আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৬৩- পোষাক-পরিচ্ছদের বর্ণনা
হাদীস নং: ৫৪৭৩
আন্তর্জাতিক নং: ৫৮৯৩
- পোষাক-পরিচ্ছদের বর্ণনা
৩১২৪. দাঁড়ি বড় রাখা।
৫৪৭৩। মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা গোঁফ বেশী ছোট করবে এবং দাঁড়ি বড় রাখবে।
كتاب اللباس
بَابُ إِعْفَاءِ اللِّحَى{عَفَوْا} [النساء: 43] : «كَثُرُوا وَكَثُرَتْ أَمْوَالُهُمْ»
5893 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «انْهَكُوا الشَّوَارِبَ، وَأَعْفُوا اللِّحَى»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
অন্য কোন কোন হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, পূর্ববর্তী নবী-রাসূলদের তরীকাও এটাই ছিল যে, তারা দাড়ি রাখতেন এবং মোচ ছোট করতেন। একথা স্পষ্ট যে, দাড়ি পুরুষত্বের চিহ্ন ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক। স্বয়ং পাশ্চাত্য সমাজেও (যেখানে দাড়ি না রাখার ব্যাপক প্রচলন) দাড়িকে সম্মানের চোখে দেখা হয়। হায়! আমরা মুসলমানরা যদি উপলব্ধি করতাম যে, দাড়ি রাখা আমাদের মহান পথ প্রদর্শক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সকল নবী-রাসূলের সুন্নত এবং তাদের তরীকার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার লক্ষণ, আর দাড়ি না রাখা তাদের অস্বীকারকারীদের পথ।
এ হাদীসে কেবল দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার (রেখে দেওয়ার) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; কিন্তু এর কোন উল্লেখ নেই যে, কোন পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়া হবে; বরং এর শব্দমালা দ্বারা সন্দেহ হতে পারে যে, কোন অবস্থাতেই এতে কাচি লাগানো যাবে না এবং খাটো করা যাবে না। কিন্তু ইমাম তিরমিযীর মুত্তাসিল বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি.-এর যে হাদীস লিপিবদ্ধ করা আছে, এর দ্বারা জানা যায় যে, স্বয়ং হুযুর (ﷺ) নিজের দাড়ি মুবারক (সমান ও সোজা করার জন্য) এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ থেকে কিছুটা কেটে নিতেন। তাছাড়া উপরে উল্লেখিত হাদীস انهكوا الشوارب واعفوا اللحى -এর বর্ণনাকারী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. সম্পর্কেও বর্ণনা পাওয়া যায় যে, তার দাড়ির যে চুলগুলো এক মুঠের উপর হত তিনি এগুলো ছেটে নিতেন। অন্যান্য কোন কোন সাহাবীর কার্যধারাও এটাই বর্ণনা করা হয়েছে। এসব বর্ণনার আলোকে ব্যাখ্যাধীন হাদীস انهكوا الشوارب وأعفوا اللحى -এর মর্ম ও দাবী এটাই হবে যে, দাড়ি রাখতে হবে, এটা মুণ্ডন করাও যাবে না, আর বেশী খাটোও করা যাবে না।
আমাদের ফকীহগণ এক মুঠ থেকে কম করাকে নাজায়েয বলেছেন। এ কথার ভিত্তি এটাই যে, সাহাবায়ে কেরাম থেকে এক মুঠ পর্যন্ত রাখা প্রমাণিত রয়েছে, এর চেয়ে কম রাখার কোন প্রমাণ নেই।
এ হাদীসে কেবল দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার (রেখে দেওয়ার) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; কিন্তু এর কোন উল্লেখ নেই যে, কোন পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়া হবে; বরং এর শব্দমালা দ্বারা সন্দেহ হতে পারে যে, কোন অবস্থাতেই এতে কাচি লাগানো যাবে না এবং খাটো করা যাবে না। কিন্তু ইমাম তিরমিযীর মুত্তাসিল বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি.-এর যে হাদীস লিপিবদ্ধ করা আছে, এর দ্বারা জানা যায় যে, স্বয়ং হুযুর (ﷺ) নিজের দাড়ি মুবারক (সমান ও সোজা করার জন্য) এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ থেকে কিছুটা কেটে নিতেন। তাছাড়া উপরে উল্লেখিত হাদীস انهكوا الشوارب واعفوا اللحى -এর বর্ণনাকারী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. সম্পর্কেও বর্ণনা পাওয়া যায় যে, তার দাড়ির যে চুলগুলো এক মুঠের উপর হত তিনি এগুলো ছেটে নিতেন। অন্যান্য কোন কোন সাহাবীর কার্যধারাও এটাই বর্ণনা করা হয়েছে। এসব বর্ণনার আলোকে ব্যাখ্যাধীন হাদীস انهكوا الشوارب وأعفوا اللحى -এর মর্ম ও দাবী এটাই হবে যে, দাড়ি রাখতে হবে, এটা মুণ্ডন করাও যাবে না, আর বেশী খাটোও করা যাবে না।
আমাদের ফকীহগণ এক মুঠ থেকে কম করাকে নাজায়েয বলেছেন। এ কথার ভিত্তি এটাই যে, সাহাবায়ে কেরাম থেকে এক মুঠ পর্যন্ত রাখা প্রমাণিত রয়েছে, এর চেয়ে কম রাখার কোন প্রমাণ নেই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)