আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৭৪
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
empty
৭৪। হযরত উসামা ইব্ন যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন যে, একবার রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) গাধার উপর সাওয়ার ছিলেন। [হযরত সা’দ ইব্ন উবাদা (রাযিঃ)-এর শুশ্রূষার জন্য তিনি গমন করছিলেন। তিনি সা’দ ইব্ন উবাদা (রাযিঃ)-কে (তাঁর গৃহে পৌঁছে) বললেন, তুমি কি শোননি আবু হুবাব অর্থাৎ আব্দুল্লাহ্ ইব্ন উবাই (মুনাফিক নেতা) কি বলেছে ? তিনি তার কথার পুনরুক্তি করে বললেন, সে আমাকে এরূপ এরূপ বলেছে। তখন সা’দ ইব্ন উবাদা (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন এবং উপেক্ষা করুন। তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (বর্ণনাকারী বলেন) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবা কিরাম সাধারণত আহলি কিতাব ও মুশরিকদের এরূপ কটুবাক্য ও ক্লেশদানকেও অনুরূপ ক্ষমা করে দিতেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ (প্রশংসারূপে) এই আয়াত নাযিল করেনঃ {فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [البقرة: 109] তোমরা ক্ষমা করো ও অপেক্ষা করো যতক্ষণ না আল্লাহ্ (যুদ্ধ ও প্রতিশোধের) কোনো নির্দেশ দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
أبواب الكتاب
وَأَمَّا [ص:233] مَا رُوِيَ مِنْ عَفْوِهِ وَصَفْحِهِ
74 - أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ، نَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، نَا بِشْرُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الزُهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكِبَ عَلَى حِمَارٍ، فَقَالَ لِسَعدٍ: أَلَمْ تَسْمَعْ مَا قَالَ أَبُو الْحُبَابِ؟ يُرِيدُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَيٍّ، قَالَ: كَذَا وَكَذَا، فَقَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ: اعْفُ عَنْهُ وَاصْفَحْ، فَعَفَا عَنْهُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَأَصْحَابُهُ يَعْفُونَ عَنْ أَهْلِ الْكِتَابَيْنِ وَالْمُشْرِكِينَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: {فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [البقرة: 109]
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এখানেও যেহেতু গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ক্ষমা ও দয়া গুণের বর্ণনা করা, সেহেতু পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেননি। বরং ঐ সংক্রান্ত অংশটুকু বর্ণনা করাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। পুরো হাদীসটি সহীহ্ বুখারীতে উল্লিখিত হয়েছেঃ একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত সা’দ ইব্ন উবাদা (রা)-এর শুশ্রূষার জন্য গাধার উপর আরোহণ করে রওয়ানা করেন। তাঁর পিছনে তিনি উসামা ইব্ন যায়দ (রা)-কে বসিয়ে নেন। তিনি একটি জনসমাবেশের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেখানে মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবাই ইব্ন সালূলও উপস্থিত ছিল। সমাবেশে উপস্থিতদের মধ্যে মুসলমান, ইয়াহূদী, মুশরিক সবাই ছিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাহনের চলার কারণে যখন ধুলাবালি উড়ে গিয়ে সমাবেশে পড়লো, তখন আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবাই তার নাকে চাদর গুঁজে দিলো এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললো, দেখো, আমাদের উপর ধুলি উড়িয়ো না। তোমার গাধার ধুলোবালি আমার দেমাগ খারাপ করে দিয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথায় কর্ণপাত করলেন না এবং সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে সালাম করে বাহন থেকে নেমে অমুসলিমদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়া শুরু করেন। কিন্তু সে (আবদুল্লাহ্) তাঁকে সম্বোধন করে বললো, দেখো, এটা ঠিক না, আমাদের সভায় এসে আমাদের বিব্রত করবে না। তুমি তোমার বাহনের উপর উঠো এবং যে তোমার কাছে যাবে তাকে তোমার দীনের দাওয়াত দাও। তখন আবদুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) যিনি ঐ সভায় উপবিষ্ট ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, আপনি অবশ্যই আমাদের সভা-সমাবেশে আগমন করবেন। আমরা আপনার আহ্বান ও বক্তব্য পছন্দ করি। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি এতই বেড়ে গেলো যে, মুসলিম, ইয়াহূদী ও মুশরিকদের পরস্পরের মধ্যে বচসা, গালিগালাজ ও হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। এমনকি যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিকষ্টে তাদেরকে থামিয়ে দেন এবং ব্যাপারটি মিটমাট হয়ে যায়। এরপর তিনি তাঁর বাহনের উপর আরোহণ করে সাদ ইব্ন উবাদা (রা)-এর বাড়িতে গমন করেন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎকালে তাঁকে বলেনঃ হে সা’দ! তুমি কি শোননি যে, একটু আগে আবূ হুবাব অর্থাৎ আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবাই ইব্ন সালূল কি বলেছে ? সাদ (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি তাকে ক্ষমা করুন এবং তার কথার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করবেন না। এটি ইসলামের প্রথম দিকের ঘটনা। তখনো জিহাদ ও যুদ্ধের হুকুম নাযিল হয়নি। তখন মুসলিমদের প্রতি নির্দেশ ছিল ঐসব কাফির ও ইয়াহূদীদের নিকট থেকে কোনোরূপ প্রতিশোধ না নেয়ার এবং তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ও যুদ্ধ করার নির্দেশ নাযিল না হওয়া পর্যন্ত ক্ষমা ও উপেক্ষা করে চলার। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত উন্নত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন যে, জিহাদ ও যুদ্ধের হুকুম নাযিল হওয়ার পরও তিনি মদীনার ঐ সব মুনাফিককে তাদের মুনাফিকী ও ইসলামের বিরোধিতার জন্য শাস্তি দেননি এবং তাদের বিরুদ্ধে কখনো যুদ্ধ করেননি। এই ক্ষমা ও দয়ার ফলেই ক্রমে ক্রমে সমস্ত মুনাফিক অবশেষে একনিষ্ঠ মুসলমান হয়ে যায়। কেবল কয়েকজন ছাড়া, যারা তাদের মুনাফিক থাকা অবস্থায়ই বিভীষিকাময় মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে।