আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ২৩১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ)-এর সুগন্ধি পছন্দ করা ও সুগন্ধি ব্যবহার করার বর্ণনা
২৩১। হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ইরশাদ করেন যে, জগতে আমার নিকট নারী ও সুগন্ধি অধিক প্রিয় করা হয়েছে।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ مَحَبَّتِهِ لِلطِّيبِ وَتَطَيُّبِهِ بِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
231 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا أَبُو كَامِلٍ، نَا سَلَّامُ بْنُ أَبِي الصَّهْبَاءِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: حُبِّبَ إِلَيَّ مِنَ الدُّنْيَا النِّسَاءُ وَالطِّيبُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর এমন এক যুগে এমন এক সমাজে প্রেরিত হয়েছিলেন যে সমাজে নারীর অস্তিত্বকে একটি অভিশাপ, চরম লাঞ্ছনা ও অপমানজনক বলে জ্ঞান করা হতো। প্রাচীন আরবীয়রা আত্মসম্মানের হানি বোধ করে নারীদেরকে জীবন্ত কবর দিতো। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সম্মান দান তো সে সমাজের কল্পনাতেও ছিলো না। জাহেলী সমাজে এভাবে তাদেরকে মানুষ সমাজ-বহির্ভূত মূল্যহীন পণ্য হিসাবে গণ্য করা হতো। কিন্তু জগতে ইসলাম আগমনের পর ইসলাম সর্বপ্রথম এ অমানবিক নীতির বিরুদ্ধে কঠোরভাবে রুখে দাঁড়ায়। ইসলাম নারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করে, মানুষের মন-মানসিকতা ও চিন্তাধারায় নারীদের প্রতি যে ঘৃণাবোধ বিদ্যমান ছিলো তা দূরীভূত করে তাদের প্রতি স্নেহ ভালবাসা ও দয়ার বীজ বপন করে। সমাজে তাদের ন্যায্য (ভারসাম্যপূর্ণ) অধিকারকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে। তাদেরকে পিতৃ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে রায় দেয়। অধিকন্তু একজন মুসলিম যে মানে নিজের জীবন যাপন করে সে মানে তার স্ত্রী ও কন্যাদেরকে জীবন যাপন করতে দেওয়াকে ফরয তথা অবশ্য কর্তব্য বলে ঘোষণা দেয়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছেঃ وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ আর নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের। কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের অতিরিক্ত মর্যাদা আছে (সেটি হলো পুরুষ নারীদের তত্ত্বাবধায়ক) আল্লাহ্ মহাপরাক্রমশালী ও পরম প্রজ্ঞাময়। (সূরা বাকারা : ২২৮)
এ কারণে মহান আল্লাহ্ সৃষ্টিগতভাবে মানব প্রকৃতিতে নারীদের প্রতি বিশেষ ধরনের একটি আকর্ষণ ও ভালবাসা দিয়ে দিয়েছেন। মানুষ হিসাবে সকলের প্রকৃতির মধ্যেই কমবেশি এ আকর্ষণ বিদ্যমান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু মানুষের মধ্যে সবচেয়ে পরিপূর্ণ মানব এবং মানবতার সর্বোচ্চ আসনে সমাসীন ছিলেন, সেহেতু তাঁর মধ্যে মানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাময় প্রকৃতিও ছিলো পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান। তাই তাঁর পবিত্র সত্তায় প্রকৃতিগত এ সব বিষয়ের চাহিদাও ছিলো পূর্ণমানের। উপরোক্ত উক্তিটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই প্রকৃতিগত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। কুরআন পাকের মধ্যে কথাটির দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছেঃ وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً এবং তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে আরো রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন নারীদেরকে, যেন তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও। এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়ার সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রূম : ২১)
এ কারণে মহান আল্লাহ্ সৃষ্টিগতভাবে মানব প্রকৃতিতে নারীদের প্রতি বিশেষ ধরনের একটি আকর্ষণ ও ভালবাসা দিয়ে দিয়েছেন। মানুষ হিসাবে সকলের প্রকৃতির মধ্যেই কমবেশি এ আকর্ষণ বিদ্যমান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু মানুষের মধ্যে সবচেয়ে পরিপূর্ণ মানব এবং মানবতার সর্বোচ্চ আসনে সমাসীন ছিলেন, সেহেতু তাঁর মধ্যে মানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাময় প্রকৃতিও ছিলো পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান। তাই তাঁর পবিত্র সত্তায় প্রকৃতিগত এ সব বিষয়ের চাহিদাও ছিলো পূর্ণমানের। উপরোক্ত উক্তিটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই প্রকৃতিগত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। কুরআন পাকের মধ্যে কথাটির দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছেঃ وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً এবং তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে আরো রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন নারীদেরকে, যেন তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও। এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়ার সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রূম : ২১)