আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৯৭
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর বদান্যতা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
৯৭। হযরত ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুসলিম জনতা হযরত আবু সুফিয়ান (রাযিঃ)-কে (তাঁর কাফির থাকাকালে মুসলমানদের সাথে চরম শত্রুতা করার কারণে) সুনযরে দেখতেন না। তাঁর সাথে উঠাবসাও করতেন না। একবার আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাকে তিনটি বিশেষ (মর্যাদা) দান করুন। তিনি বললেন, বেশ ভালো (বলো, তা কি?) আবু সূফিয়ান (রাযিঃ) বলেন, আমার কন্যা উম্মু হাবীবা (রাযিঃ) আরবের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী ও রূপসী রমণী। আমি তাকে আপনার নিকট বিবাহ দিলাম। (আপনি কবুল করুন) তিনি বললেন, বেশ ভালো। তারপর তিনি [আবু সুফিয়ান (রাযিঃ)] বললেন, মুআবিয়াকে আপনি আপনার পেশকার বানিয়ে নিন। তিনি বললেন, বেশ তাই করা হলো। এরপর তিনি [আবু সুফিয়ান (রাযিঃ)] বললেন, আপনি আমাকে কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য সেনাপতি (আমীরুল হার্ব) বানিয়ে দিন। যাতে আমি পূর্বে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যেরূপ যুদ্ধ করেছিলাম, এখন কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তার প্রায়শ্চিত্ত করতে পারি। নবী (ﷺ) বললেন, বহুত আচ্ছা। তিনি তাঁকে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বাহিনীর অধিনায়ক বানিয়ে দিলেন। আবু যামীল (রাহঃ) বলেন, আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) যদি নবী (ﷺ) -এর নিকট ঐগুলো প্রার্থনা না করতেন, তবে তিনি তা তাঁকে আদৌ দান করতেন না। কিন্তু কথা হচ্ছে, নবী (ﷺ)-এর নিকট কেউ কোনো জিনিস প্রার্থনা করলে তিনি তা তাকে দান করতেন। অস্বীকার করতেন না।
أبواب الكتاب
وَأَمَّا [ص:273] مَا ذُكِرَ مِنْ جُودِهِ وَسَخَائِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
97 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْجَمَّالُ، نَا أَحْمَدُ بْنُ ثَابِتٍ الرَّازِيُّ، نَا نَصْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَرَشِيُّ، نَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، نَا أَبُو زُمَيْلٍ سِمَاكٌ الْحَنَفِيُّ، نَا ابْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ: " كَانَ الْمُسْلِمُونَ لَا يَنْظُرُونَ إِلَى أَبَى سُفْيَانَ وَلَا يُقَاعِدُونَهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ثَلَاثٌ أَعْطِنِيهِنَّ، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: عِنْدِي أَحْسَنُ الْعَرَبِ وَأَجْمَلُهُ أُمُّ حَبِيبَةَ أُزَوِّجُكَهَا، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: وَمُعَاوِيَةُ تَجْعَلُهُ كَاتِبًا بَيْنَ يَدَيْكَ، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: وَتُؤَمِّرُنِي حَتَّى أُقَاتِلَ الْكُفَّارَ كَمَا قَاتَلْتُ الْمُسْلِمِينَ، قَالَ: نَعَمْ ". قَالَ أَبُو زُمَيْلٍ: وَلَوْلَا أَنَّهُ طَلَبَ ذَاكَ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مَا أَعْطَاهُ، لِأَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُسْأَلُ شَيْئًا قَطُّ، إِلَّا قَالَ: نَعَمْ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস সামান্য পরিবর্তনসহ মুসলিম শরীফে আবূ সুফিয়ানের মর্যাদা ও গুণাবলি অনুচ্ছেদে উল্লিখিত হয়েছে। কিন্তু এ হাদীসের প্রথম অংশ সম্পর্কে হাদীস-বিশেষজ্ঞগণের চরম আপত্তি রয়েছে। আর তা হচ্ছে সকল ঐতিহাসিক এ ব্যাপারে একমত যে, হযরত আবূ সুফিয়ান (রা) ৮ হিজরীতে মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মু হাবীবা (রা)-এর বিবাহ হয়েছিল তার বহু আগে ৬ হিজরী (মতান্তরে ৭ হিজরীতে)। তখন আবূ সুফিয়ান মুসলমানও হননি । সুতরাং এ সময় হযরত আবূ সুফিয়ান (রা) কর্তৃক তাঁর কন্যা উম্মু হাবীবাকে বিবাহের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পেশ করা কোনোক্রমেই সঠিক হতে পারে না। কোনো কোনো আলিম লিখেছেন, মূলত হযরত আবূ সুফিয়ান (রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এই প্রস্তাব করেছিলেন ইসলাম গ্রহণের পরে স্বীয় সন্তোষ প্রকাশের মানসে। যেনো এ সময়ে তিনি স্বীয় সম্মতি জ্ঞাপনার্থে নতুনভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে প্রস্তাব করছেন। যা হোক, হাদীসটির সনদ দুর্বল। এ হাদীস বর্ণনা করা দ্বারা গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বদান্যতা ও দানশীলতা বর্ণনা করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ সুফিয়ানের মতো ইসলামের শত্রুকেও ইসলাম গ্রহণের পর গৌরব ও মর্যাদা দান করতে কার্পণ্য করেননি। এ কারণেই এ হাদীসটি গ্রন্থকার তাঁর কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। যেনো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দরবার থেকে ধনসম্পদের মতো মান- মর্যাদাও অকাতরে দান করা হতো।