আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ১২৭
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর নম্রতা ও বিনয়
১২৭। হযরত আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাধারণ একজন গোলামের দাওয়াত কবুল করতেন, অসুস্থদের শুশ্রূষা করতেন এবং গাধার পিঠেও আরোহণ করতেন।
أبواب الكتاب
مَا ذُكِرَ مِنْ تَوَاضُعِهِ
127 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا الْقَوَارِيرِيُّ، نَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَرَّادُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُجِيبُ الْعَبْدَ، وَيَعُودُ الْمَرِيضَ، وَيَرْكَبُ الْحِمَارَ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরোক্ত হাদীস থেকেও প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরম বিনয় ও নম্রতার পরিচয় ফুটে উঠে। এভাবে আরো অন্যান্য হাদীস থেকে জানা যায় যে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মজলিসে নিজের জন্য কোন পার্থক্য বজায় না রেখেই বসতেন। তাঁর বসার জন্য পৃথক কোন আসন থাকত না। আর তিনি বসার মধ্যেও নিজেকে ব্যতিক্রম বানিয়ে বসতেন না। তিনি সীমাহীন সরলতা ও অনাড়ম্বরতাসহ মজলিসের যেখানেই সুযোগ পেতেন সেখানেই বসে যেতেন। এ কারণে নতুন আগন্তুক লোকদের জন্য জিজ্ঞেস করে নিতে হতো যে, আপনাদের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন্ জন? কিন্তু পরবর্তী সময়ে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে দূর দেশের বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের আগমন শুরু হলো এবং নবাগতদের নানা প্রশ্নোত্তরের কারণে মজলিসের কাজকর্ম ও আলোচনায় বিঘ্ন ঘটতে লাগল, তখন সাহাবীদের বহু পীড়াপীড়ির দরুন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য একটি পৃথক জায়গা বানানোর আবেদন তিনি মঞ্জুর করেন। ফলে মজলিসের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন্ জন তা নির্ণয় করতে নবাগতদের জন্য সহজ হয়। সাহাবীগণ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বসার জায়গাটির মধ্যে মাটি ফেলে সামান্য উঁচু করে খাটের মত বানিয়ে দেন। তারপরেও প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো সেই উঁচু জায়গায় বসতেন আবার কখনো নিচে বসে উঁচু জায়গাটির উপর হেলান দিয়ে থাকতেন। এতখানি ছিল নবীদের সর্দার শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নম্রতা ও বিনয়।
একটি হাদীসে পাওয়া যায় যে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে কখনো কখনো যবের রুটি কিংবা গন্ধ হয়ে গেছে এমন চর্বি আহারের জন্যও যদি দাওয়াত দেয়া হতো তখনও তিনি কোনরূপ অসন্তুষ্টি প্রকাশ না করে সে দাওয়াত কবুল করতেন। তিনি এমনটা চিন্তা করতেন না যে, এত নিম্নমানের আহারের আমন্ত্রণে আমি কেন যাব?
অনুরূপভাবে তিনি নিজের সাথী-সঙ্গীদের শুশ্রূষার জন্যও যেতেন। অসুস্থ লোকটি আমীর কিংবা গরীব, আযাদ কিংবা গোলাম, ‘ছোট কিংবা বড় – সেই বিবেচনা তাঁর কাছে ছিল না। তিনি অসুস্থের খুব কাছে গিয়ে বসতেন এবং তাকে সান্ত্বনা দিতেন। তার সুস্থতার জন্য দু’আ করতেন । হাদীসগ্রন্থে এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা পাওয়া যায়। ইতিপূর্বেও আলোচিত হয়েছে যে, তিনি সামান্য মানের বাহন গাধার পিঠে আরোহণ করতেও সংকোচ বোধ করতেন না। বলা বাহুল্য, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমকালের সম্রাট ও দু’জাহানের রাসূল ছিলেন। তাঁর নগণ্য একজন গোলাম ব্যক্তিও উচ্চমানের বাহনে আরোহণ করে থাকে। অথচ তিনি নিজে গাধার পিঠে নির্দ্বিধায় আরোহণ করেছেন। এ সব কিছু মূলত তিনি বিনয় ও নম্রতা প্রকাশের জন্যই করেছিলেন। যেন উম্মতের লোকেরা তাঁর এ আদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান