ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার
৩. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৯৩
নামাযের অধ্যায়
পূর্ণরূপে সালাত পালনের মর্যাদা ও অবহেলার ভয়াবহ পরিণতি
(২৯৩) উবাদাহ ইবনুস সামিত রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পরিপূর্ণরূপে পালনের পুরস্কার ও অবহেলার শাস্তি উল্লেখ করে বলেন, যে ব্যক্তি পালন করবে না আল্লাহর নিকট তার কোনো দায়িত্ব বা যিম্মাদারি নেই। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন এবং ইচ্ছা করলে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
كتاب الصلاة
عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه مرفوعا: ...ومن لم يأت بهن فليس له عند الله عهد إن شاء عذبه وإن شاء أدخله الجنة
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
[মুআত্তা মালিক, হাদীস-৪০০; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-২২৬৯৩; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-১৪২০; সুনান নাসায়ি, হাদীস-৪৬১; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-১৪০১।
এই অর্থ সমর্থন করে অন্য একটি হাদীস:
[গ্রন্থকার টীকায় বলেছেন, মুনযিরি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। এছাড়া আরো সহীহ বলেছেন, ইবনুল আসীর, ইবনুল মুলাক্কিন, আলবানি, শুআইব আরনাউত প্রমুখ মুহাদ্দিস । -সম্পাদক]
এই অর্থ সমর্থন করে অন্য একটি হাদীস:
[গ্রন্থকার টীকায় বলেছেন, মুনযিরি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। এছাড়া আরো সহীহ বলেছেন, ইবনুল আসীর, ইবনুল মুলাক্কিন, আলবানি, শুআইব আরনাউত প্রমুখ মুহাদ্দিস । -সম্পাদক]
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যে মু'মিন ব্যক্তি পূর্ণ গুরুত্ব ও একাগ্রতার সাথে উত্তমরূপে সালাত আদায় করবে সে প্রথমতঃ নিজকে পাপমুক্ত রাখল। এরপরেও যদি সে শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে অথবা নফসের ধোঁকায় পড়ে কখনো শাস্তিযোগ্য পাপ করে, তথাপিও সালাতের বরকতে তাকে তাওবা ও ক্ষমার তাওফীক দেওয়া হবে (বাস্তবে এমন বহু ঘটনা ঘটতে দেয়া যায়)। এতদ্ব্যতীত সালাত তার পাপের কাফ্ফারা ও প্রতিবিধান হয়ে যাবে। এছাড়াও সালাত অপরাপর পাপের ময়লা পরিষ্কার করে বান্দাকে আল্লাহর বিশেষ রহমতের হকদার বানায়। কারণ সালাত এমন ইবাদত যাতে ফিরিশতারা ঈর্ষাবোধ করেন। সুতরাং যে লোক যাবতীয় শর্ত, নিয়ম কানুন পূর্ণ গুরুত্ব ভীতি ও একাগ্রতার সাথে সালাত করবে তার জন্য ক্ষমা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা রয়েছে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মুসলিম হওয়ার দাবিদার অথচ সালাতের ব্যাপারে অসচেতন, তার ব্যাপারে আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন অথবা নিজ করুণায় ক্ষমা দিবেন। তবে সে ব্যক্তি নিঃসন্দেহে ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হবে এবং তার মুক্তি পাবার কোন নিশ্চয়তা নেই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)