আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ১২০
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর নম্রতা ও বিনয়
১২০। হযরত আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিয়ম ছিল যে, তিনি অসুস্থদের শুশ্রূষা করতেন, জানাযার সঙ্গে হেঁটে যেতেন, গোলাম ও শ্রমিকদের আমন্ত্রণ কবুল করতেন এবং গাধার পিঠে আরোহণ করতেন। (রাবী বলেন) প্রিয় নবী (ﷺ) খাইবার যুদ্ধের দিন একটি গাধার পিঠে আরোহী ছিলেন। এ গাধাটির লাগাম ছিল খেজুরের ছাল দিয়ে পাকানো একটি রশি এবং গাধার গদিটি ছিল খেজুরের কতগুলি ছাল ও ডালের দ্বারা বানানো। (ইব্‌ন মাজা, পৃষ্ঠা-৫৪৫)
أبواب الكتاب
مَا ذُكِرَ مِنْ تَوَاضُعِهِ
120 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الطَّالَقَانِيُّ، نَا جَرِيرٌ، عَنْ مُسْلِمٍ الْأَعْوَرِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُ الْمَرِيضَ، وَيَتْبَعُ الْجَنَازَةَ، وَيُجِيبُ دَعْوَةَ الْمَمْلُوكِ، وَيَرْكَبُ الْحِمَارَ، وَكَانَ يَوْمَ خَيْبَرَ، وَيَوْمَ قُرَيْظَةَ، وَالنَّضِيرِ، عَلَى حِمَارٍ مَخْطُومٍ بِحَبْلٍ مِنْ لِيفٍ، تَحْتَهُ إِكَافٌ مِنْ لِيفٍ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরোক্ত হাদীসে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এমন চারটি উন্নত অনুপম সদ্গুণের উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলি সাধারণত কোন নীতিপরায়ণ চরিত্র মাধুরী সম্পন্ন বিনয়ী ব্যক্তির পক্ষেই অবলম্বন করা সম্ভব হয়ে থাকে।
১. অসুস্থের সেবা শুশ্রূষাঃ হাদীসে পাওয়া যায় যে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আশরাফ-আত্‌রাফ, ধনী-নির্ধন, আযাদ-গোলাম নির্বিশেষে সকলের খোঁজ-খবর নিতেন। কারোর অসুস্থতার সংবাদ পেলে নিঃসংকোচে তার শুশ্রূষার জন্য যেতেন। এমন কি একবার তাঁর জনৈক ইয়াহূদী খাদেম অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তিনি সেই ইয়াহূদীর শুশ্রূষা করেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চাচা আবূ তালিব ইসলাম গ্রহণ করেননি। অথচ তার অসুস্থতাকালে তিনি শুশ্রূষার জন্য গিয়েছিলেন।
২. লাশের সঙ্গে যাওয়াঃ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃতের জানাযায় শরীক হতেন। নিজেই জানাযার সালাত পড়াতেন। জানাযার পর লাশের সঙ্গে গোরস্তান পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে দাফন কাজে শরীক হতেন। একদা মসজিদে নববীর ঝাড়ু দানকারিণী এক মহিলা রাত্রিকালে ইন্তিকাল করেন। সাহাবীগণ রাতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কষ্ট হতে পারে এ আশংকায় তাঁকে সংবাদ দেননি। নিজেরাই মহিলার কাফন-দাফনের কাজ সম্পন্ন করে নেন। পরে এ সংবাদ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছলে তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং মহিলার কবরে গিয়ে জানাযা পড়ে আসেন। অনুরূপভাবে মদীনার অধিবাসী আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবাই ইব্‌ন সালূল ছিল মুনাফিকদের নেতা এবং মুসলমানদের চরম শত্রু ও ইসলাম বিদ্বেষী। এ লোকটি মারা গেলে তখনও প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার নামায পড়িয়েছিলেন।
৩. দরিদ্রদের আমন্ত্রণ কবুল করাঃ দরিদ্রদের আমন্ত্রণ কবুল করা এবং তাদের কথা শোনা মানুষের অন্যতম সদ্গুণ। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি মানুষের বক্তব্য শুনতে চেষ্টা করতেন। একটি গোলামও যদি তাঁকে নিজ প্রয়োজন সমাধা করে দেয়ার জন্য নিয়ে যেতে চাইত তখন তিনি নিঃসংকোচে গোলামের সঙ্গে চলে যেতেন। এমন কি কোন ক্রীতদাসী পর্যন্ত তুচ্ছ কোন কাজের জন্য যখন তাঁর কাছে সাহায্য চাইত তখনও তিনি তা সমাধা করে দিতে নিজের মর্যাদার জন্য হানিকর বলে মনে করতেন না।
৪. গাধার পিঠে আরোহণ করাঃ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য উট, ঘোড়া ইত্যাদি জাতীয় উন্নত বাহন গ্রহণের ব্যবস্থা ছিল। অথচ তিনি বিনয় প্রকাশার্থে গাধা ও খচ্চরের পিঠেও সাওয়ার হতেন। বাহন হিসাবে গাধা ব্যবহার করাকে নিজের জন্য অপমানজনক মনে করতেন না । এভাবে প্রয়োজনের মুহূর্তে নিজের পেছনে অন্যকে বসিয়ে নিতেন। খায়বার যুদ্ধ ও বনূ কুরায়যা ও নাযীর যুদ্ধে তিনি যখন একজন সেনাপতি ও মুসলমানদের প্রধান হিসাবে রণক্ষেত্রের পার্শ্ব অতিক্রম করছিলেন তখন তাঁর বাহনটি ছিল সামান্য একটি গাধা। অথচ এমন অবস্থায় অতিশয় বিনয়ী প্রকৃতির নেতাগণও প্রতিপক্ষকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে নিজের শৌর্যবীর্য ও জাঁকজমকের প্রকাশ আবশ্যক বলে মনে করে থাকেন। কিন্তু প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চরিত্র ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী। তিনি স্বভাবজাত নম্রতা ও বিনয় ত্যাগ করে কৃত্রিমতা অবলম্বন করাকে পছন্দ করেননি। এটিই ছিল রাহমাতুল লিল্ আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যথাযোগ্য উত্তম অনুপম আদর্শ।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান