আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ১৭০
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
উম্মতের প্রতি নবী (ﷺ) -এর সহানুভূতি সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৭০। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সেই পবিত্র সত্তার কসম! যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই যে, আমি (অনেক সময়) ক্ষুধার তাড়নায় নিজের পেটের উপর পাথর বেঁধে রাখতাম। আর (কোন কোন সময়) এই ক্ষুধাজনিত কষ্টের কারণে নিজের দু’হাত দ্বারা মাটির উপর ভর দিয়ে বসে থাকতাম। আল্লাহ্ শপথ, একদিন এমন হয়ে গিয়েছিলো যে, (মসজিদে নববী থেকে) বেরিয়ে যাওয়ার পথের উপর বসে পড়ি। (যেন আমার ক্ষুধার্ত অবস্থা কারোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে) এ সময় হযরত আবু বক্র সিদ্দীক (রাযিঃ) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে শুধু এ উদ্দেশ্যে যে, তিনি আমাকে সঙ্গে করে (ঘরে) নিয়ে যাবেন এবং কিছু খেতে দিবেন—পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করলাম । কিন্তু তিনি আমার প্রকৃত ইচ্ছা কিছুই উপলব্ধি করলেন না। (প্রশ্নটির জবাব দিয়ে) চলে গেলেন। আমাকে আর সঙ্গে করে নিলেন না। অতঃপর (এ পথ দিয়ে) হযরত উমর ইব্ন খাত্তাব (রাযিঃ)-এর আগমন ঘটল। আমি তাঁকেও এ উদ্দেশ্য নিয়ে কুরআনে পাকের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। (এ আশায় যে) তিনি হয়ত আমাকে সঙ্গে করে ঘরে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি আমার প্রকৃত মনোভাবটি উপলব্ধি করলেন না। প্রশ্নের উত্তর দিয়ে চলে গেলেন। আমাকে আর সঙ্গে করে নিলেন না। এরপর রহমতে আলম আবুল কাসিম (ﷺ) এ পথে আগমন করলেন। তিনি আমার চেহারা দেখেই আমার অন্তরের ভাষা উপলব্ধি করে নেন। তিনি স্মিত হেসে বললেন, আবু হির, আস, আমার সঙ্গে চল । আমি নবী (ﷺ) -এর পিছু পিছু চললাম। তিনি উম্মুল মু’মিনীনদের একজনের ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি বাহির থেকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে ভিতরে ডেকে নেন। এ সময় তিনি ঘরে এক পেয়ালা দুধ রক্ষিত আছে দেখলেন। জিজ্ঞেস করলেন, এ দুধ তোমার কাছে কোথা থেকে এসেছে? ঘরওয়ালারা বললেন, অমুক ব্যক্তি আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছে। নবী (ﷺ) তখন আমাকে বললেন, হে আবু হির! যাও সুফ্ফার সকলকে ডেকে আনো। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, এ কথা শুনে আমি বড় চিন্তায় পড়ে গেলাম। কেননা আহলে সুফ্ফার সকলেই ইসলাম ও মুসলমানদের মেহমান। তাদের কারোর না আছে কোন ঘরবাড়ি আর না কোন পরিবার-পরিজন। সাদাকার যে সকল জিনিস প্রিয় নবী (ﷺ)-এর কাছে আসতো তিনি তা তাদের জন্য পাঠিয়ে দিতেন। তিনি নিজের জন্য এ থেকে কিছুই রাখতেন না। আর তাঁর কাছে যদি হাদিয়ার কোন কিছু আসতো তাহলে সকলকে ডেকে এনে নিজের সঙ্গে আহার করাতেন। তখন প্রিয় নবী (ﷺ) নিজেও আহার করতেন, সঙ্গে অন্যরাও আহার করতো । (মোট কথা আহলে সুফ্ফার লোকেরা প্রায়ই অভুক্ত অবস্থায় দু’জাহানের রহমত নবী (ﷺ)-এর অপেক্ষায় বসে থাকতেন।) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, কাজেই নবী (ﷺ)-এর আমাকে তাদের ডেকে আনতে পাঠানোর বিষয়টি আমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিলো। আমি মনে মনে ভাবলাম, আশা তো করেছিলাম আমি এ দুধটুকু পান করে কিছুটা স্বস্তি লাভ করবো। কিন্তু আহলে সুফ্ফার সকলের সাথে এই এক পেয়ালা দুধের কতটুকু আমার ভাগ্যে আসবে। আবার যেহেতু আমিই তাঁদেরকে ডেকে আনছি, কাজেই তারা যখন আসবে নবী (ﷺ) তখন আমাকেই সকলের মাঝে দুধ বণ্টন করে দিতে নির্দেশ দিবেন। (আমি নিজে রয়ে যাবো সকলের শেষে। কাজেই আমার জন্য কিছু অবশিষ্ট থাকবে কিনা বলা যায় না।) কিন্তু আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ পালন ব্যতিরেকে কোন গত্যন্তরও নেই। এসব ভেবে আমি সুফ্ফাবাসীদের কাছে গেলাম। তাদেরকে ডাকলে তারা সকলে আসলেন। তারপর নবী (ﷺ)-এর গৃহে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি অনুমতি দেন। সকলে নিজ নিজ আসনে বসার পর নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আবু হির! আমি বললাম, লাব্বাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেন, দাঁড়াও সকলকে একের পর এক দুধের এই পেয়ালা থেকে পান করতে দাও। সে মতে আমি পেয়ালাটি একজন থেকে নিয়ে অন্যজনকে পৌঁছিয়ে দিতে থাকি । তারা প্রত্যেকে তৃপ্তি ভরে পান করার পর পেয়ালা আমাকে ফেরত দিতেন। এভাবে পালাক্রমে আহলে সুফ্ফার সকলেই পেট পূর্ণ করে পান করার পর আমি পেয়ালাটি নিয়ে প্রিয় নবী (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হই। তিনি পেয়ালাটি নিজের সামনে রাখলেন। তারপর মাথা উপরে তুলে আমার দিকে তাকালেন এবং স্মিত হেসে বললেন, বসে পড়ো। আমি বসে গেলাম । তিনি বললেন, এবার তুমি পান করো। সে মতে আমি পেটভরে দুধ পান করলাম। তিনি পুনরায় আমাকে বললেন, পান করো। ফলে আমি আবার পান করি। (এভাবে তিনি বারবার আমাকে বলতে থাকেন আর আমি পান করতে থাকি।) অবশেষে আমি বললাম, কসম সেই সত্তার! যিনি আপনাকে সত্যসহ নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন, এক ঢোক পরিমাণ দুধ পান করার মতও কোন জায়গা খালি নেই। তিনি বললেন, ঠিক আছে পেয়ালাটি আমাকে দাও। আমি পেয়ালাটি প্রিয় নবী (ﷺ)-এর হাতে তুলে দিলে তিনি মহান আল্লাহ্ প্রশংসা জ্ঞাপন করলেন এবং নিজেও সেই পেয়ালা থেকে পান করলেন।
أبواب الكتاب
مَا رُوِيَ فِي رِفْقِهِ بِأُمَّتِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
170 - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبَانَ، نَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، نَا سَعْدُ بْنُ الصَّلْتِ، وَابْنُ بَكَّارٍ، قَالَا: نَا عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: وَاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ إِنْ كُنْتُ لَأَشُدُّ الْحَجَرَ عَلَى بَطْنِي مِنَ الْجُوعِ، وَإِنْ كُنْتُ لَأَعْتَمِدُ بِيَدَيَّ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْجُوعِ، وَلَقَدْ قَعَدْتُ يَوْمًا عَلَى طَرِيقِهِمُ الَّذِي يَخْرُجُونَ فِيهِ، فَمَرَّ بِي أَبُو بَكْرٍ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، مَا أَسْأَلُهُ عَنْهَا إِلَّا لِيَسْتَتْبِعَنِي، فَمَرَّ وَلَمْ يَفْعَلْ، ثُمَّ مَرَّ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَعَرَفَ مَا فِي نَفْسِي، وَمَا فِي وَجْهِي، فَتَبَسَّمَ وَقَالَ: أَبَا هِرٍّ الْحَقْ، فَاتَّبَعْتُهُ، فَدَخَلَ، فَاسْتَأْذَنَتُ، فَأَذِنَ لِي، فَوَجَدَ لَبَنًا فِي قَدَحٍ، فَقَالَ لِأَهْلِهِ: أَنَّى لَكُمْ هَذَا اللَّبَنُ؟ قَالُوا: أَهْدَاهُ لَكَ فُلَانٌ فَقَالَ: يَا أَبَا هِرٍّ، انْطَلِقْ إِلَى أَهْلِ الصُّفَّةِ، فَادْعُهُمْ لِي. قَالَ: فَأَحْزَنَنِي ذَلِكَ، وَأَهْلِ الصُّفَّةِ أَضْيَافُ الْإِسْلَامِ، لَا يَأْوُونَ إِلَى أَهْلٍ، وَلَا مَالٍ، إِذَا جَاءَتْهُ صَدَّقَةٌ أَرْسَلَ بِهَا إِلَيْهِمْ، وَلَمْ يَرْزَأْ مِنْهَا شَيْئًا، وَإِذَا جَاءَتْهُ هَدِيَّةٌ أَرْسَلَ إِلَيْهِمْ فَأَشْرَكَهُمْ فِيهَا، فَأَصَابَ مِنْهَا، قَالَ: فَأَحْزَنَنِي إِرْسَالُهُ إِيَّايَ، وَقُلْتُ: أَرْجُو أَنْ أَشْرَبَ مِنْ هَذَا اللَّبَنِ شَرْبَةً أَتَغَذَّى بِهَا، فَمَا يُغْنِي عَنِّي هَذَا اللَّبَنُ فِي أَهْلِ الصُّفَّةِ، وَأَنَا الرَّسُولُ فَإِذَا جَاءُوا أَمَرَنِي فَكُنْتُ أَنَا أُعَاطِيهِمْ وَلَمْ يَكُنْ فِي طَاعَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَطَاعَةِ رَسُولِهِ بُدٌّ، فَانْطَلَقْتُ إِلَيْهِمْ فَدَعَوْتُهُمْ فَأَقْبَلُوا، فَاسْتَأْذَنُوا، فَأُذِنَ لَهُمْ فَأَخَذُوا مَجَالِسَهُمْ مِنَ الْبَيْتِ، وَقَالَ: أَبَا هِرٍّ، قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: قُمْ فَأَعْطِهِمْ، فَآخُذَ الْقَدَحَ فَأُعْطِي الرَّجُلَ حَتَّى يُرْوَى، ثُمَّ يَرُدُّهُ إِلَيَّ حَتَّى رَوِيَ جَمِيعُ الْقَوْمِ فَانْتَهَيْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخَذَ الْقَدَحَ، فَوَضَعَهُ عَلَى يَدَيْهِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَنَظَرَ إِلَيَّ فَتَبَسَّمَ، وَقَالَ: اقْعُدْ، فَقَعَدْتُ، فَشَرِبْتُ، وَقَالَ: اشْرَبْ، فَمَا زَالَ يَقُولُ: اشْرَبْ، اشْرَبْ، حَتَّى قُلْتُ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَجِدُ لَهُ مَسْلَكًا قَالَ: فَأَرِنِي، فَرَدَدْتُ إِلَيْهِ الْإِنَاءَ، فَحَمِدَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَشَرِبَ مِنْهُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উপরোক্ত হাদীসে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এমন অত্যাশ্চর্য একটি মুজিযার বর্ণনা করা হয়েছে যা মানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুদ্ধি ও উপলব্ধির সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বে। এক পেয়ালা দুধ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বরকতে এবং তাঁর হাতে প্রকাশিত মুজিযা হিসাবে এত অধিক পরিমাণ হয়েছে যে, ষাট কিংবা সত্তর জন ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত মানুষের একটি দল তা থেকে তৃপ্তিভরে পান করার পরও তা শেষ না হওয়া মানুষের বুদ্ধির অগম্য। বস্তুত এ মুজিযা এবং এ ধরনের আরো হাজার হাজার মুজিযা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বরহক নবী হওয়ার প্রমান বহন করে। হারত আবূ হুরায়রা (রা), যাকে আহলে সুফ্ফার এক পর্যায়ের নাযিম বলা চলে তিনিও মাত্র এক পেয়ালা দুধে এত সংখ্যক মানুষের জন্য যথেষ্ট হওয়ার বিষয়টি কল্পনা করতে পারেন নি। নিজে নিজের অস্থিরতা ও ব্যাকুলতার অবস্থা অতিশয় সরলতার সাথে ব্যক্ত করে দেন। আল্লাহ্ পাক এ সামান্য দুধে এত অত্যাশ্চর্যজনক বৃদ্ধি ও বরকত প্রদান করেন যে, তা সকলের জন্যই যথেষ্ট হয়ে গেল । বরং কিছু অবশিষ্টও রইল। মনে হয় যেন পেয়ালাটির পরতে পরতে কোন ঝর্ণা বিদ্যমান ছিল যে, মানুষ যতটুকু পান করেছিলো সঙ্গে সঙ্গে ততটুকু আবার পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
এ হাদীস থেকে আরো বোঝা যায় যে, উম্মতের জন্য প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মনে কতখানি আন্তরিকতা ও দরদ বিদ্যমান ছিলো। তাঁর দরদপূর্ণ দৃষ্টি উম্মতের অন্তরস্থ সূক্ষ্ম অবস্থা ও চিন্তাভাবনাকে তাদের চেহারা গবাক্ষপথ দিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করত। হযরত আবূ বকর (রা)-এর দৃষ্টি আবূ হুরায়রা (রা)-এর চেহারা ও তার প্রশ্ন করা থেকে যে ভাবকে অনুধাবন করতে পারেননি, হযরত উমরের সচেতন চাহনি যা অনুভব করেনি দয়ার মহাসমুদ্র প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরদমাখা দৃষ্টি তা সহজেই উপলব্ধি করে নেয়।
এ হাদীস থেকে সবচেয়ে বড় যে কথাটি বোঝা যায় তা হলো অনাহারক্লিষ্ট সাহাবীদের আত্মমর্যাদাবোধ। তাঁরা অনাহার ও দারিদ্র্যে অকল্পনীয় যাতনা নীরবে সহ্য করতেন। কিন্তু কারোর সামনে তা প্রকাশ করতেন না। কারোর কাছে ভিক্ষা চাওয়া বা হাত পাতা তো কল্পনাই করা যায় না। এরাই হলেন সেসব দারিদ্র ব্যক্তিত্ব যাদের ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ্ পাকের ইরশাদ হলোঃ *** প্রকৃত প্রাপ্য হলো সেসব অভাবগ্রস্ত লোকজনের, যারা আল্লাহ্ পথে এমনভাবে ব্যাপৃত থাকে যে, দেশময় ঘোরাফেরা করার সুযোগ থাকে না। যাচ্ঞ্ছা না করার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত বলে ধারণা করে; (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) আপনি তাদেরকে লক্ষণ দেখেই চিনতে পারেন। তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে যাচ্ঞ্ছা করে না। (সূরা বাকারাঃ ২৭৩)
তাদের সম্পর্কে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃلِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُحْصِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِي الْأَرْضِ يَحْسَبُهُمُ الْجَاهِلُ أَغْنِيَاءَ مِنَ التَّعَفُّفِ تَعْرِفُهُمْ بِسِيمَاهُمْ لَا يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا অভাবগ্রস্তরা সম্পদশালীদের সত্তর বছর পূর্বে বেহেশ্তে প্রবেশ করবে। (আল-হাদীস)
এ হাদীস থেকে আরো বোঝা যায় যে, উম্মতের জন্য প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মনে কতখানি আন্তরিকতা ও দরদ বিদ্যমান ছিলো। তাঁর দরদপূর্ণ দৃষ্টি উম্মতের অন্তরস্থ সূক্ষ্ম অবস্থা ও চিন্তাভাবনাকে তাদের চেহারা গবাক্ষপথ দিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করত। হযরত আবূ বকর (রা)-এর দৃষ্টি আবূ হুরায়রা (রা)-এর চেহারা ও তার প্রশ্ন করা থেকে যে ভাবকে অনুধাবন করতে পারেননি, হযরত উমরের সচেতন চাহনি যা অনুভব করেনি দয়ার মহাসমুদ্র প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরদমাখা দৃষ্টি তা সহজেই উপলব্ধি করে নেয়।
এ হাদীস থেকে সবচেয়ে বড় যে কথাটি বোঝা যায় তা হলো অনাহারক্লিষ্ট সাহাবীদের আত্মমর্যাদাবোধ। তাঁরা অনাহার ও দারিদ্র্যে অকল্পনীয় যাতনা নীরবে সহ্য করতেন। কিন্তু কারোর সামনে তা প্রকাশ করতেন না। কারোর কাছে ভিক্ষা চাওয়া বা হাত পাতা তো কল্পনাই করা যায় না। এরাই হলেন সেসব দারিদ্র ব্যক্তিত্ব যাদের ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ্ পাকের ইরশাদ হলোঃ *** প্রকৃত প্রাপ্য হলো সেসব অভাবগ্রস্ত লোকজনের, যারা আল্লাহ্ পথে এমনভাবে ব্যাপৃত থাকে যে, দেশময় ঘোরাফেরা করার সুযোগ থাকে না। যাচ্ঞ্ছা না করার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত বলে ধারণা করে; (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) আপনি তাদেরকে লক্ষণ দেখেই চিনতে পারেন। তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে যাচ্ঞ্ছা করে না। (সূরা বাকারাঃ ২৭৩)
তাদের সম্পর্কে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃلِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُحْصِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِي الْأَرْضِ يَحْسَبُهُمُ الْجَاهِلُ أَغْنِيَاءَ مِنَ التَّعَفُّفِ تَعْرِفُهُمْ بِسِيمَاهُمْ لَا يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا অভাবগ্রস্তরা সম্পদশালীদের সত্তর বছর পূর্বে বেহেশ্তে প্রবেশ করবে। (আল-হাদীস)