ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৩৪. কুরবানী ও আকীকা অধ্যায়

হাদীস নং: ২৩২৩
কুরবানী ও আকীকা অধ্যায়
আকীকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ
(২৩২৩) সামুরাহ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, প্রত্যেক শিশু তার আকীকার সাথে বন্ধককৃত শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে আকীকা জবাই করতে হবে, তার মাথা মুণ্ডন করা হবে এবং নাম রাখা হবে।
كتاب الأضحية
عن سمرة رضي الله عنه مرفوعا قال: كل غلام زمين بعقيقته تذبح عنه يوم سابعه ويحلق رأسه ويسمى.

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(আহমাদ ও সুনান চতুষ্টয় । তিরমিযি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন) । [মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-২০১৩৯; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-২৮৩৮; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-৩১৬৫; সুনান নাসায়ি, হাদীস-৪২২০; সুনান তিরমিযি, হাদীস-১৫২২]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আকীকার পশুর বিনিময়ে সন্তান বন্ধক থাকে, হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এ কথাটির কয়েকটি মর্ম বর্ণনা করেছেন। এ অধমের নিকট সবচেয়ে মনঃপূত কথা এই যে, সন্তান আল্লাহ্ তা'আলার দেওয়া এক বিরাট নেয়ামত, আর সামর্থ্যবান ব্যক্তির পক্ষ থেকে আকীকার পশু যবেহ করা হচ্ছে এর শোকরানা, যেন এটা শিশুর ফিদয়া বা দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি। যে পর্যন্ত এ শোকরানা পেশ করা না হবে এবং ফিদয়া আদায় না করা হবে, সে পর্যন্ত এ দায়বদ্ধতা অবশিষ্ট থাকবে, আর শিশু যেন এর বিনিময়ে বন্ধক থাকবে।

জন্মের দিনই আকীকা করার হুকুম সম্ভবত এ কারণে দেওয়া হয়নি যে, এ সময় পরিবারের লোকেরা মা ও শিশুর দেখাশুনা ও তাদের সেবা যত্নের চিন্তায়ই ব্যস্ত থাকে। তাছাড়া ঐ দিনই শিশুর মাথা মুণ্ডানোতে চিকিৎসা বিধির দৃষ্টিতে ক্ষতির আশংকা থাকে। এক সপ্তাহ সময়কাল এমন যে, এর মধ্যে প্রসূতিও সাধারণত স্বাভাবিক হয়ে যায়, আর শিশুও সাত দিন পর্যন্ত এ জগতের আলো-বাতাসে এমন হয়ে যায় যে, এখন তার মাথা পরিষ্কার করে দিলে আর কোন ক্ষতির আশংকা থাকে না।
এ হাদীস থেকে এবং অন্যান্য হাদীস থেকেও জানা যায় যে, আকীকার সাথে সপ্তম দিবসে শিশুর নামও রাখা হবে। কিন্তু কোন কোন হাদীসে দেখা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কোন শিশুর নাম জন্মের দিনই রেখে দিয়েছিলেন। এ জন্য সপ্তম দিবসের আগে নাম রেখে দেওয়াতে কোন ক্ষতি নেই। হ্যাঁ, যদি আগে নাম না রাখা হয়ে থাকে, তাহলে সপ্তম দিবসে আকীকার সাথে নাম রেখে নেওয়া হবে। যেসব হাদীসে সপ্তম দিবসে আকীকার সাথে নাম রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এর অর্থ এটাই বুঝতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান