আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ২৬৭
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর লুঙ্গি ও চাদরের বর্ণনা
২৬৭। হযরত আবু বুরদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা (রাযিঃ) একখানা তালি লাগানো চাদর ও একখানা মোটা লুঙ্গি বের করে আমাদের দেখিয়ে বললেন, এই দু’খানা কাপড় পরিহিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ওফাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ إِزَارِهِ وَكِسَائِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
267 - حَدَّثَنَا الْمَرْوَزِيُّ، نَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، نَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ. ح. وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ، نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ، نَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، نَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ: أَخْرَجَتْ إِلَيْنَا عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا كِسَاءً مُلَبِّدًا، وَإِزَارًا غَلِيظًا، فَقَالَتْ: قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَيْنِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এই হাদীসটিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যবহৃত লুঙ্গি ও চাদরের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এ থেকে জানা যায়, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত সরল-সহজ জীবন যাপন করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগেই বিভিন্ন এলাকা বিজিত হতে শুরু হয়েছিলো। এই সময় তাঁর দরবারে ধনসম্পদের স্তূপ জমা হতো। কিন্তু তিনি তা অন্যদের মধ্যে বিলি-বণ্টন করে দিতেন এবং নিজে সাধারণ কিছু পরিধান করতেন। তবে কোন সময়ে বিশেষ কোন উপলক্ষে মূল্যবান পোশাকও পরতেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়, যা সাধারণত উপহার হিসেবে তাঁর কাছে আসতো। কিন্তু তিনি এসব পোশাক একবার মাত্র পরিধান করে কিংবা বিশেষ কোন উপলক্ষে পরিধান করে রেখে দিতেন। ইতোপূর্বে একটি হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইয়ামানের বাদশাহ যু-ইয়াযান তাঁকে এরূপ মূল্যবান এক সেট পোশাক পাঠালে তিনি একবার মাত্র তা পরিধান করেছিলেন পরে আর কখনো তা পরিধান করেননি। যাতে তাঁর পবিত্র জীবন গর্ব ও অহংকারের লেশমাত্র থেকে পবিত্র থাকে। তাঁর এই উত্তম আদর্শ অনুযায়ী উম্মতেরও আমল করা উচিত। তবে যে ক্ষেত্রে গর্ব ও অহংকারের আশংকা থাকবে না সেক্ষেত্রে কেবল আল্লাহ্ প্রদত্ত নিয়ামতের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর উদ্দেশ্যে মূল্যবান পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধানে কোন ক্ষতি নেই।
শরীরের নিচের অংশ ঢাকার জন্য যেসব পোশাক পরিধান করা হয় সে সব পোশাককে আরবীতে ‘ইযার’ বলা হয়। লুঙ্গি এবং পায়জামা দু’টিই এর অন্তর্ভুক্ত। ‘রিদা (رداء) বা ‘কিসা’ (كساء) সে সব পোশাককে বলে যা শরীরের ওপরের অংশ ঢাকার জন্য ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের প্রতিটি সুতি বা পশমী বস্ত্রকে ‘রিদা’ এবং পশমী চাদর বা হাল্কা কম্বলকে “কিসা’ বলা হয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত লুঙ্গি পরিধান করতেন। এটাই ছিলো আরবের সাধারণ পোশাক। তিনি কখনো পায়জামা পরেছেন কিনা সে বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। তবে তিনি যে পায়জামা খরিদ করেছিলেন তা নিশ্চিত। বিশুদ্ধ রিওয়ায়াতের মাধ্যমে প্রমাণিত, তিনি পায়জামার প্রশংসা করেছেন এই বলে যে, এর দ্বারা সতর ঢাকার কাজটি অধিক সুন্দরভাবে হয়। পরবর্তীকালে দুনিয়ার বিভিন্ন জাতির মধ্যে ইসলাম যতই ছড়িয়ে পড়েছে সাহাবা কেরাম বিজিত এলাকাসমূহে তত বেশি বসতি স্থাপন করেছেন এবং সাথে সাথে সেখানে পায়জামার প্রচলনও বৃদ্ধি পেয়েছে।
শরীরের নিচের অংশ ঢাকার জন্য যেসব পোশাক পরিধান করা হয় সে সব পোশাককে আরবীতে ‘ইযার’ বলা হয়। লুঙ্গি এবং পায়জামা দু’টিই এর অন্তর্ভুক্ত। ‘রিদা (رداء) বা ‘কিসা’ (كساء) সে সব পোশাককে বলে যা শরীরের ওপরের অংশ ঢাকার জন্য ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের প্রতিটি সুতি বা পশমী বস্ত্রকে ‘রিদা’ এবং পশমী চাদর বা হাল্কা কম্বলকে “কিসা’ বলা হয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত লুঙ্গি পরিধান করতেন। এটাই ছিলো আরবের সাধারণ পোশাক। তিনি কখনো পায়জামা পরেছেন কিনা সে বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। তবে তিনি যে পায়জামা খরিদ করেছিলেন তা নিশ্চিত। বিশুদ্ধ রিওয়ায়াতের মাধ্যমে প্রমাণিত, তিনি পায়জামার প্রশংসা করেছেন এই বলে যে, এর দ্বারা সতর ঢাকার কাজটি অধিক সুন্দরভাবে হয়। পরবর্তীকালে দুনিয়ার বিভিন্ন জাতির মধ্যে ইসলাম যতই ছড়িয়ে পড়েছে সাহাবা কেরাম বিজিত এলাকাসমূহে তত বেশি বসতি স্থাপন করেছেন এবং সাথে সাথে সেখানে পায়জামার প্রচলনও বৃদ্ধি পেয়েছে।