ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৫. রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩৫৪
রোযার অধ্যায়
২৭ তারিখের রাতে লাইলাতুল কদর
(১৩৫৪) যিরর ইবন হুবাইশ বলেন, উবাই ইবন কা'ব রা. কোনো শর্ত বা ব্যতিক্রমের সম্ভাবনা বাতিল করে দিয়ে শপথ করে বলেন, লাইলাতুল কদর ২৭ তারিখের রাত । আমি তখন বললাম, হে আবুল মুনযির, আপনি কিসের ভিত্তিতে একথা বলছেন? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে যে চিহ্নের কথা বলেছেন সেই চিহ্ন দ্বারা, তা হল লাইলাতুল কদরের সকালে সূর্যোদয়ের সময় সূর্যের বিকীরণ (radiation) থাকে না।
كتاب الصيام
عن زر بن حبيش عن أبي بن كعب رضي الله عنه أنه حلف لا يستثني أنها ليلة سبع وعشرين فقلتُ بأي شيء تقول ذلك يا أبا المنذر قال بالعلامة أو بالآية التي أخبرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أنها تطلع يومئذ لا شعاع لها

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

[সহীহ মুসলিম, হাদীস-৭৬২]

আবু দাউদ অনুরূপ হাদীস মুআবিয়া রা.র সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে সঙ্কলন করেছেন । হাদীসটি মুআবিয়ার কথা হিসাবেও বর্ণিত হয়েছে।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাযি.-এর উত্তর দ্বারা বুঝা গেল যে, তিনি যে নিশ্চিতভাবে এ কথা বলেছেন যে, শবে ক্বদর নির্দিষ্টভাবে সাতাশতম রাতেই হয়, একথা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেননি; বরং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যে একটি লক্ষণ বলে দিয়েছিলেন, তিনি যেহেতু এ লক্ষণ ও আলামতটি সাধারণতঃ সাতাশতম রাতের সকালেই দেখেছিলেন, এ জন্য প্রত্যয়ের সাথে তিনি এ মত পোষণ করে নিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো তো এই বলেছেন যে, রমযানের শেষ দশ দিনে এর অনুসন্ধান কর, কখনো বলেছেন, শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান কর, আবার কখনো শেষ দশকের পাঁচটি বেজোড় রাতের চার অথবা তিন রাতের কথা বলেছেন। কোন বিশেষ রাতকে তিনি নির্দিষ্ট করে দেননি। হ্যাঁ, অনেক অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা এই যে, এটা প্রায়ই সাতাশতম রাতেই হয়ে থাকে। শবে ক্বদরকে এভাবে অনির্দিষ্ট রাখার মধ্যে হেকমত ও রহস্য এটাই যে, একটিমাত্র রাতের জন্য বসে না থেকে আল্লাহপ্রেমিক বান্দারা যেন বিভিন্ন রাতে ইবাদত, যিকির ও দু‘আয় মশগুল থাকে। যারা এমন করবে, তাদের সাফল্য সুনিশ্চিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)