ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার
৩. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৯৯৫
নামাযের অধ্যায়
জুমুআর দিনের মর্যাদা, এই দিনে দরূদ পাঠের মর্যাদা এবং নবীগণের দেহের মর্যাদা
(৯৯৫) আউস ইবন আউস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের সর্বোত্তম দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম দিন হল শুক্রবার। এই দিনেই আদম আ.কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই দিনেই প্রলয়ের ফুৎকার দেওয়া হবে এবং এই দিনেই প্রলয়ের অচৈতন্য। কাজেই, (এই দিনে) তোমরা আমার উপর বেশী করে সালাত (দরূদ) পাঠ করবে, কারণ তোমাদের সালাত আমার কাছে পেশ করা হবে। সাহাবিগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তো (কবরের মাটিতে) বিলুপ্ত হয়ে যাবেন বা বিচূর্ণ হয়ে যাবেন, কীভাবে তখন আমাদের দরূদ আপনার নিকট পেশ করা হবে? তিনি বলেন, মহান আল্লাহ মাটির জন্য নিষিদ্ধ করেছেন যে, সে নবীদের দেহ ভক্ষণ করবে।
كتاب الصلاة
عن أوس بن أوس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن من أفضل أيامكم يوم الجمعة فيه خلق آدم عليه السلام وفيه قبض وفيه النفخة وفيه الصعقة فأكثروا علي من الصلاة فإن صلاتكم معروضة علي. قالوا يا رسول الله وكيف تعرض صلاتنا عليك وقد أرمت؟ أي يقولون قد بليت قال: إنّ الله عز وجل قد حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء عليهم السلام
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
(নাসায়ি, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ। হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন । আহমাদ হাদীসটি আউস ইবন আবু আউস থেকে সঙ্কলিত করেছেন)। [সুনান নাসায়ি, হাদীস-১৩৭৪; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-১০৪৭; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-১০৮৫; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-১৬১৬২; মুস্তাদরাক হাকিম, হাদীস-১০২৯]
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উপরে বর্ণিত হযরত আওস ইবনে আওস সাকাফীর হাদীসে জুমু'আর দিনে সংঘটিত অসাধারণ ঘটনাসমূহের বিবরণ দিয়ে মূলতঃ জুমু'আর দিনের গুরুত্ব ও ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। হাদীসে এও বর্ণনা করা হয়েছে যে, এদিনে বেশি বেশি দুরূদ পড়া চাই। রমাযানুল মুবারকের বিশেষ আমল যেমন কুরআন তিলাওয়াত এবং তা যেমন রমাযানের সাথে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত, হজ্জের সফরে তালবীয়া যেমন বিশেষ আমল তদ্রুপ হাদীসের আলোকে জুমু'আর দিনের বিশেষ আমল হল দুরূদ পাঠ। তাই এ দিনে বেশি বেশি দুরূদ পাঠ করা উচিত।
ইন্তিকালের পর নবী কারীম ﷺ এর প্রতি দুরূদ পাঠ এবং হায়াতুন্নবী প্রসঙ্গ
এই হাদীসে নবী কারীম ﷺ তাঁর প্রতি অধিক দুরূদ পাঠের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আল্লাহ্ তা'আলা উম্মাতের দুরূদ আমার কাছে পৌছে দেন এবং এ পদ্ধতি আমার ইন্তিকালের পরেও অব্যাহত থাকবে। অন্য হাদীসে এও বর্ণিত আছে যে, "নবী কারীম ﷺ এর কাছে ফিরিশতা দুরূদ পৌছিয়ে দেন।” একথা শুনবার অব্যবহিত পরেই সাহাবা কিরামের মনে এই প্রশ্ন উঠল যে, আপনার জীবদ্দশায় ফিরিশতার মাধ্যমে আমাদের দুরূদ পেশ করা হবে একথা আমাদের বোধগম্য হল, কিন্তু আপনার ইন্তিকালের পর যখন আপনাকে দাফন করা হবে এবং সাধারণ নিয়ম অনুসারে আপনার শরীর মাটিতে একাকার হয়ে যাবে, তখন আমাদের দুরূদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে? নবী কারীম ﷺ বললেন: আল্লাহর নির্দেশে নবী-রাসূলদের শরীর কবরে পূর্ববৎ অবস্থায় অটুট থাকে। মাটির স্বাভাবিক প্রভাব নবীদের দেহে কার্যকর হয় না। যেভাবে পৃথিবীতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায়ও ঔষধের সাহায্যে মৃত্যুর পর মরদেহ অটুট রাখা হয়, ঠিক একইভাবে আল্লাহ্ তাঁর বিশেষ কুদরত ও নির্দেশে নবী-রাসূলদের তিরোধানের পর তাঁদের শরীর অটুট ও অক্ষুন্ন রাখেন এবং সেখানে তাঁদের এক বিশেষ ধরনের জীবন দান করেন (যেরূপ পৃথিবীতে থাকাকালীন সময় ছিল)। তাই ইন্তিকালের পরেও দুরূদ পৌঁছাবার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
ইন্তিকালের পর নবী কারীম ﷺ এর প্রতি দুরূদ পাঠ এবং হায়াতুন্নবী প্রসঙ্গ
এই হাদীসে নবী কারীম ﷺ তাঁর প্রতি অধিক দুরূদ পাঠের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আল্লাহ্ তা'আলা উম্মাতের দুরূদ আমার কাছে পৌছে দেন এবং এ পদ্ধতি আমার ইন্তিকালের পরেও অব্যাহত থাকবে। অন্য হাদীসে এও বর্ণিত আছে যে, "নবী কারীম ﷺ এর কাছে ফিরিশতা দুরূদ পৌছিয়ে দেন।” একথা শুনবার অব্যবহিত পরেই সাহাবা কিরামের মনে এই প্রশ্ন উঠল যে, আপনার জীবদ্দশায় ফিরিশতার মাধ্যমে আমাদের দুরূদ পেশ করা হবে একথা আমাদের বোধগম্য হল, কিন্তু আপনার ইন্তিকালের পর যখন আপনাকে দাফন করা হবে এবং সাধারণ নিয়ম অনুসারে আপনার শরীর মাটিতে একাকার হয়ে যাবে, তখন আমাদের দুরূদ আপনার কাছে কিভাবে পেশ করা হবে? নবী কারীম ﷺ বললেন: আল্লাহর নির্দেশে নবী-রাসূলদের শরীর কবরে পূর্ববৎ অবস্থায় অটুট থাকে। মাটির স্বাভাবিক প্রভাব নবীদের দেহে কার্যকর হয় না। যেভাবে পৃথিবীতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায়ও ঔষধের সাহায্যে মৃত্যুর পর মরদেহ অটুট রাখা হয়, ঠিক একইভাবে আল্লাহ্ তাঁর বিশেষ কুদরত ও নির্দেশে নবী-রাসূলদের তিরোধানের পর তাঁদের শরীর অটুট ও অক্ষুন্ন রাখেন এবং সেখানে তাঁদের এক বিশেষ ধরনের জীবন দান করেন (যেরূপ পৃথিবীতে থাকাকালীন সময় ছিল)। তাই ইন্তিকালের পরেও দুরূদ পৌঁছাবার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)