ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার
৩. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৭৭৪
নামাযের অধ্যায়
মসজিদের ফযীলত
(৭৭৪) আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর নিকট সকল স্থানের মধ্যে মসজিদগুলো সবচেয়ে প্রিয় এবং আল্লাহর নিকট সকল স্থানের মধ্যে বাজারগুলো সবচেয়ে ঘৃণিত
كتاب الصلاة
عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعا:أحب البلاد إلى الله مساجدها وأبغض البلاد إلى الله أسواقها
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
[সহীহ মুসলিম, হাদীস-৬৭১; সহীহ ইবন খুযাইমা, হাদীস-১২৯৩]
হাদীসের ব্যাখ্যা:
মানব জীবনের দু'টি ধারা রয়েছে। একটি হলো আধ্যাত্মিক এবং অপরটি বৈষয়িক ও পাশবিক। আধ্যাত্মিক অনিবার্য দাবি হলো, আল্লাহর ইবাদাত, যিকর-আযকার ও অপরাপর সৎকাজে মশগুল থাকা। এভাবে এ ধারার উৎকর্ষ সাধিত হয় এবং এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ্ বিশেষ রহমত লাভ করে এবং তাঁর প্রিয় বান্দা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। উল্লেখ্য এ সকল কাজ আঞ্জাম দেওয়ার শ্রেষ্ঠতম স্থান হলো মসজিদ। কেননা ইবাদত ও যিকর-আযকারের জন্যই মূলত মসজিদ নির্মিত হয়ে থাকে। এদিক থেকে বায়তুল্লাহর সাথে রয়েছে এর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। এজন্যই মানুষের আবাস গৃহের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় স্থান হলো মসজিদ। পক্ষান্তরে হাট-বাজার মানুষের বৈষয়িক ও পাশবিক প্রবৃত্তির দাবি পূরণের কেন্দ্ররূপে বিবেচিত। আর মানুষ সেখানে প্রবেশ করে আল্লাহ্ সম্পর্কে বে-খবর হয়ে পড়ে। এর ফলে তার অন্তরে পাপাচারের ময়লার স্তূপ জমে যায়। এজন্যেই বাজার আল্লাহর দৃষ্টিতে মানুষের আবাসগৃহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট স্থান বলে বিবেচিত।
তবে হাদীসের মূল দাবি হচ্ছে এই যে, মু'মিন লোকদের উচিত বেশির ভাগ সময় মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা এবং তা মিলন কেন্দ্রে পরিণত করা এবং একান্ত বিশেষ প্রয়োজনে বাজারে যাওয়া। তবে বাজারের কলুষিত পরিবেশের সাথে যাতে অন্তর বদ্ধমূল হয়ে না পড়ে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা চাই। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে, মিথ্যার আশ্রয় নেয়া, প্রতারণা করা, খিয়ানত করা ইত্যাদি কাজ থেকে নিজকে হিফাযত রাখা একান্ত কর্তব্য। এ সকল বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রেখেই কেবল হাট-বাজারের সাথে সম্পর্ক রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বলাবাহুল্য এহেন সদাচারী ও সত্যপন্থী ব্যবসায়ীদেরকে রাসূলুল্লাহ ﷺ জান্নাত লাভের সুসংবাদ দিয়েছেন। বাজারকে পায়খানার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কেননা পায়খানা অপসন্দনীয় ও রুচি পরিপন্থী স্থান তবুও যেমন প্রয়োজনে সেখানে যেতে হয়, বাজারের বিষয়টিও তদ্রূপ। বরং মানুষ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কাজ যদি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ﷺ প্রদর্শিত নির্দেশ মুতাবিক সম্পন্ন করে, তবে সেজন্য রয়েছে বিরাট সাওয়াব ও প্রতিদান।
তবে হাদীসের মূল দাবি হচ্ছে এই যে, মু'মিন লোকদের উচিত বেশির ভাগ সময় মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা এবং তা মিলন কেন্দ্রে পরিণত করা এবং একান্ত বিশেষ প্রয়োজনে বাজারে যাওয়া। তবে বাজারের কলুষিত পরিবেশের সাথে যাতে অন্তর বদ্ধমূল হয়ে না পড়ে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা চাই। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে, মিথ্যার আশ্রয় নেয়া, প্রতারণা করা, খিয়ানত করা ইত্যাদি কাজ থেকে নিজকে হিফাযত রাখা একান্ত কর্তব্য। এ সকল বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রেখেই কেবল হাট-বাজারের সাথে সম্পর্ক রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বলাবাহুল্য এহেন সদাচারী ও সত্যপন্থী ব্যবসায়ীদেরকে রাসূলুল্লাহ ﷺ জান্নাত লাভের সুসংবাদ দিয়েছেন। বাজারকে পায়খানার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কেননা পায়খানা অপসন্দনীয় ও রুচি পরিপন্থী স্থান তবুও যেমন প্রয়োজনে সেখানে যেতে হয়, বাজারের বিষয়টিও তদ্রূপ। বরং মানুষ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কাজ যদি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ﷺ প্রদর্শিত নির্দেশ মুতাবিক সম্পন্ন করে, তবে সেজন্য রয়েছে বিরাট সাওয়াব ও প্রতিদান।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)