আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৪৯১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ)-এর খাটের বর্ণনা
৪৯১। হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম এবং উমর ইব্ন খাত্তাব (রা)ও তাঁর নিকট হাযির ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তখন রশির তৈরী খাটের উপর শায়িত ছিলেন এবং খাটের বুননও তাঁর দেহের মধ্যখানে কিছু (বিছানো) ছিলো না। তাঁর দেহ মোবারক ছিলো অত্যন্ত কোমল। তিনি পার্শ্ববদল করলে তাঁর চামড়ায় বা পার্শ্বদেশে রশির বুননের দাগ পরিলক্ষিত হলো। এই অবস্থা দেখে উমর (রা) কেঁদে ফেললেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কাঁদছ কেন ? তিনি বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি কেবল এ জন্য কাঁদছি যে, আমি জানি, আপনি মহান আল্লাহ্র নিকট (রোম সম্রাট) কায়সার ও (পারস্য সম্রাট) কিস্রার তুলনায় অনেক বেশী সম্মানিত । এই দুইজন বাদশাহ এই পার্থিব জগতে পর্যাপ্ত ভোগ-বিলাসের জীবন যাপন করছে। আর আপনি হলেন আল্লাহ্র রাসূল, অথচ আমি আপনাকে এই অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি। নবী (ﷺ) বললেনঃ হে উমর! তুমি কি একথা শুনে সন্তুষ্ট হবে যে, আমাদের জন্য রয়েছে আখিরাতের জীবন এবং তাদের (দুনিয়াদারদের) জন্য রয়েছে পার্থিব জীবন! তিনি বলেন, হ্যাঁ। নবী (ﷺ) বলেন, ব্যাপারটি হলো এই।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ سَرِيرِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
491 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا أَبُو يُوسُفَ الْجِيزِيُّ، نَا مُؤَمَّلٌ، نَا مُبَارَكٌ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعِنْدَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى سَرِيرٍ شَرِيطٍ، لَيْسَ بَيْنَ جَنْبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَبَيْنَ الشَّرِيطِ شَيْءٌ، وَكَانَ أَرَقَّ النَّاسِ بَشْرَةً، فَانْحَرَفَ انْحِرَافَةً، وَقَدْ أَثَّرَ الشَّرِيطُ بِبَطْنِ جِلْدِهِ، أَوْ بِجَنْبِهِ، فَبَكَى عُمَرُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا يُبْكِيكَ؟ فَقَالَ: أَمَا وَاللَّهِ مَا أَبْكِي أَلَّا أَكُونَ أَعْلَمُ أَنَّكَ أَكْرَمُ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ قَيْصَرَ وَكِسْرَى، إِنَّهُمَا يَعِيشَانِ فِيمَا يَعِيشَانِ فِيهِ مِنَ الدُّنْيَا، وَأَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَكَانِ الَّذِي أَرَى، فَقَالَ: يَا عُمَرُ أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ لَنَا الْآخِرَةُ، وَلَهُمُ الدُّنْيَا؟ قَالَ: بَلَى، قَالَ: فَإِنَّهُ كَذَلِكَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উল্লেখিত হাদীসমূহ থেকে অনুমান করা যায় যে, মহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কৃচ্ছ্রসাধনা এবং পার্থিব মোহশূন্যতা কত পূর্ণাংগ ছিলো, যা দেখে হযরত উমর ফারূক (রা)-এর মত পার্থিব মোহশূন্য ও আখিরাতের প্রতি আগ্রহী ব্যক্তিও অবলীলায় কাঁদতে লাগলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এই বলে সান্ত্বনা দেন যে, এই চলার পথে পথিক তার বোঝা যত হাল্কা রাখবে ততই উত্তম। পার্থিব জীবন ভোগ-বিলাস ও প্রাচুর্যের জন্য নয়, বরং আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ করার জন্য। পার্থিব জীবন স্বয়ং উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য লাভের প্রস্তুতির জন্য অবকাশ বিশেষ। তাই যারা পার্থিব জলুসে প্রতারিত হয়ে আখিরাতের স্থায়ী সুযোগ-সুবিধার কথা ভুলে আছে তাদের জন্য করুণা হয়।
হাদীস থেকে আরও জানা যায় যে, নবী-রাসূলগণের বিশেষত মহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মানবিক গুণাবলি এত উচ্চ ও উন্নত ছিলো যে, কখনও উমর (রা)-এর মত ব্যক্তিত্বও সতর্ক করার পরই তা অনুধাবন করতে পারেন। অথচ তাঁর সম্পর্কে মহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان الله جعل الحق على لسان عمر وقلبه “আল্লাহ্ তা’আলা সত্যকে উমরের মুখে ও অন্তরে স্থাপন করেছেন।”
ইমাম বুসীরী (র) কত সুন্দর কথা বলেছেনঃ فمبلغ فيه انه بشر وانه خيرخلق الله كلهم
“আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এতটুকুই জানতে পারি যে, তিনি মানুষ এবং আল্লাহ্র সমস্ত মাখলুক থেকে উত্তম।”
হাদীস থেকে আরও জানা যায় যে, নবী-রাসূলগণের বিশেষত মহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মানবিক গুণাবলি এত উচ্চ ও উন্নত ছিলো যে, কখনও উমর (রা)-এর মত ব্যক্তিত্বও সতর্ক করার পরই তা অনুধাবন করতে পারেন। অথচ তাঁর সম্পর্কে মহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ان الله جعل الحق على لسان عمر وقلبه “আল্লাহ্ তা’আলা সত্যকে উমরের মুখে ও অন্তরে স্থাপন করেছেন।”
ইমাম বুসীরী (র) কত সুন্দর কথা বলেছেনঃ فمبلغ فيه انه بشر وانه خيرخلق الله كلهم
“আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এতটুকুই জানতে পারি যে, তিনি মানুষ এবং আল্লাহ্র সমস্ত মাখলুক থেকে উত্তম।”