ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

১৬. অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গ

হাদীস নং: ১৯৯২
অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গ
অংশীদারদ্বয়ের মর্যাদা, যদি একজন আরেকজনের বিশ্বাসভঙ্গ না করে
(১৯৯২) আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, দুইজন অংশীদারের সাথে আমি তৃতীয় হিসেবে থাকি, যতক্ষণ না তাদের একজন অপরজনের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ বা খিয়ানত করে। যখন তাদের একে অন্যের বিশ্বাসভঙ্গ করে তখন আমি তাদের মধ্য থেকে বেরিয়ে যাই।
كتاب الشركة
عن أبي هريرة رضي الله عنه رفعه قال: إن الله يقول: أنا ثالث الشريكين ما لم يكن أحدهما صاحبه فإذا خانه خرجت من بينهما

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(আবু দাউদ । হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)। [সুনান আবু দাউদ, হাদীস-৩৩৮৩; মুস্তাদরাক হাকিম, হাদীস-২৩২২]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উলামা ও লিখক বৃন্দের পরিভাষা অনুযায়ী এটা হাদীসে কুদসী। কেননা, এতে রাসুলুল্লাহ ﷺ আল্লাহ তা'আলার বাণী উল্লেখ করেছেন। এতে আনুষাঙ্গিক রূপে একথাও জানা গেল যে, ব্যবসা-বাণিজ্যে অংশীদারিত্ব বৈধ এবং কল্যাণের হেতুও।

ইমাম বুখারী (র) ব্যবসায়-বাণিজ্যের অংশীদারিত্বের অধ্যায়েই যুহরা ইবনে মা'বাদ তাবিঈ-এর বর্ণনায় এ ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছেন যে, আমার দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে হিশামকে নিয়ে তাঁর ছোট বেলায়ই তাঁর মা (যয়নব বিনতে হুমাইদ) নবী করীম ﷺ-এর নিকট উপস্থিত হন এবং আরজ করেন যে, হুযুর! আমার এ ছেলেকে বায়'আত করুন। তিনি বললেন, (هو صغير) সে-তো এখনও অল্প বয়সী। এরপর তিনি তাঁর মাথায় হাত বুলালেন ও তাঁর জন্য দু'আ করলেন। (যুহরা ইবনে মা'বাদ বর্ণনা করেন যে,) এরপর আমার এ দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে হিশাম যখন ব্যবসায়-বাণিজ্য করতে লাগলেন, তখন আমি তাঁর সাথে বাজার ও আড়তে যেতাম। তখন অধিকাংশ সময় এরূপ হত যে, তিনি ব্যবসার জন্য খাদ্যশস্য ক্রয় করতেন; এমতাবস্থায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ও আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (উভয়ই মর্যাদাবান সাহাবী) তাঁর সাথে সাক্ষাত করে বলতেন, আমাদেরকেও শরীক করুন, অংশীদার করে নিন। কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ আপনার জন্য কল্যাণের দু'আ করেছেন। (তাই এ দু'আর কল্যাণে ইন্‌শাআল্লাহ খুব লাভ হবে)। আমার দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে হিশাম পণ্যদ্রব্যে এই দুই সাহাবীকেও শরীক করে নিতেন। তখন অধিকাংশ সময় এত লাভ হতো যে, পূর্ণ এক উট খাদ্যশস্য লাভ হিসাবে বেঁচে যেত, যা তাঁরা নিজেদের ঘরে পাঠিয়ে দিতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান