ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৫. রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩৫১
রোযার অধ্যায়
ই'তিকাফকারী রোগী দেখতে যাবেন না, জানাযায় উপস্থিত হবেন না এবং নিজ স্ত্রীকে স্পর্শ করবেন না
(১৩৫১) আয়িশা রা. বলেন, ই'তিকাফকারীর জন্য সুন্নত হল যে, সে কোনো অসুস্থ মানুষকে দেখতে যাবে না, কোনো জানাযায় উপস্থিত হবে না, স্ত্রীকে স্পর্শ করবে না, স্ত্রীকে আলিঙ্গন করবে না বা সহবাস করবে না, কোনো প্রয়োজনের জন্য বের হবে না, শুধুমাত্র যে প্রয়োজন না মিটিয়ে কোনো উপায় নেই সেই প্রয়োজনের জন্য বের হবে। আর সিয়াম ছাড়া কোনো ই'তিকাফ হয় না এবং জামে' মসজিদ ছাড়া ই'তিকাফ হয় না।
كتاب الصيام
عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: السنة على المعتكف أن لا يعود مريضا ولا يشهد جنازة ولا يمس امرأة ولا يباشرها ولا يخرج لحاجة إلا لما لا بد منه ولا اعتكاف إلا بصوم ولا اعتكاف إلا في مسجد جامع

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(আবু দাউদ । হাফিয ইবন হাজার বলেন, এই হাদীসের সনদের রাবীগণ গ্রহণযোগ্য। তবে অধিকাংশ রাবীর বর্ণনার আলোকে বোঝা যায় যে, হাদীসটি আয়িশা রা.র কথা ও মতামত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীস নয়)। [সুনান আবু দাউদ, হাদীস-২৪৭৩]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে কেউ যদি বলেন, 'সুন্নত-রীতি হচ্ছে এই' তাহলে এর অর্থ এই হয় যে, এটা শরী‘আতের বিধান এবং এর দ্বারা একথাও বুঝা যায় যে, এ মাসআলাটি তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথা অথবা কর্মধারা থেকে জেনেছেন। এ জন্য এটা 'মারফু' হাদীসের মধ্যেই গণ্য হয়। এ ভিত্তিতে হযরত আয়েশা রাযি.-এর এ হাদীসে ইতিকাফের যে মাসআলাগুলোবর্ণনা করা হয়েছে, এগুলো হুযুর (ﷺ)-এর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য হিসাবেই গণ্য হবে।

হাদীসের শেষে 'মসজিদে জামে' বলে যে শব্দটি এসেছে, এর দ্বারা জামা‘আতের মসজিদ উদ্দেশ্য। অর্থাৎ, যে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযই নিয়মিত জামা‘আতের সাথে আদায় করা হয়। হযরত ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মতে ইতিকাফের জন্য রোযাও শর্ত এবং জামা‘আতের মসজিদ হওয়াও শর্ত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান