ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

২. পাক-পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৪৪
পাক-পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
পানির জন্যই পানি
(১৪৪) আবু সায়ীদ খুদরি রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, পানি তো শুধুমাত্র পানির জন্যই (গোসল শুধুমাত্র বীর্যপাতের জন্যই)।
كتاب الطهارة
عن أبي سعيدٍ الخدري مرفوعا : الماء من الماء

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(হাদীসটি ইমাম মুসলিম সঙ্কলিত করেছেন। বুখারিতেও এর মূল অর্থ সঙ্কলিত হয়েছে) । [সহীহ মুসলিম, হাদীস-৩৪৩; সহীহ বুখারি, হাদীস-১৭৯, ১৮০ ও ২৯৩]
এই হাদীসের অর্থ স্বপ্নস্খলন হতে পারে। এক্ষেত্রে বীর্যপাত নিশ্চিত না হলে গোসল ফরয হয় না। তবে অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও ফকীহ হাদীসটিকে রহিত বা মানসূখ বলে উল্লেখ করেছেন । অর্থাৎ ইসলামের প্রথম দিনগুলোতে বিধান ছিল যে, দাম্পত্য মিলনে বীর্যপাত না হলে গোসল করা ফরয হবে না । পরবর্তী কালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ প্রদান করেন যে, মিলনই গোসল ফরয করবে, যা পরবর্তী অনুচ্ছেদ থেকে জানা যাবে। উবাই ইবন কা'ব রা. বর্ণিত একটি হাদীস থেকে এই পরিবর্তন ও রহিতকরণ প্রক্রিয়া জানা যায় । উবাইয়ের হাদীসটি আহমাদ ও অন্যান্য মুহাদ্দিস সঙ্কলন করেছেন এবং ইমাম তিরমিযি হাদীসটিকে সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, বীর্যপাতবিহীন স্ত্রী সহবাসেও গোসল ফরয হয়। মুসলিম শরীফে হযরত আবু মুসা আশআ’রী রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে আছে যে, বীর্যপাতবিহীন স্ত্রী সহবাসে গোসল ফরয হওয়া বা না হওয়ার বিষয়ে মুহাজির এবং আনসারদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে তিনি হযরত আয়েশা রা.-এর নিকট বিষয়টি জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে তিনি বললেন যে, শুধু সহবাস হলেই গোসল ফরয হবে। (মুসলিম-৬৭৮) এ থেকে বুঝা যায় যে, এ বিষয়টি নিয়ে সাহাবায়ে কিরামের শুরু যুগে মতবিরোধ থাকলেও তাঁদের সর্বশেষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো গোসল করতে হবে। এটাই হানাফী মাযহাবের মত। (শামী: ১/১৬১) সুতরাং হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত যিনি এ বিষয়ে অন্য যে কারো চেয়ে ভালো জানতেন। সুতরাং কোন সাহাবার ভিন্ন মত থাকলেও হযরত আয়েশা রা.-এর মত ও বর্ণনা অগ্রাধিকারের জোর দাবী রাখে।
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)