ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার
১- সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ
হাদীস নং: ৪
- সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ
ঈমান, ইসলাম ও ইখলাস
(৪) আব্দুল্লাহ ইবন আমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ বিশ্বাস স্থাপন করবে না (বিশ্বাসী বা ঈমানদার বলে গণ্য হবে না) যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি বা পছন্দ ও অপছন্দ আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুগত ও অনুগামী হবে। (হাদীসটি আবু বাকর ইবন আসিম আল ইসপাহানি তার 'আস সুন্নাহ' গ্রন্থে সঙ্কলন করেছেন। ইমাম নববি এই হাদীসটিকে সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন)।**
كتاب الجامع
عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواه تبعا لما جئت به.
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
[ইসপাহানি, আল হুজ্জাহ, হাদীস-১০৩; ইবন আবু আসিম, আস সুন্নাহ, হাদীস-১৫; নববি, আল আরবাউন, হাদীস-৪১]
** গ্রন্থকার এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ইমাম নববির মত উল্লেখ করেছেন। হাদীসটির একমাত্র বর্ণনাকারী নুআইম ইবন হাম্মাদ। তিনি ছাড়া আর কেউ হাদীসটি বর্ণনা করেন নি। নুআইম ইবন হাম্মাদ অত্যন্ত কঠোর ও উগ্র 'সুন্নাত-পন্থী বা সুন্নি' ছিলেন। তিনি কঠোরভাবে মু'তাযিলা, কাদারিয়া, মুরজিয়া আহলু রাই ও হানাফি মাযহাবের বিরোধিতা করতেন এবং সরাসরি হাদীসের প্রকাশ্য অর্থের অনুসরণের প্রবক্তা ছিলেন। এজন্য সাধারণ মুহাদ্দিসগণ তাকে শ্রদ্ধা করতেন। ইমাম বুখারি তার হাদীস গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তার বর্ণিত হাদীসসমূহ তুলনামূলক নিরীক্ষা করলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তিনি হাদীস বর্ণনায় খুবই ভুল করতেন । আলী ইবনুল মাদীনি, ইয়াহইয়া ইবন মাঈন, নাসায়ি প্রমুখ মুহাদ্দিস নুআইম ইবন হাম্মাদকে দুর্বল ও অনির্ভরযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। অনেকেই তাকে ইচ্ছাপূর্বক বানোয়াট হাদীস বলার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। ইমাম আবু হানীফা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে বানোয়াট ও কল্পিত কথা ছড়াতেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও সনদে আরো দুর্বলতা আছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লামা ইবন রাজাব, আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানি প্রমুখ মুহাদ্দিস এই হাদীসটিকে সহীহ হিসাবে গণ্য করা কঠিন বলে মনে করেছেন। দেখুন: ইবন রাজাব, জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম, পৃ: ৩৮৭-৩৮৮, নাসিরুদ্দীন আলবানি, আস-সুন্নাহ লি-ইবনি আবী আসিম, পৃ: ১২। (অনুবাদক)
** গ্রন্থকার এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ইমাম নববির মত উল্লেখ করেছেন। হাদীসটির একমাত্র বর্ণনাকারী নুআইম ইবন হাম্মাদ। তিনি ছাড়া আর কেউ হাদীসটি বর্ণনা করেন নি। নুআইম ইবন হাম্মাদ অত্যন্ত কঠোর ও উগ্র 'সুন্নাত-পন্থী বা সুন্নি' ছিলেন। তিনি কঠোরভাবে মু'তাযিলা, কাদারিয়া, মুরজিয়া আহলু রাই ও হানাফি মাযহাবের বিরোধিতা করতেন এবং সরাসরি হাদীসের প্রকাশ্য অর্থের অনুসরণের প্রবক্তা ছিলেন। এজন্য সাধারণ মুহাদ্দিসগণ তাকে শ্রদ্ধা করতেন। ইমাম বুখারি তার হাদীস গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তার বর্ণিত হাদীসসমূহ তুলনামূলক নিরীক্ষা করলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তিনি হাদীস বর্ণনায় খুবই ভুল করতেন । আলী ইবনুল মাদীনি, ইয়াহইয়া ইবন মাঈন, নাসায়ি প্রমুখ মুহাদ্দিস নুআইম ইবন হাম্মাদকে দুর্বল ও অনির্ভরযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। অনেকেই তাকে ইচ্ছাপূর্বক বানোয়াট হাদীস বলার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। ইমাম আবু হানীফা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে বানোয়াট ও কল্পিত কথা ছড়াতেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও সনদে আরো দুর্বলতা আছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লামা ইবন রাজাব, আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানি প্রমুখ মুহাদ্দিস এই হাদীসটিকে সহীহ হিসাবে গণ্য করা কঠিন বলে মনে করেছেন। দেখুন: ইবন রাজাব, জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম, পৃ: ৩৮৭-৩৮৮, নাসিরুদ্দীন আলবানি, আস-সুন্নাহ লি-ইবনি আবী আসিম, পৃ: ১২। (অনুবাদক)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ব্যক্তি তখনই হাকিকী ঈমান এবং ঈমানী বরকত হাসিল করতে সক্ষম হবে যখন তার নফস এবং নফসের চাহিদা নবী (ﷺ)-এর হেদায়েতের অধীন হবে।
"هوی" -এর আভিধানিক অর্থ নফসের খাহেস এবং "هدی" -এর পারিভাষিক অর্থ আম্বিয়া (আ)-এর নিয়ে আসা হেদায়েত। এ দু'টি জিনিসের উপরই গোটা অমঙ্গল নির্ভরশীল। মানুষের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য সকল প্রকার মন্দ কর্মকান্ড এবং পথভ্রষ্টতা প্রবৃত্তির অনুসরণের ফলশ্রুতি। অনুরূপভাবে প্রত্যেক মঙ্গল কর্ম ও "هدی" বা হেদায়েতের আনুগত্য থেকে সৃষ্ট। "هوی" বা প্রবৃত্তিকে "هدی" বা هديت এর অধীন করার মাধ্যমেই হাকিকী ঈমান অর্জিত হতে পারে। অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার নিকট থেকে আগত হেদায়েত ও তালিমের অনুসরণের মাধ্যমেই সফলতা লাভ করা যেতে পারে। যে ব্যক্তি হেদায়েতের রাস্তা পরিত্যাগ করে "هوی" বা প্রবৃত্তির গোলামী অবলম্বন করে এবং মহান প্রভুর হেদায়েত পরিহার করে নফসের খাহেসের আনুগত্য করে সে বস্তুত ঈমানের আসল লক্ষ্য উদ্দেশ্যকে ধ্বংস করে দেয়। নবী করীম (ﷺ) মুমিন হওয়ার জন্য প্রবৃত্তিকে কুরআনের হেদায়াতের অধীন করতে বলেছেন। প্রবৃত্তির পূজারীদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
اَفَرَءَیۡتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰـهه هوٰىه
"তুমি কি তাকে দেখেছ যে তার প্রবৃত্তিকে ইলাহ বানিয়েছে"? (সূরা জাসিয়া : ২৩)
وَمَنۡ اَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ ہَوٰىه بِغَیۡرِ هدًی مِّنَ اللّٰه ؕ اِنَّ اللّٰه لَا یَهدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ
-তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে আছে, যে আল্লাহর হেদায়েত ত্যাগ করে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে? আল্লাহ্ যালিম কওমকে পথ দেখান না। (সূরা কাসাস : ৫০)
"هوی" -এর আভিধানিক অর্থ নফসের খাহেস এবং "هدی" -এর পারিভাষিক অর্থ আম্বিয়া (আ)-এর নিয়ে আসা হেদায়েত। এ দু'টি জিনিসের উপরই গোটা অমঙ্গল নির্ভরশীল। মানুষের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য সকল প্রকার মন্দ কর্মকান্ড এবং পথভ্রষ্টতা প্রবৃত্তির অনুসরণের ফলশ্রুতি। অনুরূপভাবে প্রত্যেক মঙ্গল কর্ম ও "هدی" বা হেদায়েতের আনুগত্য থেকে সৃষ্ট। "هوی" বা প্রবৃত্তিকে "هدی" বা هديت এর অধীন করার মাধ্যমেই হাকিকী ঈমান অর্জিত হতে পারে। অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার নিকট থেকে আগত হেদায়েত ও তালিমের অনুসরণের মাধ্যমেই সফলতা লাভ করা যেতে পারে। যে ব্যক্তি হেদায়েতের রাস্তা পরিত্যাগ করে "هوی" বা প্রবৃত্তির গোলামী অবলম্বন করে এবং মহান প্রভুর হেদায়েত পরিহার করে নফসের খাহেসের আনুগত্য করে সে বস্তুত ঈমানের আসল লক্ষ্য উদ্দেশ্যকে ধ্বংস করে দেয়। নবী করীম (ﷺ) মুমিন হওয়ার জন্য প্রবৃত্তিকে কুরআনের হেদায়াতের অধীন করতে বলেছেন। প্রবৃত্তির পূজারীদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
اَفَرَءَیۡتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰـهه هوٰىه
"তুমি কি তাকে দেখেছ যে তার প্রবৃত্তিকে ইলাহ বানিয়েছে"? (সূরা জাসিয়া : ২৩)
وَمَنۡ اَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ ہَوٰىه بِغَیۡرِ هدًی مِّنَ اللّٰه ؕ اِنَّ اللّٰه لَا یَهدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ
-তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে আছে, যে আল্লাহর হেদায়েত ত্যাগ করে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে? আল্লাহ্ যালিম কওমকে পথ দেখান না। (সূরা কাসাস : ৫০)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)