আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ১৪৯
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) কর্তৃক অপছন্দনীয় জিনিস পরিহার ও এড়িয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ
১৪৯। হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর অভ্যাস ছিলো, তিনি কারো সামনা-সামনি কোনো কথা খুব কমই বলতেন। অর্থাৎ তাঁর অপছন্দনীয় কোন জিনিস দেখলেও সামনা-সামনি খুব কমই তার প্রতিবাদ করতেন। (সুতরাং) একবার তাঁর সামনে লাউ তরকারির একটি পেয়ালা পেশ করা হলো। তিনি অঙ্গুলি দ্বারা লাউয়ের টুক্রা খোঁজ করছিলেন। তখন এমন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট প্রবেশ করলো যার গায়ে হলুদ রং-এর খুম্বুর চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছিল। লোকটির এভাবে নবী (ﷺ)-এর নিকট আসা তাঁর পছন্দ হলো না। কিন্তু তিনি তাকে কিছুই বললেন না। লোকটির এ ধরনের রং ব্যবহার নবী (ﷺ)-এর পছন্দ হলো না, কিন্তু তিনি কিছুই বলার পূর্বে লোকটি বের হয়ে গেল। তখন নবী (ﷺ) অপর এক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি যদি সে লোকটিকে বলে দিতে যে, হলুদ রং ব্যবহার ছেড়ে দিলেই ভাল হতো।
أبواب الكتاب
وَمَا رُوِيَ فِي إِغْضَائِهِ وَإِعْرَاضِهِ عَمَّا كَرِهَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
149 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْقَاسِمُ بْنُ الْعَبَّادِ الْبَصْرِيُّ، نَا لُوَيْنٌ، نَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ سَلْمٍ الْعَلَوِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَلَّمَا يُوَاجِهُ أَحَدًا بِشَيْءٍ يَكْرَهُهُ، فَقُرِّبَ إِلَيْهِ صَحفَةٌ فِيهَا قَرْعٌ، وَكَانَ يَلْتَمِسُهُ بِأَصَابِعِهِ، فَدَخَلَ رَجُلٌ عَلَيْهِ أَثَرُ صُفْرَةٍ، فَكَرِهَهُ فَلَمْ يَقُلْ لَهُ شَيْئًا حَتَّى خَرَجَ، فَقَالَ لِبَعْضِ الْقَوْمِ: لَوْ قُلْتُمْ لِهَذَا أَنْ يَدَعَ هَذِهِ - يَعْنِي الصُّفْرَةَ "
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এই হাদীস দ্বারা বোঝা যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কারো থেকে অপছন্দনীয় কোন জিনিস হতে দেখে সাথে সাথেই তাকে সাবধান করতেন না। বরং অধিকাংশ সময় উম্মতের প্রতি সহানুভূতিবশত এড়িয়ে যেতেন। লোকটিকে তৎক্ষণাৎ সামনা-সামনি কিছু না বলার পেছনে রহস্য এই ছিলো যে, এভাবে সামনা-সামনি বললে হয়ত লোকটি তাঁর কথা মান্য না করতেও পারে। এতে লোকটির ইহলোক ও পরলোকের সমূহ ক্ষতি হয়ে যাবে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কর্মনীতি এসব বিষয়ের ব্যাপারে হতো যা কোন ‘উত্তম কাজ’ পরিহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতো। এবং এরূপ বিষয়ে দেরিতে সাবধান করলে কোনরূপ ক্ষতি নেই। কিন্তু কোন হারাম ও শরীয়ত নিষিদ্ধ অশ্লীল কাজের বিষয়ে তিনি তৎক্ষণাৎই পাকড়াও করতেন। যাহোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন তাঁর উম্মতের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও মেহেরবান। তাঁর এই দয়া ও স্নেহের কারণেই তিনি কোন অপছন্দনীয় ব্যাপারে যা শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ নহে সঙ্গে সঙ্গে পাকড়াও করতেন না। এর দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উত্তম তালীম ও তারবিয়াতের (শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ) অনুমান করা যায়।