ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার
১- সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ
হাদীস নং: ৮
- সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ
খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নত
(৮) ইবন জুমহান নামক তাবিয়ি সাহাবি সাফীনাহ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মাতের মধ্যে খিলাফত ৩০ বছর স্থায়ী হবে। এরপর রাজত্ব। ইবন জুমহান বলেন, এরপর সাফীনাহ রা. আমাকে বলেন, তুমি আবু বাকর রা.র খিলাফত, উমার রা.র খিলাফত, উসমান রা.র খিলাফত ধরো (হিসাব করো); এরপর বলেন, তুমি আলী রা.র খিলাফত ধরো (হিসাব করো)। ইবন জুমহান বলেন, আমরা হিসাব করে দেখলাম, তাদের খিলাফত কাল ৩০ বছর। (তিরমিযি । তিনি হাদীটিকে হাসান বলেছেন। ইমাম আহমাদ হাদীসটিকে সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন)।
كتاب الجامع
عن ابن جمهان عن سفينة رضي الله عنه مرفوعا: الخلافة في أمتي ثلاثون سنة ثم ملك بعد ذلك. قال ابن جمهان: ثم قال لي سفينة أمسك خلافة أبي بكر ثم قال وخلافة عمر وخلافة عثمان ثم قال لي أمسك خلافة
علي قال ابن جمهان: فوجدناها ثلاثين سنة
علي قال ابن جمهان: فوجدناها ثلاثين سنة
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
[সুনান তিরমিযি, হাদীস নং-২২২৬; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-২১৯২৮]
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহর পক্ষ হতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট একথা প্রতিভাত করা হয়েছিল যে, তাঁর উম্মতের মধ্যে তাঁর পর নবুওয়তী রাজপথ ধরে অর্থাৎ যথাসম্ভব তাঁর রীতি-নীতির সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা পদ্ধতি কেবল ৩০ বছর পর্যন্ত চলবে। এরপর বাদশাহী ও রাষ্ট্রীয় যুগ আসবে। সুতরাং তাই হয়েছিল। হজুর ﷺ-এর ওফাতের ঠিক ত্রিশতম সালে হযরত আলী মুর্তাজা (রা) শহীদ হন। তাঁর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র হযরত হাসান (রা) তাঁর স্থলাভিষিক্ত ও খলীফা হন। তবে তিনি কয়েক মাস পর মুসলমানদের গৃহযুদ্ধ বন্ধ করার জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এক ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী হববত মু'আবীয়া (রা)-এর সাথে সন্ধি করে তাঁর পক্ষে খিলাফত থেকে পৃথক হয়ে যান। হযরত হাসান (রা)-এর খিলাফতের এই কয় মাস যোগ করলে পূর্ণ ৩০ বছর হয়ে যায়। খিলাফত আলা মিনহাজিন নবুওয়্যাত ও খিলাফতে রাশেদা, যাকে এ হাদীসে খিলাফাতুন্নবুয়াত বলা হয়েছে, কেবল ঐ ৩০ বছর পর্যন্ত ছিল। এরপর রীতি-নীতিতে পরিবর্তনের যুগ শুরু হয় এবং নিখাদ ‘খিলাফত আলা মিনহাজিন্নবুওয়ত’-এর স্থলে বাদশাহীর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অন্যান্য ভবিষ্যদ্বাণীর ন্যায় আলোচ্য হাদীসও তাঁর মু'জিযা ও নবুওয়তের দলীল। তাঁর ওফাতের পর যা কিছু ঘটার ছিল, যা জানার কোন বাহ্যিক মাধ্যম ছিল না, তিনি তা বলে দেন। আর তা-ই বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছিল। একথা সুস্পষ্ট যে, তাঁর এই জ্ঞাত হওয়া আল্লাহ তা'আলার ওহীর মাধ্যমেই হয়েছিল।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অন্যান্য ভবিষ্যদ্বাণীর ন্যায় আলোচ্য হাদীসও তাঁর মু'জিযা ও নবুওয়তের দলীল। তাঁর ওফাতের পর যা কিছু ঘটার ছিল, যা জানার কোন বাহ্যিক মাধ্যম ছিল না, তিনি তা বলে দেন। আর তা-ই বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছিল। একথা সুস্পষ্ট যে, তাঁর এই জ্ঞাত হওয়া আল্লাহ তা'আলার ওহীর মাধ্যমেই হয়েছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)