আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৮৫
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর বদান্যতা সম্পর্কিত হাদীসসমূহ
৮৫। গাফারার আযাদকৃত গোলাম হযরত উমর ইব্‌ন আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) বলেন, হযরত আলী (রাযিঃ)-এর বংশধর ইবরাহীম ইব্‌ন মুহাম্মাদ ইব্‌ন হানাফিয়্যা (রাহঃ) আমাকে বলেছেনঃ হযরত আলী ইব্‌ন আবু তালিব (রাযিঃ) যখনই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর গুণাবলি বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সবচেয়ে দানশীল ও উদারহস্ত ছিলেন এবং তিনি ছিলেন সবচেয়ে অধিক সুসম্পর্ক রক্ষাকারী। তাই যে কেউ তাঁর সাথে মেলামেশা করতো এবং তাঁর চরিত্র সম্পর্কে অবহিত হতো, সেই তাঁকে অত্যধিক ভালবাসতো।
أبواب الكتاب
وَأَمَّا [ص:273] مَا ذُكِرَ مِنْ جُودِهِ وَسَخَائِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
85 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَبْدُ الرَّحِيمُ بْنُ مُطَرِّفٍ أَبُو سُفْيَانَ السَّرُوجِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، مَوْلَى غُفْرَةَ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، مِنْ وُلْدِ عَلِيٍّ، قَالَ: كَانَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِذَا نَعَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ كَفًّا، وَأَكْرَمَهُمْ عِشْرَةً، مَنْ خَالَطَهُ فَعَرَفَهُ أَحَبَّهُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমস্ত মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদার ছিলেন। বদান্যতা ছিল তাঁর স্বভাবগত আল্লাহ্ প্রদত্ত গুণ। তিনি কখনো কোনো প্রার্থনার জবাবে ‘না’ বলেননি। কোনো প্রার্থনাকারীকে শূন্যহাতে ফিরিয়ে দেননি। দানও করতেন এমন পরিমাণ যে, স্বয়ং প্রার্থনাকারীও তাজ্জব মনে করতো। কখনো কোনো প্রার্থনাকারীকে দেওয়ার জন্য যদি তাঁর কাছে কিছু না থাকতো, তবে তিনি পরে তাকে দেওয়ার ওয়াদা করতেন এবং সে ওয়াদা তিনি পূর্ণ করতেন। কখনো কখনো অন্যের নিকট থেকে ঋণ নিয়ে দান করতেন। মেলামেশা ও সামাজিক আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও তাঁর পবিত্র জীবন ছিল সর্বাধিক সমুন্নত। সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতেন। ছোট-বড়োর শিষ্টাচারের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন এবং সকল প্রতিবেশী ও সাক্ষাৎ প্রার্থীর সাথে তিনি বিনম্র ব্যবহার করতেন। তাঁর এই মহান অনুপম চরিত্র দেখেই লোকেরা তাঁর ভক্ত হয়ে গিয়েছিলো। তাঁকে সকলে অপরিসীম ভালবাসতো। তিনি প্রত্যেকের সাথে যথাযোগ্য সুব্যবহার করতেন। কাউকে কোনো প্রকার কষ্ট দিতেন না। সর্বদা সদ্ব্যবহার, সুবিচার, বিনয়-নম্রতা, সত্য কথা, প্রতিশ্রুতি পালন, শিশু ও ছোটদের প্রতি মমতা প্রদর্শন ছিল তাঁর উন্নত চরিত্রের নিদর্শন। সুতরাং যে ব্যক্তিই তাঁর সাহচর্য কয়েক মুহূর্তও লাভ করতো, সে-ই তাঁকে অত্যন্ত ভালবাসতে শুরু করতো। এক হাদীসে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দানশীল ব্যক্তি আল্লাহ্‌রও নিকটবর্তী, জান্নাতেরও নিকটবর্তী, লোকজনেরও নিকটবর্তী (আর জাহান্নামের) আগুন থেকে দূরবর্তী। পক্ষান্তরে কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ্‌র রহমত থেকেও দূরবর্তী, জান্নাত থেকেও দূরবর্তী, লোকজন থেকেও দূরবর্তী (এবং জাহান্নামের) আগুনের নিকটবর্তী। তিনি আরো বলেন, আল্লাহ্‌র নিকট একজন মূর্খ দানশীল ব্যক্তি একজন কৃপণ শিক্ষিত ব্যক্তি অপেক্ষা অনেক উত্তম (তিরমিযী শরীফ)। সুবহানাল্লাহ্! দানশীলতা আল্লাহ্রও খুব প্রিয়। কেননা, তিনি নিজেই খুব দয়ালু ও দানশীল। তাই তাঁর সুন্দর নামসমূহের মধ্যে ‘দয়ালু’ (جواد) ও দানশীল (كريم)-ও উল্লিখিত হয়েছে। আল্লাহ্ যেমন অপরিসীম দানশীল ও পরম দয়ালু তেমনি তাঁর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদান্যতা ও দানশীলতার ক্ষেত্রে সকল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চতম স্থানের অধিকারী। তাঁর দানশীলতা সম্পর্কিত হাদীসগুলো সামনে বিবৃত হবে। এই হাদীসগুলো দ্বারাই তাঁর বদান্যতা ও দানশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান