আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৯০
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর বদান্যতা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
৯০। হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিকট ইসলামের নামে যখনই কোনো বস্তু চাওয়া হয়েছে, তিনি তা অবশ্যই প্রদান করেছেন। একবার এক ব্যক্তি এসে তাঁর নিকট প্রার্থনা করলো। তিনি তাকে ছাগলের একটি পূর্ণ পালই প্রদান করলেন, যা দুই পাহাড়ের মাঝখানে ছড়িয়ে ছিল। তারপর ঐ ব্যক্তি তাঁর গোত্রের মধ্যে ফিরে গিয়ে বললো, (হে আমার গোত্র) তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো। কেননা মুহাম্মাদ এমনভাবে দান করেন যে, তারপর দারিদ্র্যের কোনো আশংকাই থাকে না ।
أبواب الكتاب
وَأَمَّا [ص:273] مَا ذُكِرَ مِنْ جُودِهِ وَسَخَائِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
90 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى، نَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، نَا مَحْبُوبُ بْنُ الْحَسَنِ، نَا حُمَيْدٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: لَمْ يُسْأَلْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا قَطُّ عَلَى الْإِسْلَامِ إِلَّا أَعْطَاهُ، وَإِنَّ رَجُلًا أَتَاهُ فَسَأَلَهُ، فَأَعْطَاهُ غَنَمًا بَيْنَ جَبَلَيْنِ، فَرَجَعَ إِلَى قَوْمِهِ، فَقَالَ: أَسْلِمُوا، فَإِنَّ مُحَمَّدًا يُعْطِي عَطَاءً مَا يَخْشَى فِيهِ الْفَاقَةَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসটিও সামান্য পরিবর্তনসহ ইতিপূর্বে একটি হাদীসের আওতায় বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পরম দানশীলতা অনুমান করুন। তিনি কতবড় দানশীল ও দাতা ছিলেন তা এর দ্বারাই পরিমাপ করা যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দান ও বশিশের এই অবস্থা ছিল সর্বব্যাপী। যে কেউ তাঁর দরবারে ইসলামের নামে আঁচল পেতে দিতো, যে তার প্রার্থিত বস্তু দ্বারা আঁচল পূর্ণ করে ফিরে যেতো এবং সাথে সাথে তাঁর ঔদার্য ও আল্লাহ্র উপর পূর্ণ ভরসা দেখে তার ঈমান আরো মযবূত হয়ে যেতো। সে তার কাওম ও গোত্রকে এরূপ মূর্তিমান দানশীল ও উদার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দীন কবূল করার উপদেশ দিতো। সত্য বলতে কি, দুনিয়ায় চারিত্রিক শক্তি এমন কিছু করে দেখতে পারে যা সামরিক শক্তি কখনো দেখতে পারে না। চরিত্রই হচ্ছে সেই হাতিয়ার যা দ্বারা চরম ঔদ্ধত্য ও বিদ্রোহী অন্তর বশ করা যায়। একথা মোটেই সত্য নয় যে, তলোয়ার দ্বারা ইসলাম দুনিয়ায় বিস্তার লাভ করেছে। বরং ইসলাম সত্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (আমার মাতা-পিতা তাঁর জন্য উৎসর্গিত হোক) সুমহান চরিত্র ও সমুন্নত গুণাবলির আধ্যাত্মিক শক্তি দ্বারা বিশ্ব-ধর্মে পরিণত হয়েছে, যার বহু জীবন্ত উদাহরণ ইসলামের ইতিহাসে বিধৃত আছে।