আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ১৩৩
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর নম্রতা ও বিনয়
১৩৩। আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তখন বাচ্চাদের সঙ্গে মিলে খেলাধুলা করছিলাম। তিনি আমাদেরকে সালাম দেন। তারপর আমাকে একটি কাজের জন্য পাঠিয়ে দেন।
أبواب الكتاب
مَا ذُكِرَ مِنْ تَوَاضُعِهِ
133 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَدَائِنِيُّ، نَا أَبُو مَعْمَرٍ صَالِحُ بْنُ حَرْبٍ، نَا سَلَّامُ ابْنُ أَبِي خُبْزَةَ، نَا أَبُو التَّيَّاحِ الضُّبَعِيُّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: أَتَى عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَنَا فِي غِلْمَةٍ نَلْعَبُ، فَسَلَّمَ عَلَيْنَا، ثُمَّ أَرْسَلَنِي فِي حَاجَةٍ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরোক্ত হাদীসগুলোর বক্তব্য অভিন্ন। এখানে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পরম বিনয় ও নম্র আচরণের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এ সব হাদীস থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাচ্চাদের শিক্ষা দানের জন্য নিজেই সালাম দিতেন। আর এভাবে তাদেরকে সালাম দেওয়া তাঁর দৃষ্টিতে কোন লজ্জা বা সম্মানহানিকর বলে মনে হতো না। বলা বাহুল্য, বাচ্চাদেরকে সালাম দেওয়ার মধ্যে বহু উপকারিতা বিদ্যমান। ১. বাচ্চাদেরকে সালাম দেওয়ার দ্বারা তাদের মধ্যে একজন অন্যজনকে সালাম দানের অভ্যাস গড়ে ওঠে। ২. তাতে সমাজে ইসলামী তাহযীব ও তামাদ্দুনের ভিত কায়েম হয়, ৩. নিজে বাচ্চাদেরকে সালাম করার দ্বারা মন থেকে গর্ব ও অহংকার ইত্যাদি দূরীভূত হয়, ৪. ‘আস্‌সালামু আলাইকুম’ বাক্যটি একটি দু’আ বিশেষ। এ দু’আটির ব্যাপক প্রচলনের কারণে শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ গড়ে ওঠে, ৫. এই সালাম ইসলামের বিশেষ একটি প্রতীক। কাজেই সর্বশ্রেণীর মাঝে সালামের ব্যাপক প্রচলন থাকলে সেটি একটি মুসলিম সমাজ বলে বোঝা যায়।
একখানা হাদীসে হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আস (রা) বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ইসলামী আমলগুলোর মধ্যে কোন্ আমলটি সর্বাপেক্ষা উত্তম ? প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন যে, লোকজনকে আহার করানো এবং পরিচিত ও অপরিচিত সকলকে সালাম প্রদান করা। (তারগীব ওয়া তারহীব, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২০৩)
অপর একখানা হাদীসে হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ (হে মানুষ সকল!) তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণভাবে ঈমান আনয়ন করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে না। আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ঈমানদার হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি গড়ে না নিবে। আচ্ছা! আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি কাজের পরামর্শ দিব যে কাজটি করার কারণে তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভালবাসা গড়ে উঠবে ? মনে রেখ! সে কাজটি হলো সালামের বহুল প্রচলন। তোমরা যখনই একজন অন্যজনের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখনই তাকে সালাম করবে। আর সালাম দেওয়াকে নিজেদের বৈশিষ্ট্য বানিয়ে নাও। (তারগীব ওয়া তারহীব, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২০৩)
একটি হাদীসে হযরত বারাআ ইব্‌ন আযিব (রা) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা সালামের ব্যাপক প্রচলন করে নাও। তা হলে নিজেরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে থাকতে পারবে। (ঐ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২০৪)
হযরত সাহল ইব্‌ন হুনাইফ (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি শুধু السلام عليكم বলে তার আমলনামায় দশটি নেকী লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি السلام عليكم ورحمة الله বলে তার আমল নামায় বিশটি নেকী লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি السلام عليكم ورحمة الله وبركاته বলে তার আমলনামায় ত্রিশটি নেকী লেখা হয়। (তারগীব ওয়া তারহীব, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২০৮)
হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, সবচেয়ে অথর্ব হলো সে ব্যক্তি যে দু’আ করতেও অক্ষম (অর্থাৎ আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করতেও জানে না।) আর সবচেয়ে বড় কৃপণ সে ব্যক্তি যে সালাম করার ব্যাপারে কার্পণ্য করে। (তারগীব ওয়া তারহীব, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২০৯)
হযরত আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি আগে সালাম দেয় সে মহান আল্লাহ্‌র অধিক ঘনিষ্ঠ। অর্থাৎ সাক্ষাতের সময় আগে সালাম দেয়ার কারণে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাকের সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করে। (মিশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা ৩৯৮) এভাবে হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মাসঊদ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, অগ্রে সালাম দানকারী ব্যক্তি গর্ব ও অহংকার থেকে মুক্ত থাকে। (মিশকাত, পৃষ্ঠা ৪০০)
একখানা হাদীসে হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেন যে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ এক মুসলমানের উপর অন্য মুসলমানের ছয়টি হক (অধিকার) রয়েছেঃ
এক. সে অসুস্থ হলে তার সেবা-শুশ্রূষা করা,
দুই. সে মারা গেলে তার কাফন ও জানাযায় শরীক হওয়া,
তিন. একজন অন্যজনকে দাওয়াত করলে তা কবুল করা,
চার. একজন অন্যজনের সহিত সাক্ষাতের সময় সালাম করা,
পাঁচ. একজন হাঁচি দিয়ে “আলহামদু লিল্লাহ্’ বলার পর অন্যজন তার জবাব দেওয়া। অর্থাৎ ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা।
ছয়. একজন অন্যজনের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি সর্বাবস্থায় কল্যাণ কামনা করা। (মিশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা ২৯৭)
অপর একখানা হাদীসে হযরত কাতাদা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা নিজ গৃহে প্রবেশের সময় ঘরের লোকজনকে সালাম দিয়ে প্রবেশ কর। আবার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তাদেরকে সালাম দিয়ে বের হও। (যুজাজাতুল মাসাবীহ্, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৮)
ফাওয়ায়ে আলমগীরী গ্রন্থে আছে, “প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নিজ গৃহে প্রবেশের সময় ‘আস্‌সালামু আলাইকুম’ বলে প্রবেশ করা চাই। আর যদি কোন জনশূন্য ঘরে প্রবেশ করে তখন নিম্নোক্ত বাক্যের দ্বারা সালাম করবে। বাক্যটি হলো- السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান