আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ১২৩
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর নম্রতা ও বিনয়
১২৩। মুজাহিদ (রাহঃ) হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম যে, প্রিয় নবী (ﷺ) ঘরের ভিতর থাকাকালে কি কি কাজ করতেন ? তিনি বললেন, নবী (ﷺ) নিজ হাতে নিজের চপ্পল সেলাই করতেন এবং নিজের পোশাকে তালি লাগাতেন।
أبواب الكتاب
مَا ذُكِرَ مِنْ تَوَاضُعِهِ
123 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ بْنِ الْمُجَدَّرِ، نَا أَبُو هَمَّامِ بْنُ شُجَاعٍ، نَا كَعْبُ بْنُ إِسْحَاقَ الْحَلَبِيُّ، نَا خُلَيْدٌ، عَنْ مَعْرُوفٍ الْمَوْصِلِيِّ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَ: قُلْتُ: مَا كَانَ يَصْنَعُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ: يَخْصِفُ النَّعْلَ وَيَرْقَعُ الثَّوْبَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উপরোক্ত তিনটি হাদীসের মর্ম প্রায় অভিন্ন। এখানে গৃহের অভ্যন্তরে থাকাকালে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব কাজকর্ম করতেন বলে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) বর্ণনা করেছেন। তা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ঘরের ভিতরে তিনি অতিশয় সাদাসিধা ও সরল জীবন যাপন করতেন। একজন সাধারণ মানুষের মতই ছিল তাঁর পারিবারিক জীবন। রাজকীয় রীতি-নীতি কিংবা কোন জাঁকজমক তাঁর পরিবারে ছিল না। এখানে গভীরভাবে লক্ষণীয় যে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াতের মহান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হওয়া এবং বিশ্ব নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পদে সমাসীন হওয়া সত্ত্বেও তিনি ঘরে প্রবেশ করে নিজের কাজ নিজ হাতেই সম্পাদন করতেন। পারিবারিক ছোট ছোট কাজগুলি সম্পাদন করতে বিন্দুমাত্র সংকোচ বোধ করতেন না। অনুরূপভাবে তাঁর গৃহে কাজ করার মত লোকের অভাব ছিল এমনও নয়। হযরত আনাস ইব্ন মালিক ও হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন মাসউদ (রা) উভয়ে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর একান্ত খাদেম ছিলেন। প্রিয় নবী-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাজকর্ম আঞ্জাম দেওয়ার কাজে তাঁরা এতটুকু ঘনিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিলেন যে, লোকেরা তাঁদেরকে প্রিয় নবী এর পরিবারের সদস্য বলে মনে করতো। অনুরূপ উম্মুল মু’মিনীনদের জন্যও সেবিকা ছিল। এতদ্সত্ত্বেও প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ ঘরে প্রবেশের পর নিজের কাজকর্ম নিজেই সম্পাদন করতেন।
নম্রতা ও বিনয় আল্লাহ্ পাকের কাছেও প্রিয় এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছেও ছিল প্রিয়। একখানা হাদীসে হযরত আবূ সাঈদ খুদ্রী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে এক ধাপ বিনয় অবলম্বন করবে আল্লাহ্ পাক বেহেশতে তার জন্য এক ধাপ মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। আর যে ব্যক্তি এক ধাপ অহংকার অবলম্বন করবে আল্লাহ্ পাক তার জন্য এক ধাপ মর্যাদা অবনতি করে দিবেন। এভাবে অহংকার অবলম্বনের কারণে আল্লাহ্ পাক ব্যক্তির মর্যাদা ক্রমে ক্রমে অবনতি করে অবশেষে দোযখের সর্বনিম্নে নিক্ষেপ করবেন। (ইব্ন মাজা, পৃষ্ঠা ৫৪৪, মিসর)।
নম্রতা ও বিনয় আল্লাহ্ পাকের কাছেও প্রিয় এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছেও ছিল প্রিয়। একখানা হাদীসে হযরত আবূ সাঈদ খুদ্রী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে এক ধাপ বিনয় অবলম্বন করবে আল্লাহ্ পাক বেহেশতে তার জন্য এক ধাপ মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। আর যে ব্যক্তি এক ধাপ অহংকার অবলম্বন করবে আল্লাহ্ পাক তার জন্য এক ধাপ মর্যাদা অবনতি করে দিবেন। এভাবে অহংকার অবলম্বনের কারণে আল্লাহ্ পাক ব্যক্তির মর্যাদা ক্রমে ক্রমে অবনতি করে অবশেষে দোযখের সর্বনিম্নে নিক্ষেপ করবেন। (ইব্ন মাজা, পৃষ্ঠা ৫৪৪, মিসর)।