আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ১০১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর বদান্যতা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
১০১। হযরত আব্দুর রহমান ইব্‌ন আবু লায়লা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি, ফাতিমা, আব্বাস ও যায়দ ইব্‌ন হারিসা (রাযিঃ) একবার নবী (ﷺ)-এর নিকট হাযির হলাম। তখন আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার বয়স অনেক হয়েছে এবং আমার শক্তি খর্ব হয়ে গেলো। সুতরাং আপনি সঙ্গত মনে করলে আমার জন্য বায়তুল মাল থেকে এতো এতো ওয়াসাক১ খাদ্যশস্য দেয়ার নির্দেশ দিন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর আবেদন মঞ্জুর করলেন এবং বললেন, আমি অবশ্যই তা করবো। এরপর ফাতিমা (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আপনার চাচার জন্য যে নির্দেশ দিয়েছেন, সঙ্গত মনে করলে আমার জন্যও অনুরূপ সাহায্যের নির্দেশ দিন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর আবেদনও মঞ্জুর করলেন এবং বললেন, আমি তোমার জন্যও তাই করবো। এরপর (তাঁর আযাদকৃত দাস পালক পুত্র) যায়দ ইব্‌ন হারিসা (রাযিঃ) বলেন, আমার নিকট একখণ্ড জমি ছিল। তা দিয়ে আমার জীবিকা নির্বাহ হতো। আপনি আইনের বলে তা বাজেয়াফ্‌ত করেছেন। এখন আপনি যদি সঙ্গত মনে করেন, তবে সেই জমিটুকু আমাকে ফেরত দিন । রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর আবেদনও মঞ্জুর করলেন এবং বললেন, আমি অবশ্যই তা করবো। হযরত আলী (রাযিঃ) বলেন, তারপর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি যদি সঙ্গত মনে করেন, তবে আমাকে বায়তুল মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ মালে গনীমতের অধিকার, যা আল্লাহ্ তাআলা তাঁর কিতাবে আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন—বণ্টন করার মুতাওয়াল্লী বানিয়ে দিন। তাহলে আমি তা আপনার জীবদ্দশায়ই বণ্টন করতে থাকবো এবং আপনার পরে এ ব্যাপারে আমার সাথে কেউ বিবাদে লিপ্ত হতে পারবে না। রাসূলুল্লাহ তাঁর আবেদনও মঞ্জুর করলেন এবং বললেন, আমি তা অবশ্যই করবো। হযরত আলী (রাযিঃ) বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে ঐ এক-পঞ্চমাংশ বণ্টন করার নির্দেশ দান করেন।
أبواب الكتاب
وَأَمَّا [ص:273] مَا ذُكِرَ مِنْ جُودِهِ وَسَخَائِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
101 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنُ عَلِيٍّ الرَّازِيُّ، نَا السَّرِيُّ بْنُ مِهْرَانَ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ هَاشِمِ بْنِ الْبَرِيدِ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَاضِي الرَّيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ: سَمِعْتُ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ: " أَتَيْتُ أَنَا وَفَاطِمَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا وَالْعَبَّاسُ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ الْعَبَّاسُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَبُرَ سِنِّي، وَرَقَّ عَظْمِي، فَإِنْ رَأَيْتَ أَنْ تَأْمُرَ لِي بِكَذَا وَكَذَا وَسْقًا مِنَ الطَّعَامِ، فَافْعَلْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَأَفْعَلُ، فَقَالَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ رَأَيْتَ أَنْ تَأْمُرَ لِي كَمَا أَمَرْتَ لِعَمِّكَ فَافْعَلْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَأَفْعَلُ، فَقَالَ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ: أَرْضًا كَانَتْ مَعِيشَتِي مِنْهَا، ثُمَّ قَبَضْتَهَا، فَإِنْ رَأَيْتَ أَنْ تَرُدَّهَا عَلَيَّ فَافْعَلْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَأَفْعَلُ، فَقُلْتُ: أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنْ رَأَيْتَ أَنْ تُوَلِّيَنِي هَذَا الْحَقَّ الَّذِي جَعَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَنَا فِي كِتَابِهِ مِنْ هَذَا الْخُمُسِ، فَاقْسِمْهُ فِي حَيَاتِكَ حَتَّى لَا يُنَازِعَنِيهِ أَحَدٌ بَعْدَكَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَأَفْعَلُ ذَلِكَ، فَوَلَّانِيهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ "

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

১. ‘ওয়াসাক’ একটি মাপের নাম, যা ষাট সা-এর সমান। সা হলো সাড়ে তিন সের। কারো কারো মতে ‘ওয়াসাক’ এক উট সমান বোঝাকেও বলা হয়।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ পূর্ববর্তী হাদীসসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বদান্যতা সম্পর্কে বিশদ আলোচনা এসেছে। এ হাদীস থেকে বোঝা যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ অন্যদেরকে তাঁর বিপুল বদান্যতা ও দানশীলতা দ্বারা বিভূষিত করতেন, অনুরূপ তাঁর আত্মীয়-স্বজনের সাথেও দয়া-দাক্ষিণ্য প্রদর্শন করতেন—এটাই হচ্ছে আল্লাহ্ তা’আলার নির্দেশ। আর এ কারণেই তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন এবং তাদেরকে ধন-সম্পদ দান করা ছিল তাঁর মহান চরিত্রের একটি বিশেষ গুণ। এ হাদীসে উল্লিখিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট সাহায্য প্রার্থনার জন্য আগত ব্যক্তিগণ ছিলেন তাঁর আত্মীয়-স্বজন। হযরত আব্বাস ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব (রা) তাঁর শ্রদ্ধেয় চাচা। হযরত ফাতিমা (রা) তাঁর কলিজার টুক্রা স্নেহের কন্যা। হযরত আলী (রা) তাঁর চাচাত ভাই ও স্নেহের জামাতা এবং হযরত যায়দ ইব্‌ন হারিসা (রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রিয় সাহাবী ও আযাদকৃত গোলাম ও পালক পুত্র। এই ব্যক্তিগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে নিজ নিজ প্রয়োজন তুলে ধরেন এবং তিনি তাঁর পরম ঔদার্য ও সহানুভূতিবশত তাঁদের সবার আবেদন মঞ্জুর করেন। কাউকেই শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেননি।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান