আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৯৪
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর বদান্যতা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
৯৪। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর নিকট কোনো বস্তু প্রার্থনা করা হয়েছে এবং তিনি তা নিষেধ করেছেন এরূপ কখনো হয়নি।
أبواب الكتاب
وَأَمَّا [ص:273] مَا ذُكِرَ مِنْ جُودِهِ وَسَخَائِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
94 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، نَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، نَا أَبُو هِشَامٍ الْمُغِيرَةُ بْنُ سَلَمَةَ الْمَخْزُومِيُّ، نَا وُهَيْبٌ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: مَا سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا قَطُّ فَمَنَعَهُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উপরোক্ত চারটি হাদীসের বিষয়বস্তু একই। এগুলো থেকে বোঝা যায় যে, প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা ও অভাবগ্রস্তের অভাব পূরণ করা ছিল নবী -এর প্রকৃতি ও স্বভাবের অন্তর্গত। তিনি কাউকে শূন্য হাতে ও নিরাশ করে ফিরিয়ে দেননি। কখনো মুখে ‘না’ শব্দ উচ্চারণ করেননি। তাঁর এই গুণের কথাই এক আরব কবি এভাবে উল্লেখ করেছেন- ما قال لا قط الا فى تشهده * لولا التشهد كانت لاؤه نعم
“কালিমা শাহাদত ছাড়া তিনি কখনো ‘লা’ (না) বলেননি। কালিমা শাহাদত যদি না হতো তবে তাঁর ‘লা’ (না)-ও নাআম (হ্যাঁ) হয়ে যেত।”
এই মর্মই ফারসী কবি নিম্নোক্ত চরণে ব্যক্ত করেছেন : نزفت لا بزبان مباركش ه كز مكربه * اشهد ان لا اله الا الله
“তাঁর যবান মুবারকে কখনো ‘না’ শব্দ উচ্চারিত হয়নি। যদি হয়ে থাকে, তবে তা হয়েছে কালিমা শাহাদত اشهد ان لا اله الا الله - এর মধ্যে।”
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বদান্যতার ক্ষেত্রে পরিমাণের কোনো প্রশ্ন ছিল না। তিনি ছোট-বড় সব চাওয়া পূরণ করতেন। যেমন পূর্বোক্ত এক হাদীস থেকে জানা যায় যে, জনৈক ব্যক্তি যখন দুই পাহাড়ের উপত্যকাপূর্ণ বক্রীর পাল প্রার্থনা করলো, তখন তিনি তাও দান করে দেন। তাঁর কাছে যদি এর চেয়েও বেশি চাওয়া হতো, তবে তিনি তাও দিয়ে দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এই বদান্যতা তো ছিল কেউ কিছু প্রার্থনা করার সময়। কিন্তু তাঁর নিকট যখন কোথাও থেকে কোনো সম্পদ আসতো, তখন তিনি প্রার্থনা ছাড়াই পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিকে ডেকে ডেকে প্রদান করতেন। তিনি কখনো সম্পদ সঞ্চয় করে রাখতেন না। বরং সত্বর তা বণ্টন করে দিতেন। হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট বাহরাইন থেকে বেশ কিছু মালপত্র এলো। তিনি বললেন, ওগুলো মসজিদের আঙ্গিনায় বিছিয়ে দাও। এর পূর্বে এত সম্পদ তাঁর নিকট কখনো আসেনি। (বুখারী)
তিনি এই সমুদয় সম্পদ সাহাবাদের মধ্যে বিতরণ করলেন। বিতরণের পর তাঁর নিকট একটি দিরহামও অবশিষ্ট ছিল না। দানশীলতা ছিল নবী-এর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু এবং কৃপণতা ছিল সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যাপার। এক হাদীসে হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, বদান্যতা আল্লাহ্ তা’আলার সবচেয়ে বড় সৃষ্টি। (তারগীব ও তারহীব)।
হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতে এমন একটি ঘর আছে, যার নাম ‘বায়তুস্ সাখা’ দান-নিকেতন (তারগীব)। কৃপণতার অপনিন্দায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহু হাদীস বর্ণিত রয়েছে। এক হাদীসে হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুলুম থেকে আত্মরক্ষা করো, কেননা জুলুম কিয়ামতের দিন ঘনঘোর অন্ধকাররূপে আত্মপ্রকাশ করবে। আর কৃপণতা থেকে দূরে থাকো, কেননা কৃপণতাই তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ধ্বংস করেছে। তাদেরকে রক্তারক্তি করতে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং হারামকে হালাল করতে তাদেরকে উৎসাহ যুগিয়েছে (রিয়াদুস্-সালিহীন)। বস্তুত কৃপণতা এমন এক কুঅভ্যাস ও ধ্বংসাত্মক হীন কাজ, যা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রকে কলুষিত করে। কৃপণের কারণেই সমাজে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। পরস্পরে অনৈক্য ও মনোমালিন্য দেখা দেয়। গোটা সমাজ বিপর্যস্ত হয়। কৃপণতার কারণেই গরীব, মিস্কীন, ভিক্ষুক, অভাবগ্রস্ত, অসহায় ও বেকার লোকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় । আর এভাবে গোটা জাতির অবস্থা মন্দ থেকে মন্দতর হতে থাকে। তাছাড়া সাহায্য-সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার দরুন এই লোকগুলোই সমাজে অপরাধ ও বিপর্যয় সৃষ্টির কারণ হয়। ব্যক্তি হিসাবে কৃপণের কার্পণ্য ও ঐশ্বর্য প্রীতির দরুন বন্ধু-বান্ধবের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে বাধ্য হয়। সামান্য সম্পদের জন্য সে লড়াই করতে ও জীবন দিতে প্রস্তুত হয়। ফলে পরস্পরের মধ্যে দুশমনী ও শত্রুতার আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। রক্তারক্তি পর্যন্ত পরিস্থিতি গড়ায়। কৃপণতার এই নিন্দনীয় ও অনিষ্টকর স্বভাব থেকে আল্লাহ্ সকল মুসলিমকে রক্ষা করুন। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও এই কুস্বভাব থেকে মহান আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা করতেন । হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হরমামেশা এই দু’আ করতেনঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ,وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ, وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ হে আল্লাহ্! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুঃসহ চিন্তা ও সন্তাপ থেকে। আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি অসামর্থ্য ও আলস্য থেকে। তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে।
“কালিমা শাহাদত ছাড়া তিনি কখনো ‘লা’ (না) বলেননি। কালিমা শাহাদত যদি না হতো তবে তাঁর ‘লা’ (না)-ও নাআম (হ্যাঁ) হয়ে যেত।”
এই মর্মই ফারসী কবি নিম্নোক্ত চরণে ব্যক্ত করেছেন : نزفت لا بزبان مباركش ه كز مكربه * اشهد ان لا اله الا الله
“তাঁর যবান মুবারকে কখনো ‘না’ শব্দ উচ্চারিত হয়নি। যদি হয়ে থাকে, তবে তা হয়েছে কালিমা শাহাদত اشهد ان لا اله الا الله - এর মধ্যে।”
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বদান্যতার ক্ষেত্রে পরিমাণের কোনো প্রশ্ন ছিল না। তিনি ছোট-বড় সব চাওয়া পূরণ করতেন। যেমন পূর্বোক্ত এক হাদীস থেকে জানা যায় যে, জনৈক ব্যক্তি যখন দুই পাহাড়ের উপত্যকাপূর্ণ বক্রীর পাল প্রার্থনা করলো, তখন তিনি তাও দান করে দেন। তাঁর কাছে যদি এর চেয়েও বেশি চাওয়া হতো, তবে তিনি তাও দিয়ে দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এই বদান্যতা তো ছিল কেউ কিছু প্রার্থনা করার সময়। কিন্তু তাঁর নিকট যখন কোথাও থেকে কোনো সম্পদ আসতো, তখন তিনি প্রার্থনা ছাড়াই পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিকে ডেকে ডেকে প্রদান করতেন। তিনি কখনো সম্পদ সঞ্চয় করে রাখতেন না। বরং সত্বর তা বণ্টন করে দিতেন। হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট বাহরাইন থেকে বেশ কিছু মালপত্র এলো। তিনি বললেন, ওগুলো মসজিদের আঙ্গিনায় বিছিয়ে দাও। এর পূর্বে এত সম্পদ তাঁর নিকট কখনো আসেনি। (বুখারী)
তিনি এই সমুদয় সম্পদ সাহাবাদের মধ্যে বিতরণ করলেন। বিতরণের পর তাঁর নিকট একটি দিরহামও অবশিষ্ট ছিল না। দানশীলতা ছিল নবী-এর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু এবং কৃপণতা ছিল সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যাপার। এক হাদীসে হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, বদান্যতা আল্লাহ্ তা’আলার সবচেয়ে বড় সৃষ্টি। (তারগীব ও তারহীব)।
হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতে এমন একটি ঘর আছে, যার নাম ‘বায়তুস্ সাখা’ দান-নিকেতন (তারগীব)। কৃপণতার অপনিন্দায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহু হাদীস বর্ণিত রয়েছে। এক হাদীসে হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জুলুম থেকে আত্মরক্ষা করো, কেননা জুলুম কিয়ামতের দিন ঘনঘোর অন্ধকাররূপে আত্মপ্রকাশ করবে। আর কৃপণতা থেকে দূরে থাকো, কেননা কৃপণতাই তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ধ্বংস করেছে। তাদেরকে রক্তারক্তি করতে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং হারামকে হালাল করতে তাদেরকে উৎসাহ যুগিয়েছে (রিয়াদুস্-সালিহীন)। বস্তুত কৃপণতা এমন এক কুঅভ্যাস ও ধ্বংসাত্মক হীন কাজ, যা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রকে কলুষিত করে। কৃপণের কারণেই সমাজে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। পরস্পরে অনৈক্য ও মনোমালিন্য দেখা দেয়। গোটা সমাজ বিপর্যস্ত হয়। কৃপণতার কারণেই গরীব, মিস্কীন, ভিক্ষুক, অভাবগ্রস্ত, অসহায় ও বেকার লোকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় । আর এভাবে গোটা জাতির অবস্থা মন্দ থেকে মন্দতর হতে থাকে। তাছাড়া সাহায্য-সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার দরুন এই লোকগুলোই সমাজে অপরাধ ও বিপর্যয় সৃষ্টির কারণ হয়। ব্যক্তি হিসাবে কৃপণের কার্পণ্য ও ঐশ্বর্য প্রীতির দরুন বন্ধু-বান্ধবের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে বাধ্য হয়। সামান্য সম্পদের জন্য সে লড়াই করতে ও জীবন দিতে প্রস্তুত হয়। ফলে পরস্পরের মধ্যে দুশমনী ও শত্রুতার আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। রক্তারক্তি পর্যন্ত পরিস্থিতি গড়ায়। কৃপণতার এই নিন্দনীয় ও অনিষ্টকর স্বভাব থেকে আল্লাহ্ সকল মুসলিমকে রক্ষা করুন। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও এই কুস্বভাব থেকে মহান আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা করতেন । হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হরমামেশা এই দু’আ করতেনঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ,وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ, وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ হে আল্লাহ্! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুঃসহ চিন্তা ও সন্তাপ থেকে। আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি অসামর্থ্য ও আলস্য থেকে। তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে।