ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার
৪৩. যাবতীয় মা'ছুর দোয়া-যিক্র
হাদীস নং: ২৭০৯
যাবতীয় মা'ছুর দোয়া-যিক্র
করুণাময়ের প্রিয় দুটি বাক্য দিয়ে পুস্তকের পরিসমাপ্তি
(২৭০৯) আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দুই বাক্য করুণাময়ের নিকট প্রিয়, জিহ্বার উপরে হালকা, কিয়ামতের দাড়িপাল্লায় ভারী: ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি' (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তার প্রশংসা করছি), 'সুবহানাল্লাহিল আযীম' (মহিমাময় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি) ।
كتاب الذكر و الدعاء
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: كلمتان حبيبتان إلى الرحمن خفيفتان على اللسان ثقيلتان في الميزان: سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم.
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
(বুখারি ও মুসলিম । মহান আল্লাহ তাদের প্রতি এবং উম্মাতে মুহাম্মাদির সকল মুহাদ্দিস, ফকীহ, মুজতাহিদ, আমলকারী আলিম, কামিল ওলি সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) । [সহীহ বুখারি, হাদীস-৬৪০৬, ৬৬৮২, ৭৫৬৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস-২৬৯৪; সুনান তিরমিযি, হাদীস-৩৪৬৭; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-৩৮০৬]
গ্রন্থকার বলেন, (আল্লাহ তার কর্ম কবুল করেন এবং তার উপরে তাঁর নিআমত পরিপূর্ণ করেন) ১৩৫৯ হিজরির রামাদান মাসের ২৭ তারিখের শেষ রাতে সাহরির সময়ে প্রভাতের পূর্বে (১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসের ২৮ বা ২৯ তারিখ) কলকাতা শহরের নাখোদা মসজিদে এই পুস্তকের হাদীসগুলো জমা ও বিন্যাস করার কর্ম শেষ হল । এই পুস্তকের কাজ শুরু করা হয়েছিল ১৩৫৮ হিজরির যুলহাজ্জ মাসের ২০ তারিখে (৩০/১/১৯৪০)। শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে সকল প্রশংসা আল্লাহর নিমিত্ত। হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি আমাদের থেকে কবুল করুন, নিশ্চয় আপনি মহাশ্রোতা মহাজ্ঞানী । এবং আপনি আমাদের তাওবা কবুল করুন, নিশ্চয় আপনি তাওবা কবুলকারী পরম করুণাময় । মহান আল্লাহ সালাত প্রেরণ করুন তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর, তার পরিবার-বংশধর ও সাহাবিগণের সকলের উপর এবং অনেক অনেক সালাম প্রেরণ করুন । সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালন আল্লাহর ।
গ্রন্থকার বলেন, (আল্লাহ তার কর্ম কবুল করেন এবং তার উপরে তাঁর নিআমত পরিপূর্ণ করেন) ১৩৫৯ হিজরির রামাদান মাসের ২৭ তারিখের শেষ রাতে সাহরির সময়ে প্রভাতের পূর্বে (১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসের ২৮ বা ২৯ তারিখ) কলকাতা শহরের নাখোদা মসজিদে এই পুস্তকের হাদীসগুলো জমা ও বিন্যাস করার কর্ম শেষ হল । এই পুস্তকের কাজ শুরু করা হয়েছিল ১৩৫৮ হিজরির যুলহাজ্জ মাসের ২০ তারিখে (৩০/১/১৯৪০)। শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে সকল প্রশংসা আল্লাহর নিমিত্ত। হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি আমাদের থেকে কবুল করুন, নিশ্চয় আপনি মহাশ্রোতা মহাজ্ঞানী । এবং আপনি আমাদের তাওবা কবুল করুন, নিশ্চয় আপনি তাওবা কবুলকারী পরম করুণাময় । মহান আল্লাহ সালাত প্রেরণ করুন তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর, তার পরিবার-বংশধর ও সাহাবিগণের সকলের উপর এবং অনেক অনেক সালাম প্রেরণ করুন । সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালন আল্লাহর ।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উক্ত দু'টি কালিমা রসনার জন্যে হাল্কা হওয়ার ব্যাপারটি তো সুস্পষ্ট, আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রিয় হওয়ার ব্যাপারটিও সহজেই বোধগম্য, কিন্তু আমলনামা ওজনের পাল্লায় ভারী হওয়ার ব্যাপারটা হয় তো অনেকে সহজভাবে বুঝে উঠতে পারবেন না। আসল ব্যাপার হচ্ছে, যেভাবে বস্তুজগতের বস্তুনিচয় হাল্কা ও ভারী হয়ে থাকে এবং এগুলো পরিমাপের জন্যে পাত্র বা যন্ত্র থাকে, এগুলোই সেগুলোর পরিমাপক। উদাহরণ স্বরূপ শীতাতপ পরিমাপের কথা ধরা যেতে পারে। এগুলো যদিও কোন বস্তু নয়, বস্তুর অবস্থা বিশেষ; কিন্তু এতদসত্ত্বেও এগুলো পরিমাপের জন্যে থার্মোমিটার রয়েছে। অনুরূপভাবে কিয়ামতের দিন আল্লাহর নামের ওজন হবে। যিকিরের কালিমাসমূহের ওজন হবে। তিলাওয়াতে কুরআনের ওজন হবে। সালাতের ওজন হবে। ঈমান এবং আল্লাহ ভীতি ও তাঁর প্রতি ভালবাসার ওজন হবে। সে সময় এ ব্যাপারটি বোধগম্য হবে যে, অনেক ছোট ও হাল্কা বস্তুও সীমাহীন ওজনদার হবে। অপর এক হাদীসে হুযুর ﷺ ফরমান :
لَا يَزِنُ مَعَ اسْمِ اللّٰهِ شَيْئٌ
"আল্লাহর নামের সাথে আর কিছুই ওজনে সমান হবে না।"
এই কালিমা سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهٖ سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ এর অর্থ হচ্ছে, আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, তাঁর স্তবস্তুতির সাথে আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি- যিনি অনেক বড় ও মহান।
لَا يَزِنُ مَعَ اسْمِ اللّٰهِ شَيْئٌ
"আল্লাহর নামের সাথে আর কিছুই ওজনে সমান হবে না।"
এই কালিমা سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهٖ سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ এর অর্থ হচ্ছে, আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, তাঁর স্তবস্তুতির সাথে আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি- যিনি অনেক বড় ও মহান।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)