানের দিকে দৃষ্টিপাত করে (এই আয়াত) পড়লেনঃ “হে আমাদের প্রতিপালক। তুমি এটা নিরর্থক সৃষ্টি করোনি, তুমি পবিত্র, তুমি আমাদেরকে দোযখের শাস্তি থেকে রেহাই দাও। হে আমাদের প্রতিপালক! কাউকে তুমি দোযখে নিক্ষেপ করলে তাকে তুমি নিশ্চয়ই লাঞ্ছিত করলে এবং যালিমদের কোন সাহায্যকারী নাই। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা এক আহবানকারীকে ঈমানের দিকে আহবান করতে শুনেছি ‘তোমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান আনো’ । অতএব আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের পাপ ক্ষমা করো, আমাদের মন্দ কাজগুলো দূরীভূত করো এবং আমাদেরকে সৎকর্মশীল লোকদের অন্তর্ভুক্ত করে মৃত্যু দিও। হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে যা দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছ তা আমাদের দান করো এবং কিয়ামতের দিন আমাদেরকে লাঞ্ছিত করো না। তুমি প্রতিশ্রুতির খিলাফ করো না” (সূরা আল ইমরানঃ ১৯২-১৯৪)। সাহাবী বলেন, অতপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর হাত মুবারক তাঁর থলের দিকে বাড়ালেন এবং তা থেকে মিস্ওয়াক বের করলেন, অতপর মশ্ক থেকে ওযূর পাত্রে পানি ঢাললেন, অতপর হাতে পানি ঢাললেন, অতপর ওযূ করলেন, তারপর দাঁড়ালেন এবং সালাত পড়লেন। সাহাবী বলেন, এমনকি আমি (মনে মনে) বললাম, তিনি যতক্ষণ ঘুমিয়েছিলেন ঠিক ততক্ষণ নামায পড়লেন। অতপর সালাম ফিরালেন তারপর শুয়ে পড়লেন এবং ঘুমিয়ে গেলেন । এমনকি আমি বলছিলাম, নবী (ﷺ) যতক্ষণ সালাত পড়েছেন ততক্ষণ ঘুমিয়েছেন। তিনি পুনরায় ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে প্রথমবারের মত আমল করলেন। তারপর আসমানের দিকে তাকালেন। এবারও তাঁর কুরআন তিলাওয়াত, মিস্ওয়াক এবং সালাত আদায় প্রথমবারের অনুরূপ ছিলো। ঘুমানোর ক্ষেত্রেও তিনি পূর্বের অনুরূপ করলেন, সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি জাগলেন এবং প্রথমবাবের অনুরূপ আমল করলেন। তিনি তিনবার এইরূপ আমল করছেন।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ فِعْلِهِ فِي لَيْلَتِهِ، وَفَى فِرَاشِهِ، وَعِنْدَ انْتِبَاهِهِ مِنْ نَوْمِهِ، وَعِنْدَ قِيَامِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
540 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْفِرْيَابِيُّ، نَا أَبُو أَيُّوبَ سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيُّ، نَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، نَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ نَمِرٍ، قَالَ: سَأَلْتُ الزُهْرِيَّ عَنِ الْقَوْلِ إِذَا اسْتَيْقَظَ الرَّجُلُ مِنْ مَنَامِهِ؟ فَقَالَ: أَخْبَرَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرِهِ، فَقُلْتُ: لَأَرْمُقَنَّ اللَّيْلَةَ كَيْفَ صَلَاةُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَلَمَّا صَلَّى الْعِشَاءَ، وَهَيَ الَّتِي تُدْعَى الْعَتَمَةُ اضْطَجَعَ فَنَامَ هَوِيًّا مِنَ اللَّيْلِ، ثَمَّ اسْتَيْقَظَ فَنَظَرَ فِي السَّمَاءِ، فَقَالَ: {رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ} [آل عمران: 191] إِلَى قَوْلِهِ: {إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ} [آل عمران: 194] . قَالَ الرَّجُلُ: ثُمَّ أَهْوَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ إِلَى قُرَابِهِ، فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ سِوَاكًا، ثُمَّ اصْطَبَّ مِنْ إِدَاوَتِهِ مَاءً فِي قَدَحٍ لَهُ فَاسْتَنَّ ثُمَّ صَبَّ فِي يَدِهِ مَاءً، فَتَوَضَّأَ، ثُمَّ قَامَ، فَصَلَّى. قَالَ الرَّجُلُ: حَتَّى قُلْتُ: قَدْ صَلَّى قَدْرَ مَا نَامَ، ثُمَّ سَلَّمَ، ثُمَّ اضْطَجَعَ، فَنَامَ، حَتَّى قُلْتُ: قَدْ نَامَ قَدْرَ مَا صَلَّى، ثُمَّ اسْتَيْقَظَ فَفَعَلَ مِثْلَ مَا فَعَلَ فِي الْمَرَّةِ الْأُولَى، ثُمَّ نَظَرْتُ فِي السَّمَاءِ، وَتِلَاوَتُهُ مَا تَلَا مِنَ الْقُرْآنِ، وَاسْتِنَانُهُ، وَوُضُوئُهُ، وَصَلَاتُهُ، ثُمَّ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ فِي النَّوْمِ، حَتَّى قَضَى صَلَاتَهُ، ثُمَّ اسْتَيْقَظَ وَفَعَلَ كَمَا فَعَلَ أَوَّلَ مَرَّةٍ، فَعَلَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উপরোক্ত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতের আমল সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া যায় তিনি রাতের কিছু অংশে আরাম করতেন আবার কিছু অংশে আল্লাহ্র ইবাদত করতেন। তিনি প্রতিটি কাজে ভারসাম্য রক্ষা করতেন। তিনি কখনও সমস্ত রাত ঘুমে কাটিয়ে দিতেন না এবং সারা রাত ইবাদতও করতেন না। কারণ তাতে দেহের কষ্ট হতো। তাছাড়া বান্দার উপর যেমন অন্য জিনিসের অধিকার রয়েছে, এমনি দেহেরও অধিকার রয়েছে। আর তা হলো, দেহকে অযথা কষ্ট দেওয়া যাবে না। নিম্নোক্ত হাদীসে বর্ণিত আছেঃ
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو ، قَالَ : قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَقَدْ أُخْبِرْتُ أَنَّكَ تَقُومُ اللَّيْلَ وَتَصُومُ النَّهَارَ ؟ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ ، نَعَمْ ، قَالَ : فَصُمْ وَأَفْطِرْ ، وَصَلِّ وَنَمْ ، فَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، وَإِنَّ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، وَإِنَّ بِحَسْبِكَ أَنْ تَصُومَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ - الخ “আমর ইবনুল আস (রা)-এর পুত্র আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমি জানতে পেরেছি যে, তুমি রাতভর দাঁড়িয়ে (নফল) সালাত পড়ো এবং দিনভর (নফল) সাওম রাখো। রাবী বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি সাওম রাখো এবং (কিছু দিন) সাওম থেকে বিরত থাকো; সালাতও পড়ো এবং নিদ্রাও যাও। কারণ তোমার উপর তোমার দেহের একটি অধিকার আছে, তোমার উপর তোমার স্ত্রীর একটা অধিকার আছে এবং তোমার উপর তোমার সাক্ষাতপ্রার্থীদেরও একটা অধিকার আছে। তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তুমি প্রতি মাসে তিনদিন সাওম রাখবে (ফাতুহর রাব্বানী, শরহে মুসনাদে আহ্মাদ, ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৩০)।
অতএব সমস্ত রাত ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেওয়া ঠিক নয়, বরং রাতের একটি অংশ আল্লাহ্র যিকিরে অতিবাহিত করা উচিত।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو ، قَالَ : قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَقَدْ أُخْبِرْتُ أَنَّكَ تَقُومُ اللَّيْلَ وَتَصُومُ النَّهَارَ ؟ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ ، نَعَمْ ، قَالَ : فَصُمْ وَأَفْطِرْ ، وَصَلِّ وَنَمْ ، فَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، وَإِنَّ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، وَإِنَّ بِحَسْبِكَ أَنْ تَصُومَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ - الخ “আমর ইবনুল আস (রা)-এর পুত্র আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমি জানতে পেরেছি যে, তুমি রাতভর দাঁড়িয়ে (নফল) সালাত পড়ো এবং দিনভর (নফল) সাওম রাখো। রাবী বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি সাওম রাখো এবং (কিছু দিন) সাওম থেকে বিরত থাকো; সালাতও পড়ো এবং নিদ্রাও যাও। কারণ তোমার উপর তোমার দেহের একটি অধিকার আছে, তোমার উপর তোমার স্ত্রীর একটা অধিকার আছে এবং তোমার উপর তোমার সাক্ষাতপ্রার্থীদেরও একটা অধিকার আছে। তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তুমি প্রতি মাসে তিনদিন সাওম রাখবে (ফাতুহর রাব্বানী, শরহে মুসনাদে আহ্মাদ, ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৩০)।
অতএব সমস্ত রাত ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেওয়া ঠিক নয়, বরং রাতের একটি অংশ আল্লাহ্র যিকিরে অতিবাহিত করা উচিত।