আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ১৫৮
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৫৮। হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন নবী (ﷺ) -এর দাঁত মুবারক ভেঙে গিয়েছিলো, শির মুবারক জখম হয়েছিল এবং রক্ত তাঁর চেহারা বেয়ে পড়ছিলো। তখন তিনি রক্ত মুছতে মুছতে বলছিলেন : সে জাতি কিরূপে কল্যাণ লাভ করতে পারে, যারা তাদের নবী (ﷺ)-এর চেহারাকে রক্তে রঞ্জিত করে দিয়েছে। অথচ তিনি তাদেরকে আল্লাহ্র দ্বীনের প্রতি দাওয়াত দিচ্ছেন। তখন মহান আল্লাহ্ এই আয়াত I নাযিল করলেনঃ لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ ব্যাপারে আপনার কোনো ইখতিয়ার নেই।
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
158 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كُسِرَتْ رَبَاعِيَةُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ وَشُجَّ فَجَعَلَ الدَّمُ يَسِيلُ عَلَى وَجْهِهِ، وَهُوَ يَمْسَحُ الدَّمَ، وَيَقُولُ: كَيْفَ يُفْلِحُ قَوْمٌ خَضَبُوا وَجْهَ نَبِيِّهِمْ بِالدَّمِ وَهُوَ يَدْعُوهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ؟ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ} [آل عمران: 128]
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এটি উহুদ যুদ্ধের প্রসিদ্ধ ঘটনা, যা তৃতীয় হিজরীতে সংঘটিত হয়েছিলো। এ যুদ্ধেই প্রায় ৭০ জন সাহাবী শহীদ হয়েছিলেন। দৃঢ়তা, ত্যাগ ও জীবন কুরবানীর দরুনই আল্লাহ্ তা’আলা মুসলমানদের একটি ক্ষুদ্র দলকে কাফিরদের বিরাট বাহিনীর মুকাবিলায় পরাজয়ের পর বিরাট বিজয় দান করেন। এই যুদ্ধেই এক হতভাগ্য আবদুল্লাহ্ ইব্ন কুমাইয়্যা মুসলমান ব্যূহ ভেদ করে সামনে অগ্রসর হয় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শিরস্ত্রাণের উপর তলোয়ারের আঘাত হানে। ফলে তাঁর দান্দান মুবারক শহীদ হয় এবং শির মুবারক জখম হয়। এই অবস্থায় তাঁর পবিত্র মুখ দিয়ে এই উক্তি নিঃসৃত হলো “সেই জাতি কিভাবে কল্যাণ লাভ করতে পারে, যারা তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারাকে জখম করে দেয়।” কিন্তু আল্লাহ্ পাক রহমতে আলমের মুখ-নিঃসৃত এই উক্তি পছন্দ করলেন না। আয়াত নাযিল হলোঃ لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ তাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) আপনার করণীয় কিছুই নেই। কারণ তারা সীমালংঘনকারী ।
এ ঘটনা থেকেই অনুমান করুন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি পরিমাণ ক্ষমা ও দয়া প্রদর্শন করতেন। মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পরও তিনি ঐ কাফির ও মুশরিকদের জন্য মুখে বদ্ দু’আ করেননি এবং একজন মানুষ হিসেবে তাঁর পবিত্র মুখ থেকে যে উক্তি প্রকাশ পেয়েছে তাও আল্লাহ্র নিকট তাঁর মর্যাদার উপযুক্ত মনে করা হয়নি। তাই আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তাঁকে তৎক্ষণাৎ বলে দেয়া হয়েছে যে, এটা আপনার কাজ নয়। আপনার কাজ তো হচ্ছে ক্ষমা ও দয়া প্রদর্শন করা। কেননা, আপনাকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমতরূপে প্রেরণ করা হয়েছে।
রিওয়ায়াতসমূহে দেখা যায় যে, এই কষ্টদায়ক জখম অবস্থায়ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখে ছিলো এই বাণীঃ رب اغفر قومى فانهم لا يعلمون হে আল্লাহ্! আমার জাতিকে তুমি ক্ষমা করো। কেননা, তারা জানে না।
এ ঘটনা থেকেই অনুমান করুন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি পরিমাণ ক্ষমা ও দয়া প্রদর্শন করতেন। মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পরও তিনি ঐ কাফির ও মুশরিকদের জন্য মুখে বদ্ দু’আ করেননি এবং একজন মানুষ হিসেবে তাঁর পবিত্র মুখ থেকে যে উক্তি প্রকাশ পেয়েছে তাও আল্লাহ্র নিকট তাঁর মর্যাদার উপযুক্ত মনে করা হয়নি। তাই আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তাঁকে তৎক্ষণাৎ বলে দেয়া হয়েছে যে, এটা আপনার কাজ নয়। আপনার কাজ তো হচ্ছে ক্ষমা ও দয়া প্রদর্শন করা। কেননা, আপনাকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমতরূপে প্রেরণ করা হয়েছে।
রিওয়ায়াতসমূহে দেখা যায় যে, এই কষ্টদায়ক জখম অবস্থায়ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখে ছিলো এই বাণীঃ رب اغفر قومى فانهم لا يعلمون হে আল্লাহ্! আমার জাতিকে তুমি ক্ষমা করো। কেননা, তারা জানে না।